আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক: মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করছে, বিনিময়ে মিলবে পশ্চিম সাহারায় মার্কিন স্বীকৃতি

মরক্কোতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ব্যাপক সমর্থন আছে। এটি গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে কাসাব্লাকায় এক বিক্ষোভের দৃশ্য

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মরক্কোতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ব্যাপক সমর্থন আছে - গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে কাসাব্লাকায় বিক্ষোভ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যেসব আরব দেশ এরই মধ্যে এগিয়ে এসেছে, আবার তাদের সাথে যোগ দিয়েছে মরক্কো।

মরক্কো জানিয়েছে যে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপন করছে।

চুক্তি অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ পশ্চিম সাহারা অঞ্চলের ওপর মরক্কোর যে দাবি, তাকে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

ওই অঞ্চল নিয়ে মরক্কো এবং আলজেরিয়া সমর্থিত পলিসারিও ফ্রন্টের মধ্যে বিরোধ চলছে। পলিসারিও ফ্রন্ট সেখানে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

গত অগাস্টের পর থেকে মরক্কো হলো চতুর্থ রাষ্ট্র, যারা ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চুক্তিতে এলো।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং সুদান এ ধরণের চুক্তিতে উপনীত হয়েছে।

অন্যদিকে মিসর ও জর্ডানের পর মরক্কো হলো আরব লীগের ষষ্ঠ সদস্য, যারা ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলো।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

মরক্কোর বাদশা ষষ্ঠ মোহাম্মদ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ

চুক্তিতে যা আছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার টুইটারে এ চুক্তির কথা প্রকাশ করেন।

"আরেকটি ঐতিহাসিক ঘটনা। আমাদের দুই মহান বন্ধু ইসরায়েল ও মরক্কো পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে একমত হয়েছে - মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রযাত্রা," জানান প্রেসিডেন্ট।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০০০ সালে তেল আবিব ও রাবাতে বন্ধ করে দেয়া দুই দেশের লিয়াজো অফিসগুলো পুনরায় চালু করা হবে।

কর্মকর্তারা বলছেন যে মরক্কো ইসরায়েলিদের জন্য সরাসরি বিমান চলাচলের অনুমোদন দেবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তিকে ঐতিহাসিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

সৌদি আরব ও ইসরায়েলের তৎপরতা বাড়ছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যেও যোগাযোগ বাড়ছে বলে মনে করা হয়

টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি মরক্কোর বাদশাহকে ধন্যবাদ জানান।

অন্যদিকে, মরক্কোর বাদশাহর প্রাসাদ থেকে দেয়া বিবৃতিতে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয় যে টেলিফোনে মিস্টার ট্রাম্পের সাথে আলোচনার সময় সম্ভাব্য কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাদশাহ সম্মতি দিয়েছেন।

মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন এই তিন আরব দেশ মরক্কো এবং ইসরায়েলের মধ্যকার চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে।

তবে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা চুক্তির সমালোচনা করে বলেছেন যে এই পদক্ষেপ তাদের অধিকার হরণে ইসরায়েলকে আরও উৎসাহিত করবে।