ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা: ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জন্য কী থাকছে?

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে হোয়াইট হাউসে মিস্টার ট্রাম্প বলেন, তার প্রস্তাব ফিলিস্তিনিদের জন্য "শেষ সুযোগ হতে পারে।"

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে হোয়াইট হাউসে মিস্টার ট্রাম্প বলেন, তার প্রস্তাব ফিলিস্তিনিদের জন্য "শেষ সুযোগ হতে পারে।"

বহুল প্রতীক্ষিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেখানে জেরুসালেমকে ইসরায়েলের অবিচ্ছেদ্য রাজধানী রাখার অঙ্গীকার আছে।

তিনি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রেরও প্রস্তাব করেছেন এবং পশ্চিম তীরের ইহুদী বসতির উপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে হোয়াইট হাউসে মিস্টার ট্রাম্প বলেন, তার প্রস্তাব ফিলিস্তিনিদের জন্য "শেষ সুযোগ হতে পারে।"

এই প্রস্তাবকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এটি নাকচ করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

"আমি ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুকে বলছি: জেরুসালেম বিক্রির জন্য নয়, আমাদের সব অধিকার বিক্রি হবে না এবং এ নিয়ে দর কষাকষিও হবে না। এবং আপনাদের চুক্তি, ষড়যন্ত্র পাস করা হবে না," পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি একথা বলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের সমাধান করার লক্ষ্যে এই পরিকপনা তৈরি করার দায়িত্বে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

এর আগে মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায় বিক্ষোভ করে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি, সেসময় পশ্চিম তীরে সেনা মোতায়েন জোরদার করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

এই যৌথ ঘোষণা এমন এক সময় আসলো যখন মিস্টার ট্রাম্প এবং মিস্টার নেতানিয়াহু উভয়ই নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন।

মার্কিন সেনেটে অভিশংসনের বিচারের মুখে রয়েছেন মিস্টার ট্রাম্প এবং অন্যদিকে মঙ্গলবার মিস্টার নেতানিয়াহুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি চেয়ে করা প্রস্তাব বাতিল হয়েছে। দুজনই কোন ধরণের অপরাধ করার কথা অস্বীকার করেছেন।

ইসরায়েলে থাকা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যান বলেন, এই ঘোষণার সময়টা কোন রাজনৈতিক ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট করে নির্ধারণ করা হয়নি, এটা বেশ কিছুদিন আগে থেকেই তৈরি করাই ছিল।

এরমধ্যে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয় যে মিস্টার নেতানিয়াহু দখলকৃত পশ্চিম তীরের ৩০% ইসরায়েলের সাথে যুক্ত করার কথা ভাবছেন, এ বিষয়ে রোববার মন্ত্রীসভার ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

পশ্চিম তীরের বসতিতে চার লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বাস করছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি অবৈধ, যদিও ইসরায়েলের এনিয়ে দ্বিমত রয়েছে।

মিস্টার ফ্রিডম্যান বলেন, পশ্চিম তীরের অংশ যুক্ত করা নিয়ে ইসরায়েলকে "মোটেই অপেক্ষা করতে হবে না।"

বিশ্বের সবচেয়ে সহিংস সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য রয়েছে ট্রাম্পের পরিকল্পনায়

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বিশ্বের সবচেয়ে সহিংস সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য রয়েছে ট্রাম্পের পরিকল্পনায়

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় কী আছে?

"আজ ইসরায়েল শান্তির পক্ষে বড় ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে," হোয়াইট হাউসে নিজের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের বলেন মিস্টার ট্রাম্প।

"আমার দূরদৃষ্টি বলছে, এটা উভয় পক্ষের জন্যই একটি জয়ের সুযোগ। এটি একটি বাস্তবসম্মত দ্বি-রাষ্ট্রের সমাধান।"

তার প্রস্তাবগুলো হলো:

•যুক্তরাষ্ট্র সেই সেসব এলাকার উপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেবে যা মিস্টার ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসরায়েলের অংশ। এই পরিকল্পনায় একটি আনুমানিক মানচিত্রের কথা বলা হয়েছে যাতে মিস্টার ট্রাম্পের মতে, ইসরায়েল স্বেচ্ছায় কিছু ভূমি ছেড়ে দিতে চাইছে সীমানা নির্ধারণের সুবিধার জন্য।

