কাবুল থেকে উড়িয়ে এনে শিখ ও হিন্দুদের আশ্রয় দিল ভারত

ছবির উৎস, Indian Embassy Kabul
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
আফগানিস্তান থেকে সে দেশের শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মোট ১১ জন সদস্যকে ভারতে উড়িয়ে নিয়ে এসে আশ্রয় দিয়েছে দিল্লি।
এই পরিবারগুলো সে দেশে ধর্মীয় নির্যাতন বা সন্ত্রাসবাদী হামলার শিকার হয়েছিলেন, এখন তাদের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা দিয়ে ভারতে এনে তাদের নাগরিকত্বর আবেদন বিবেচনা করা হবে ।
গত বছরের ডিসেম্বরে পাস হওয়া বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশ-সহ প্রতিবেশী দেশগুলোর নির্যাতিত সংখ্যালঘু বা অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
আফগানিস্তান থেকে এই শিখ ও হিন্দুদের নিয়ে আসার পদক্ষেপ যে তারই ধারাবাহিকতায় নেওয়া হল ভারত সরকার সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে।
আফগান এয়ারলাইন ক্যাম এয়ারের একটি বিশেষ বিমান কাবুল থেকে রওনা হয়ে রবিবার বিকেলে দিল্লিতে অবতরণ করে – আর তার যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন এমন এগারোজন আফগান নাগরিক, যারা আফগানিস্তান থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে ভারতে বসবাসে আগ্রহী।
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
এরা সবাই শিখ বা হিন্দু সম্প্রদায়ের – আর ভারত সরকার তাদের সবার জন্য লং টার্ম (দীর্ঘমেয়াদি) ভিসার ব্যবস্থা করেছে, বহন করেছে তাদের যাতায়াতের খরচও।
কেন তাদের ভারতে আশ্রয় দিয়ে নিয়ে আসা হল, সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, "সম্প্রতি আফগানিস্তানে হিন্দু ও শিখদের ওপর হামলার ঘটনা খুব বেড়ে গেছে – আর এতে জঙ্গীদের মদত দিচ্ছে তাদের বাইরের দেশের বন্ধুরা।"
"ফলে আমরা আফগানিস্তানের শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকের কাছ থেকেই অনুরোধ পাচ্ছি তারা ভারতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান।"

ছবির উৎস, Getty Images
"তাদের সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই এই কোভিড-১৯ লকডাউনের মধ্যেও কাবুলে আমাদের দূতাবাসের সাহায্যে আমরা তাদের ভারতে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছি।"
আফগান হিন্দু ও শিখদের ভারতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এটা প্রথম ব্যাচ – এরপর ওই দুই সম্প্রদায়ের আরও লোকজনকে নিয়ে আসা হবে বলেও সরকার জানিয়েছে।
দিল্লিতে আসার পর বিবেচনা করা হবে তাদের নাগরিকত্বের আবেদন।
গত ২৫ মার্চ কাবুলের একটি শিখ গুরদোয়ারায় বিধ্বংসী জঙ্গী হামলায় মোট ২৬জন – ২৫জন আফগান শিখ ও একজন ভারতীয় শিখ – নিহত হয়েছিলেন।
প্রথম ব্যাচে যারা ভারতে ফিরে এসেছেন তারা অনেকেই সে দিনের নিহতদের আত্মীয় পরিজন।
এমনই একজন রাজিন্দর সিং দিল্লিতে পা রাখার পর বলছিলেন, "আফগানিস্তানে সবাই কিন্তু খারাপ নন। ভালো লোকেরাও আছেন, কিন্তু তাদের সংখ্যা কম বলেই আমাদের চলে আসতে হল।"
"যে দেশে জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়ে দিলাম, সেখানে যদি আমাদের কাফির বলে ডাকা হয় তাহলে কীভাবে সেটা মেনে নিতে পারি বলুন?"
তার সাত বছরের ছোট ছেলে কাবুল গুরদোয়ারার হামলার দিন সেখানেই ছিল।

ছবির উৎস, Indian Embassy in Kabul
সে-ও বলছিল কম্বলের নিচে কোনওক্রমে লুকিয়ে পড়ায় কীভাব চারজন জঙ্গীর নজর এড়িয়ে সে সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল!
রবিবার আফগান শিখদের যে দলটি ভারতে পা রেখেছে তাদের সঙ্গেই এসেছেন নিদান সিং সচদেবা, যাকে গত মাসে পূর্ব আফগানিস্তানে পাকিস্তান সীমান্তের কাছে পাকটিকা প্রদেশে অপহরণ করা হয়েছিল।
পরে ভারতের হস্তক্ষেপে ও আফগান সরকারের সহায়তায় তিনি মুক্তি পান।
ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মি সচদেবা বলছিলেন, "হিন্দুস্তানকে নিজের বাবা বলব না কি মা, জানি না। এদেশ কোনও কিছুরই অভাব রাখেনি।"
"আমাকে যখন পাকটিকায় গুরদোয়ারা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রচন্ড মারছিল, বারবার বলেছিল মুসলিম হলে মার থেকে রেহাই পাব।"
"আমি তখন বলি, আমি জন্মেছি শিখ হয়ে – কেন মুসলিম হতে যাব? ওয়াহে গুরুজি কি খালসা, ওয়াহে গুরুজি কি ফতেহ!"
গত বছরের ডিসেম্বরে পাস হওয়া ভারতের নাগরিকত্ব আইন দেশের ভেতরে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে পড়লেও সরকার তাকে যে খুব একটা আমল দিচ্ছে না, আফগান শিখ ও হিন্দুদের উড়িয়ে এনে আশ্রয় দেওয়াতেই সেটা প্রমাণিত বলে দিল্লিতে পর্যবেক্ষকরা অনেকে মনে করছেন।








