ইউএনও'র ওপর হামলা: দুইজনের সম্পৃক্ততা স্বীকার, আটক তিন যুবলীগ নেতা বহিস্কার

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম এবং তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলায় সরাসরি যুক্ত থাকার কথা দুই জন স্বীকার করেছে বলে দাবি করছে র্যাব।
ওই দুইজনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সন্দেহভাজন আরও দুই জড়িতকে ধরার চেষ্টা চলছে।
রংপুর র্যাবের কার্যালয়ে ছয়জনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে দুইজন তাদের সম্পৃক্ত থাকার কথা জানায়।
তাদের একজনের ভাষ্যমতে নিছক চুরির অভিপ্রায় থেকে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে আরও সময় প্রয়োজন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে র্যাব।
ওই ছয়জনকে ঘোড়াঘাট, চক বামনদিয়া এবং হাকিমপুর হিলি সীমান্ত থেকে আটক করা হয়।
গত বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা চালায় দুষ্কৃতিকারীরা।
ঘটনার পর পর তদন্তে নামে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল। বৃহস্পতিবার দিনাজপুর ডিবি গোয়েন্দা পুলিশ ইউএনও'র বাসভবনের নৈশ প্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
এরপর ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করে এবং গোপন খবরের ভিত্তিতে বাকি পাঁচজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত পর্যবেক্ষণ করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ধারণা করছে, ভবনটির দ্বিতীয় তলায় শোবার ঘরের সঙ্গে সংযুক্ত টয়েলেটের ভেন্টিলেটরের কাঁচ সরিয়ে হামলাকারীরা ভেতরে প্রবেশ করে এবং হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালায়।
ঘটনার তদন্তে এর মধ্যে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে এরইমধ্যে রংপুর বিভাগের ৫৮টি উপজেলায় ইউএনওদের নিরাপত্তায় ১০ জন করে অস্ত্রধারী আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

ছবির উৎস, District Web Portal Bangladesh
এই ঘটনার পেছনে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
এদিকে এই ঘটনার পর বেরিয়ে আসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া তিনজনই যুবলীগের নেতা। তাদের তিনজনকেই এরমধ্যে বহিস্কার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হয়রানি, মাদক সেবনের অভিযোগ আনায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান, দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ।
তিনি বলেন, তাদেরকে আর কখনও আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গসংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হতে দেয়া হবে না।
গতকাল এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামী করে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ভাই।
হামলার পর গতকাল ভোরের দিকে ওয়াহিদা খানম এবং তার বাবা ওমর আলী শেখকে উদ্ধার করে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে মিসেস খানমকে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল ভর্তি করা হয়।
পরে মিসেস খানমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গতকাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
গত রাতে প্রায় দুই ঘণ্টা অস্ত্রপচারের পর মিসেস খানমের জ্ঞান ফিরেছে বলে জানান হাসপাতালটির বিভাগীয় প্রধান জাহেদ হোসেন।
অস্ত্রপচার সফল হলেও মাথায় ৯টি গুরুতর জখম এবং একপাশে খুলি ভেঙ্গে যাওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয় বলে তিনি জানিয়েছেন। তার একপাশ অবশ হয়ে গেছে। অন্তত ৭২ ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন বলে মি. হোসেন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, "তাকে যখন এখানে আনা হয়, কোন জ্ঞান ছিল না। পরে সিটি স্ক্যানে দেখতে পাই যে খুলির হাড় ভেঙ্গে মগজের ভেতরে ঢুকে গেছে। তাকে ভোতা কোন অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। পরে মেডিকেল বোর্ড অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেয়। আজকের সিটি স্ক্যান রিপোর্ট খুব ভালো এসেছে, মানে অপারেশন ভালো হয়েছে। বিকেলে আইসিইউ-তে আমার রোগীর সাথে কথা হয়েছে। উনি তার স্বামীর সাথেও কথা বলেছেন। স্বামীকে চিনতে পেরেছেন। "