•এই মানচিত্রটি "ফিলিস্তিনি ভূমির আয়তন দ্বিগুন করবে এবং পূর্ব জেরুসালেমে ফিলিস্তিনি রাজধানী করার সুযোগ তৈরি করবে," যেখানে যুক্তরাষ্ট্র একটি দূতাবাস গড়বে বলে জানান মিস্টার ট্রাম্প। ফিলিস্তিনের দ্য প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন-পিএলও বলে, মিস্টার ট্রাম্পের পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের তাদের উল্লেখিত "ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের" ১৫% এর উপর নিয়ন্ত্রণ দেবে মাত্র।

•জেরুসালেম "ইসরায়েলের অবিচ্ছেদ্য রাজধানী থাকবে"। পবিত্র এই শহরকে নিজেদের বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি উভয়ই। ফিলিস্তিনিদের দাবি অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েল পূর্ব জেরুসালেমের যে অংশ দখল করে নিয়েছে তা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী।

•ফিলিস্তিনিদের জন্য "নিজেদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জনের সুযোগ" বলেছেন- কিন্তু তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

•"কোন ফিলিস্তিনি বা ইসরায়েলিকেই তাদের বাড়ি থেকে উৎখাত করা হবে না"- এটা থেকে বোঝা যায় যে, ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরে বসতি থাকবে।

•ইসরায়েল জর্ডানের বাদশাহর সাথে কাজ করবে এটা নিশ্চিত করতে যে, জেরুসালেমে ইহুদীদের পবিত্র অঞ্চল টেম্পল মাউন্ট এবং মুসলিমদের আল-হারাম আল শরিফ যাতে সংরক্ষিত থাকে। এই অঞ্চলটি পরিচালনায় গঠিত ট্রাস্টটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে জর্ডান।

•মিস্টার ট্রাম্পের প্রস্তাবিত মানচিত্রে ফিলিস্তিনের জন্য যে ভূমি বরাদ্দ করা হয়েছে তা "চার বছরের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং এতে কোন ধরণের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে না"। এই সময়ের মধ্যে ফিলিস্তিনিরা চুক্তি সম্পর্কে পড়াশোনা করে, ইসরায়েলের সাথে সমঝোতা করবে এবং "রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মানদণ্ড অর্জন করবে।"

"ফিলিস্তিনিরা দরিদ্রতা এবং সহিংসতার মধ্যে রয়েছে, যারা তাদেরকে সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থায় গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে তাদের দ্বারা শোষিত হচ্ছে। আরো ভাল জীবন তাদের প্রাপ্য," মিস্টার ট্রাম্প বলেন।

মঙ্গলবার রামাল্লার রাস্তায় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ছবি নিয়ে বিক্ষোভ করে ফিলিস্তিনিরা।

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, মঙ্গলবার রামাল্লার রাস্তায় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ছবি নিয়ে বিক্ষোভ করে ফিলিস্তিনিরা।

তিনি আরো ইঙ্গিত দেন যে এই পরিকল্পনায় পশ্চিম তীরকে বিভক্ত করা হবে না।

"ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে আমরা একটি সংলগ্ন এলাকা তৈরি করবো, যখন সন্ত্রাসবাদ প্রত্যাখ্যানসহ রাষ্ট্র হওয়ার জন্য মানদণ্ড অর্জনের সব শর্ত পূরণ হবে," তিনি বলেন।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার এই পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে আলোচনা করতে মস্কোতে যাবেন মিস্টার নেতানিয়াহু।

এর কী ধরণের প্রতিক্রিয়া এসেছে?

