শুরু হচ্ছে আইওয়া ককাস, আমেরিকায় আসছে নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বি হবেন কে?

ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবার লড়াইয়ে থাকবেন যারা।
ছবির ক্যাপশান, ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবার লড়াইয়ে থাকবেন যারা।

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে সোমবার সকালে (যুক্তরাষ্ট্র সময়) আইওয়া ককাস শুরুর মাধ্যমে। ডেমোক্র্যাটিক ভোটাররা হোয়াইট হাউজে যাবার জন্য প্রার্থী বাছাই এর জন্য ভোট দেবেন। ভোট হবে রিপাবলিকান প্রার্থী বাছাইয়েরও। যদিও রিপাবলিকান দল থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পই মনোনয়ন পাবেন বলেই ধারণা।

ওদিকে ডেমোক্রেটিক দলের মনোনয়নের পাবার জন্য ১১জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অবশ্য আইওয়াতে জিতলেই প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনয়ন পাবেন কেউ, এমন গ্যারান্টি নেই।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রার্থীরা আইওয়াতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাইমারি ভোট সব সময় আইওয়া থেকেই শুরু হয়।

জুনের প্রথমার্ধ পর্যন্ত চলবে এই প্রাইমারি। সামনের মঙ্গলবার নিউ হ্যাম্পশায়ারে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় প্রাইমারি।

বার্নি স্যান্ডার্স

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আইওয়া ককাসে এখন পর্যন্ত সবার নজরের কেন্দ্রে আছেন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। প্রত্যাশিত সাফল্য কি পাবেন তিনি?

একজনের দিকে চোখ থাকবে সবার

এখনো পর্যন্ত পাওয়া জরিপে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, আইওয়াতে বার্নি স্যান্ডার্সের জনপ্রিয়তা বহাল থাকবে, এবং রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম সবার চোখ তার দিকেই থাকবে।

তবে, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রয়েছেন জনপ্রিয়তার বিচারে দ্বিতীয় অবস্থানে।

তিনি আরো সেনেটরের একজন যারা প্রেসিডেন্ট হবার লড়াইয়ে নেমেছেন, কিন্তু মি. ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের জন্য তারা ওয়াশিংটনে থেকে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

কিন্তু তার সমর্থকেরা আইওয়াতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, চার বছর আগে হিলারি ক্লিনটনের কাছে হেরে যাবার পর ৭৮ বছর বয়েসী মি. স্যান্ডার্সের এবারের প্রস্তুতি বেশ ভালো।

নির্বাচনের জন্য বড়সড় তহবিল পেয়েছেন তিনি এবং তাঁর প্রচারণার জন্য শতাধিক কর্মীর একটি দল রয়েছে।

প্রচারণা মঞ্চে এলিজাবেথ ওয়ারেন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কুকুরসহ প্রচারণা মঞ্চে এলিজাবেথ ওয়ারেন

কিন্তু তিনি মনোনয়ন পেলে, মধ্যপন্থী ডেমোক্রেটরা কি নিজেকে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট দাবি করা একজন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে নামবেন?

এলিজাবেথ ওয়ারেন, অ্যামি ক্লোবাশার এবং পিট বুডিজেজের মত হেভিওয়েট অপর প্রার্থীরা অবশ্য আশা করে আছেন, মনোনয়নের জন্য মি. স্যান্ডার্স প্রয়োজনীয় সমর্থন পাবেন না।

রিপাবলিকান ককাসও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে, এবং মি. ট্রাম্পের বিপক্ষে মাত্র দুইজন প্রার্থী রয়েছেন।

কিন্তু দলে মি. ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এমনই যে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ভিডিওর ক্যাপশান, ট্রাম্প অভিশংসন: সেনেটে বিচার সম্পর্কে যা জানা দরকার

একটি যোগসূত্রের নাম

২০১৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের কী ভুল হয়েছিল, তার একটি ধারণা সম্ভবত এই আইওয়াতেই পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ নির্বাচনে ২০০র বেশি মার্কিন কাউন্টি অর্থাৎ দেশটির প্রাদেশিক শহর যারা সে সময়কার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছিল, এর মধ্যে ৩১ টি কাউন্টি আইওয়াতেই।

এরা সবাই ২০১২ সালে মি. ওবামাকে সমর্থন দিয়েছিল।

ডেমেক্র্যাটসরা আশা করছে, ঐসব ভাসমান ভোট আবার তারা নিজেদের পক্ষে আনতে পারবে।

নভেম্বরের আগে সেটা কেউই হয়তো জানতে পারবে না, কিন্তু আজকের প্রাইমারিতে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

অ্যামি ক্লোবাশার

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অ্যামি ক্লোবাশারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

মূল প্রশ্ন

আইওয়া কি আসলে গুরুত্বপূর্ণ? উত্তর নির্ভর করে আপনি কিভাবে একে দেখেন তার ওপর।

যেহেতু এখন নির্বাচনের প্রাইমারি শুরু হয়ে যাচ্ছে, বলা যায় ভোটারদের মনোভাব নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে আইওয়া।

যে কারণে এখানে জয় পেলে আশা করা যায় প্রার্থী সামনের দিনে প্রচারণায় চাঙ্গা হয়ে উঠবেন, যেমন ১৯৭৬ সালে জিমি কার্টার এখানে জয়ের পরই তুমুল প্রচারণা শুরু করেন এবং নির্বাচনে জয়ী হন।

আইওয়াতে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা বেশিরভাগ সময় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন এমন একটি কথা প্রচলিত রয়েছে।

যদিও রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে তা সঠিক নয়, যেমন ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত আইওয়াতে জিতেছেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদরে জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন এমনটা হয়নি।

তবে, সামনের কয়েক মাসে আমরা দেখতে পাবো নির্বাচনে কে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মাঠে নামেন।

প্রাইমারি আসলে কী

যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধানে এই 'প্রাইমারি' সম্পর্কে কিছুই বলা নেই- সুতরাং পুরো ব্যাপারটি নির্ধারিত হয় দল এবং রাজ্য আইন অনুযায়ী।

যেভাবে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, ঠিক সেভাবেই, তবে দল নয়, বরং স্টেট সরকার প্রাইমারি নির্বাচনের আয়োজন করে থাকে।

রাজ্য আইনে নির্ধারিত হয় যে, এই প্রাইমারি রুদ্ধদ্বার কক্ষে হবে কিনা অর্থাৎ যারা শুধুমাত্র দলের রেজিস্টার্ড বা তালিকাভুক্ত, তারাই ভোট দিতে পারবেন, নাকি খোলা হবে মানে যেখানে যেকোনো ভোটার ভোট দিতে পারবেন।

একজন প্রার্থী যদি প্রাইমারিতে বিজয়ী হন, তারা তখন স্টেটের সব প্রতিনিধির বা আংশিক প্রতিনিধিকে জয় করবেন, যা নির্ভর করে দলের আইনের ওপর।

এই প্রতিনিধিরা দলের চূড়ান্ত সম্মেলনে তার পক্ষে ভোট দেবেন। এরপরে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

ভিডিওর ক্যাপশান, দাভোসে যেভাবে বিতণ্ডায় জড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও গ্রেটা থুনবার্গ

আরো পড়তে পারে: