করোনাভাইরাস: আশকোনা হজ ক্যাম্পের গেইটে দাঁড়িয়ে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের স্বজন

ছবির উৎস, STR
"আধো আলো-ছায়াতে আমি ওদের দেখেছি, "গলায় কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এমনটা বলছিলেন, আশকোনা হজ ক্যাম্পে স্বজনদের এক নজর দেখতে যাওয়া এক ব্যক্তি।
করোনাভাইরাস উপদ্রুত চীনের উহান শহর থেকে আজ বেলা ১২টার দিকে তিনশো'র বেশী বাংলাদেশিকে একটি বিশেষ বিমানে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়।
বাংলাদেশ বিমানের ওই বিশেষ ফ্লাইটে ফিরেছেন ওই ব্যক্তির স্ত্রী আর তাদের দুই কন্যাও।
পরে অন্যদের সাথে বিআরটিসি'র বাসে করে তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে। সেখানে তাদের ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
স্ত্রী আর মেয়েদের দেখতে আশকোনার হজ ক্যাম্পের গেইটে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি।
তিনি বলেন, "বিআরটিসি'র বাসের জানালার কাঁচ কালো রঙের। তাই আমি ওদের ভাল ভাবে দেখতে পাইনি। আধো আলো-ছায়াতে দেখেছি। তবে ওরা আমাকে দেখেছে। ওরা তিন নম্বর বাসে উঠেছে। ওরা এখন হাজী ক্যাম্পের ভেতরে আছে,"
সম্প্রতি তিনি উহান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে ফিরেছেন। তার স্ত্রীও চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। তবে সেটা শেষ না হওয়ার কারণে দুই সন্তানের সাথে উহানে থেকে যান তার স্ত্রী।
এমন অবস্থাতেই শুরু হয় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব।
স্ত্রী আর কন্যারা দেশে ফিরে আসছে জানতে পেরে তিনি তাদের দেখতে আশকোনায় এক আত্মীয়ের বাসায় আসেন।
সবাই ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর পরিচিত এক ব্যক্তির ফোনের মাধ্যমে স্ত্রীর সাথে কথা হয় তার। ওই ব্যক্তিও উহান থেকে একই সাথে ফিরেছেন।
তবে ক্যাম্পের ভেতরে তার পরিবার কিছুটা সমস্যায় পড়েছে উল্লেখ করেন,
"সেখানে বেড আছে কিন্তু মেঝেতে। উন্মুক্ত জায়গা, সেখানে বাচ্চার দেখাশোনা কিভাবে হবে সেটা একটা সমস্যা। আর আমার বড় মেয়েটাও মানিয়ে নিতে পারছে না। সেখানে এতদিন কিভাবে থাকবে চিন্তা করছি।"
আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
"আমি ঢাকার আশকোনায় আমার এক আত্মীয়ের বাসায় আছি, আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছি তাদেরকে একটু দেখার জন্য, জানি না দেখা পাবো কিনা..." বলতে বলতে গলা ধরে আসছিল তার।
"খুব মিস করছি ওদের," বলেন তিনি।
তবে তিনি চান তাদেরকে যেন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
"আমি যদি আমার বাচ্চাদের দেখতেও না পাই, আমি চাই যে ওরা এই ইনটেনসিভ কেয়ারে থাকুক। এটা ওদের জন্য, দেশ ও দশের জন্য ভাল। কখনো কখনো ইমোশনের চেয়ে একটা নিরাপদ প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ। এদিক থেকে আমি মনে করি যে এটা হওয়া দরকার," তিনি বলেন।"
প্রায় চার বছর উহানে ছিলেন এই ব্যক্তি । তাই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গৃহবন্দী অবস্থা কতটা কঠিন হতে পারে সেটা বুঝতে পেরেই, পরিবারের ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
"ভাইরাস আক্রমণের সময় গৃহবন্দি অবস্থাটা যে কি তা আমি উপলব্ধি করতে পারি। সেখান থেকে যে তারা দেশের মাটিতে ফিরে এসেছে এটা একটা বড় ব্যাপার। আর চোদ্দটা দিনই তো, এই ক'দিন আমরা অবশ্যই অপেক্ষা করতে পারবো," তিনি বলেন।








