রোহিঙ্গা সংকট: ভারত এবং চীনকে নিয়ে মিয়ানমারের সাথে বৈঠক চায় বাংলাদেশ

- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশ মিয়ানমারের নির্বাচনের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে নতুন করে উদ্যোগ নেবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিবিসিকে বলেছেন, বাংলাদেশ এই উদ্যোগে ভারত এবং চীনসহ কয়েকটি দেশকে সক্রিয়ভাবে জড়িত করতে চাইছে।
একইসাথে তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারি এবং মিয়ানমারের নির্বাচনের কারণে এক বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক চেষ্টাতেও কাঙ্খিত অগ্রগতি হয় নি। বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগেও গতি আনার চেষ্টা করবে।
আগামী ৮ই নভেম্বর মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ চীনকে সাথে নিয়ে মিয়ানমারের সাথে গত বছর দুই দফায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছিল। এই তিন দেশের ত্রিপক্ষীয় একটি কমিটিও করা হয়েছিল।
কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির পাশাপাশি মিয়ানমারের পক্ষ থেকে তাদের নির্বাচনের অজুহাতের কারণে এ বছর ত্রিপক্ষীয় কোন বৈঠক হয়নি বলে ঢাকায় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তারা বলেছেন, এখন মিয়ানমারের নির্বাচনের পর বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক করতে চাইছে। তবে এই উদ্যোগে চীনের পাশাপাশি বাংলাদেশ আরও কয়েকটি দেশকে বিশেষ করে ভারত এবং জাপানকে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

ছবির উৎস, Getty Images
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারত সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করবে বলে বাংলাদেশ সরকার মনে করছে।
"আমরা দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেই। তবে এখন এটা আর দ্বিপাক্ষিক বিষয় নেই। এটা আন্তর্জাতিক বিষয় হয়েছে। এটা জাতিসংঘ বা বৃহৎ পরিসরে এটা গেছে। সেক্ষেত্রে মিয়ানমারের বন্ধু রাষ্ট্র হিসাবে চায়না আমাদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছে। আমরা সেটাকে সাধুবাদ জানিয়েছি।"
তিনি আরও বলেছেন, "ভারতের সাথেও মিয়ানমারের একটা ভাল সম্পর্ক আছে বলে আমরা মনে করি। সেক্ষেত্রে আমরা যখন ভারতের সাথে বৈঠক করি, আমরা এটা প্রতিনিয়তই বলি। এবং আপনারা দেখেছেন যে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষ যে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সফর করে গেলেন। সেখানেও তিনি বলেছেন যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্সেত্রে ভারত ভূমিকা পালন করবে।"
"এখন মিয়ানমারে নির্বাচন পরবর্তী যে নতুন সরকার গঠিত হবে, সে সময়ে আমরা সে রাষ্ট্রগুলো তাগাদা দিব।"

ছবির উৎস, Getty Images
রোহিঙ্গা সমস্যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগের ব্যাপারে জাতিসংঘের একটি আদালতে এখন বিচার কার্যক্রম চলছে।
বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের কারণে মিয়ানমার কিছুটা চাপে পড়েছে। কিন্তু মিয়ানমারে নির্বাচনে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন-সেই সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে নিজে থেকে কোন উদ্যোগ নেবে কিনা-তাাতে বিশ্লেষকদের সন্দেহ রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেছেন, ভারত চীন এবং জাপানকে সাথে নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা গেলে বাংলাদেশ কার্যকর ফল পেতে পারে।
"আমার মনে হয়, চায়না এবং ভারত-এই দুই দেশকে নিয়ে যদি কাজ করা যায় এবং জাপানকে যুক্ত করা যায়, এটা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের চেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে পারে।"
কর্মকর্তারা অবশ্য ভারত এবং জাপানকে নিয়ে মিয়ানমারের সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছেন।
একইসঙ্গে মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগও আবার শুরুর করার চেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলছেন, "দ্বিপাক্ষিকভাবে আগে যে সব আলোচনা হয়েছিল, নির্বাচনের পর মিয়ানমার সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে, তারা সেটা আশা করছেন।
"কভিড পরিস্থিতির কারণেই মূলত এবং তাদের দেশে নির্বাচনের কারণে যে প্রত্যাশা ছিল আমাদের, সেই কাঙ্খিত লক্ষ্য আমরা অর্জন করতে পারিনি। সেখানে মিয়ানমারে যে সরকারই নির্বাচিত হোক, আশা করি, তারা আমাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সত্যিকার অর্থে ব্যবস্থা নেবেন।"
তিনি আরও বলেছেন, "আন্তর্জাতিক আদালত যে অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থাগুলো নিতে বলেছিল মিয়ানমারকে, যেমন তিন মাস পর পর রিপোর্ট পেশ করা এবং রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার জন্য পরিবেশ তৈরি করা। এগুলো তারা করবে বলে বাংলাদেশ আশা করছে।"

ছবির উৎস, Getty Images
লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থীকে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি করা হয়েছিল। এক বছর ধরে সেই কমিটিরও কোন বৈঠক হয়নি।
কর্মকর্তারা বলেছেন, মিয়ানমারের নির্বাচনের পর বাংলাদেশ এই কমিটিরও বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করবে।








