বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা: এবছর থেকেই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা, সিদ্ধান্ত জানায়নি ১৯৭৩'এর অধ্যাদেশে পরিচালিত চার বিশ্ববিদ্যালয়

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের সবকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা এই শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। তবে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েট এখনো এবিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানায়নি।
মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল্লাহ জানান এই শিক্ষাবর্ষ থেকেই যেন সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা যায় তা নিশ্চিত করতে মার্চ মাসে একটি অ্যাকাডেমিক কমিটি গঠন করা হবে।
বুধবার ১২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে হওয়া এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
তিয়াত্তরের অধ্যাদেশে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা জানান, তারা নিজস্ব অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত জানাবেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটও একই বক্তব্য দিচ্ছে।
বাংলাদেশে চলতি শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একই প্রক্রিয়ায় ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৩শে জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ইউজিসি সিদ্ধান্ত নেয় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
ওই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন।
খুলনার একজন অভিভাবক সোমা সরকার বলছিলেন, বিশেষ করে যারা ঢাকার বাইরে থাকেন, তাদের জন্য বিভিন্ন শহরে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পরীক্ষা দেওয়ানো বেশ ঝামেলার বিষয় হয়।
তিনি বলেন, দশটি ইউনিভার্সিটিতে ফর্ম পূরণের জন্য অতিরিক্ত টাকাও দিতে হয়। আবার নতুন শহরে গিয়ে হোটেলে থাকতে হয়, বাবা-মায়ের মধ্যে কে নিয়ে যাবে সে বিষয়েও ঝামেলা তৈরি হয়।

ছবির উৎস, Getty Images
আরো পড়তে পারেন:
কিন্তু ইউজিসি সিদ্ধান্ত নিলেও এতদিন তাতে সম্মতি দেয়নি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এর মধ্যে মঙ্গলবার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ এক বৈঠক করে, যেখানে দেশের ২৮টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা একমত হয়েছেন এ বছর থেকেই নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হবে।
নতুন পদ্ধতিতে একজন শিক্ষার্থী একবার পরীক্ষা দিলেই চলবে, প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে তাকে তালিকাভুক্ত কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলোর জন্যও এই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে।
তবে কিভাবে এ পরীক্ষা নেয়া হবে, কোন সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা হবে কিংবা অকৃতকার্য হলে কী হবে—এসব নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে।
তারা বলছেন, এটি একদিক থেকে ভাল হবে কারণ একটি সিলেবাসে পরীক্ষা হবে। কিন্তু সমস্যাটি হবে কেউ যদি একবার পরীক্ষা দিয়ে চান্স না পায় তাহলে ভর্তি পরীক্ষাও তার জন্য বোর্ড পরীক্ষার মতোই হয়ে যাবে।

ছবির উৎস, NurPhoto
এদিকে, ইউজিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ভর্তি করতে অনাগ্রহী। তাদের সব কয়টি ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট আজকের বৈঠকে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানায়নি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিরীণ আখতার বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।
তিনি বলেন, "আমাদের ভিসিদের নিজেদের মতামত দেয়ার কোন এখতিয়ার নেই। আমার ৩৩৩ জন অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য আছেন। তাদের সাথে বসে আমি একটা সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করবো।"
সমন্বিত বা কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনাগ্রহী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদিও কারণ হিসেবে নিজেদের স্বাতন্ত্রের কথা বলছে, তবে এর বাইরে ভর্তি পরীক্ষার ফর্ম বিক্রির আয় কমে যাওয়ার আশংকাও একটি বিবেচনার বিষয়।
কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলছেন, সেটা কারণ হলেও একমাত্র কারণ নয়।
তিনি বলেন, "জাহাঙ্গীরনগরের সব পরীক্ষা নিজেদের ক্যাম্পাসেই হয়, অন্য কোথাও সিট পড়ে না। ফলে আমাদের একটা নিয়ন্ত্রণ আছে। ফলে কারচুপি করে কেউ পার পাচ্ছে না। যেই মাঠে ছেড়ে দেয়া হবে তখন আমাদের কোন ধরণের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এটা নিয়ে আমরা চিন্তিত।"
মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আপত্তি স্বত্তেও তারা আশা করছেন এ বছর থেকেই চালু করা যাবে এ প্রক্রিয়া।
তিনি জানান, "তারা আপত্তি করেনি। তারা বলেছে তাদের প্রক্রিয়ায় কোন সমস্যা থাকলে তার সমাধান করবে। সে জন্যই মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এটি শুরু করা হবে।"
নতুন প্রক্রিয়ায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা করে তিনটি পরীক্ষা নেয়া হবে।








