বাংলাদেশে ফিরছে আসামের জেলে মৃত বকুল মিয়ার দেহ

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, অমিতাভ ভট্টশালী
- Role, বিবিসি বাংলা, কলকাতা
আসামের ধুবড়ি জেলায় কারাগারে প্রায় দুমাস আটক থাকার পরে বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের বকুল মিয়ার আজ শনিবার দেশে ফেরার কথা।
তবে সশরীরে নয়, আজ ফিরছে তার মরদেহ, কারণ পয়লা জুলাই জেলবন্দী অবস্থাতেই হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন বকুল মিয়া।
আরও ২৫ জনের সঙ্গে ধুবড়ি জেলায় বকুল মিয়া ধরা পড়েছিলেন মে মাসের গোড়ার দিকে। তারা আসামের জোড়হাট থেকে একটি ছোট ট্রাক ভাড়া করে পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংরাবান্ধ সীমান্তের দিকে আসছিলেন।
সেই সময়ে ভারতে লকডাউন চলছিল।
লকডাউনের মধ্যে কোথায় যাচ্ছেন এতজন একসঙ্গে, সেই খোঁজ করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে তারা বাংলাদেশের নাগরিক। দেশে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে ভারত সরকার - সেকথা জেনেই তারা সীমান্তের দিকে এগোচ্ছিলেন।
কিন্তু গ্রেপ্তার করা হয় বকুল মিয়া সহ ২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে।
তার জামাই জলিল মিয়া যখন শ্বশুরের মৃতদেহ আনতে সীমান্ত চৌকির দিকেই যাচ্ছিলেন সেই সময়েই তার সঙ্গে ফোনে বিবিসি বাংলার কথা হয়।
জলিল মিয়া বলছিলেন, "আমি মানছি তারা লকডাউন অমান্য করেছিল। কিন্তু তার জন্য রিমান্ডে নিতে হবে, এটাই কি বিধান? তাদের সবার তো বৈধ ভিসা ছিল!"

ওই ঘটনার পরেই ধুবড়ির পুলিশ বিবিসিকে জানিয়েছিল ধৃতদের জেরা করে তারা জানতে পেরেছে যে পর্যটক ভিসা নিয়ে ভারতে এসে তারা রোজগার করছিলেন। সেটা ভিসার নিয়ম ভঙ্গ। সেজন্যই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের।
কিন্তু বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ও বর্ডার ভিক্টিমস লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফোরামের নেতা অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন বলছিলেন, তারা কাজ করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু লকডাউনের মতো অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে পরে জীবনধারনের জন্য বাধ্য হয়েছিলেন রোজগার করতে।
"আমি যদি ধরেও নিই যে তারা পর্যটক ভিসার শর্ত ভেঙ্গে সেখানে কাজ করেছে। তারা বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর জন্য কিন্তু কাজ করে নি। লকডাউনের সময়ে তারা যে পরিবারগুলোতে ছিলেন, সেখানকার মানুষ যেমন কাজ করেছেন, এই বাংলাদেশিরাও সেরকমই কাজে হাত লাগিয়েছেন, উপার্জন করেছেন। লকডাউনের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য তাকে রোজগার করতে হয়েছে," বলছিলেন মি. লিঙ্কন।
তিনি বলেন, "আমি মনে করি ভারত রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের দেশের সুসম্পর্কের কথা মাথায় রেখে ওই ২৫ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো উচিত। দুই দেশের জন্য একটা ভাল উদাহরণ হবে সেটা।"
বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:

এদের দেশে ফেরানোর দাবি যেমন বাংলাদেশে উঠেছে, তেমনই বিষয়টা পৌঁছিয়েছে ভারতের মানবাধিকার কমিশনেও।
মানবাধিকার সংগঠন মাসুম সেই অভিযোগে কী জানিয়েছে, সেটাই বলছিলেন সংগঠনটির প্রধান কিরীটি রায়।
"বকুল মিয়ার মৃত্যুকে হত্যাই বলব আমি। সেখানে পুলিশ প্রশাসন একটা গর্হিত কাজ করেছে। হেপাজতে কারও মৃত্যু হলে বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করাতে হয়। কিন্তু সেটা না করে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত হয়েছে, যিনি প্রশাসনের অঙ্গ।
''বকুল মিয়ার বিষয়টা আমরা মানবাধিকার কমিশনে জানিয়েছি। আমাদের অভিযোগটা গ্রহণ করে আসামের মুখ্য সচিব, ধুবড়ির জেলা শাসক আর পুলিশ সুপারিন্টেডেন্টের রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে," বলছিলেন কিরীটি রায়।
গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী দূতাবাস দেখা করেছে বন্দীদের সঙ্গে।
জেলার লিগ্যাল এইড সেল থেকে এদের হয়ে লড়ার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।
আবার মানবাধিকার সংগঠনগুলোও আলাদা আইনজীবী দিয়েছে।
আগামী সোমবার মামলার শুনানির দিন।
বকুল মিয়ার জামাই জলিল মিয়ার আশা, তার শ্বশুর তো জীবিত অবস্থায় ফিরতে পারলেন না, বাকিরা যেন দ্রুত ফিরে আসেন।