নিজের বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট আব্বাস বলেন, জেরুসালেমকে রাজধানী না করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে "যেকোনো ফিলিস্তিনি, আরব, মুসলিম কিংবা খ্রিস্টান শিশুর জন্য মেনে নেয়া অসম্ভব।"

"আমরা হাজার বার বলেছি, না, না, না," তিনি বলেন। "আমরা শুরু থেকেই এই চুক্তির বিরোধিতা করেছি এবং আমরা সঠিক ছিলাম।"

ফিলিস্তিনের জঙ্গী গোষ্ঠী হামাস যা গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করে, তারাও এই চুক্তি নাকচ করেছে এবং বলেছে যে, এর লক্ষ্য হচ্ছে "ফিলিস্তিনিদের জাতীয় প্রকল্প নিঃশেষ করে দেয়া।"

জাতিসংঘ বলেছে যে, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের আগে যখন ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও গাজা দখল করে নেয় সে অঞ্চলে সীমান্ত রেখা স্থাপনের মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রের সমাধানে অটল থাকবে তারা।

মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘ এমন একটি শান্তি চুক্তি চায় যা জাতিসংঘের প্রস্তাবনা, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্মতির ভিত্তিতে হবে।

ইসরায়েলের মানবাধিকার গোষ্ঠী বি'সালেম বলে, এই প্রস্তাবটি এক ধরণের জাতি-বিদ্বেষ তৈরি করবে।

এটা বলে যে, ফিলিস্তিনিদের পরিণত করা হবে "ক্ষুদ্র, বেষ্টিত, বিচ্ছিন্ন ছিটমহলে, যাদের নিজেদের জীবনের উপর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।"

পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনি এলাকা এবং ইহুদী বসতির মাঝখানে দেয়াল দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনি এলাকা এবং ইহুদী বসতির মাঝখানে দেয়াল দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের পিস নাউ সংস্থা বলে, এই পরিকল্পনা "বাস্তবতার সাথে সম্পর্কহীন এবং আকর্ষণীয়।"

"বসতিগুলোকে ইসরায়েলের সাথে যুক্ত করার সবুজ সংকেত দেয়ার বিনিময়ে ত্রুটিযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা অবাস্তব এবং এটি স্থিতিশীলতা আনবে না," সংস্থাটি বলে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব ফিলিস্তিনিদের আহ্বান জানিয়েছেন এই পরিকল্পনাটি নিয়ে "আসল এবং ন্যায্যভাবে বিবেচনা করতে এবং এর মাধ্যমে সমঝোতা আলোচনায় ফিরে যাওয়ার পথে প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে কিনা তা বিবেচনা করতে।"

পেছনের ঘটনা কী?

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ করে ফিলিস্তিন। জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করে তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সেখানে স্থানান্তরের ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর এই পদক্ষেপ নেয় দেশটি।

তখন থেকে, যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের জন্য সব ধরণের দ্বিপক্ষীয় সহায়তা বন্ধ করেছে এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক সংস্থা রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্ক এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজি-ইউএনআরডাব্লিউএ'র জন্য সব ধরণের অনুদানও বন্ধ করেছে।

নভেম্বরে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন যে, পশ্চিম তীরে ইহুদী বসতি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী- চার দশকের এমন অবস্থান থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার একটি জরুরী বৈঠক ডেকেছে আরব লীগ।

কোন কোন বিষয় ঝুঁকির মুখে রয়েছে?

Skip YouTube post
Google YouTube কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of YouTube post

মধ্যপ্রাচ্যের অন্য যেকোনো সংঘাতের চেয়ে ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বন্দ্ব সবচেয়ে একগুঁয়ে। যদিও ১৯৯৩ সালে দুই পক্ষ একটি শান্তি চুক্তিতে সই করেছিল, তারপরেও ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে দুই পক্ষ একে অপর থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে।

জেরুসালেম : ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন উভয়েই এই শহরের উপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। ইসরায়েল যারা ১৯৬৭ সালে জর্ডানের কাছ থেকে এর পূর্বাঞ্চল দখল করে নিয়েছিল, তারা পুরো জেরুসালেমকেই নিজেদের রাজধানী দাবি করে। ফিলিস্তিনারও পূর্ব জেরুসালেমকে-যেখানে তাদের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ বাস করে- তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী দাবি করে।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মর্যাদা: ফিলিস্তিনিরা নিজেদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চায়। যার মধ্যে থাকবে পশ্চিম তীর, গাজা এবং পূর্ব জেরুসালেম। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন কিন্তু এটির যে আকার হবে তা নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে ডিমিলিটারাইজড এবং তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা থাকবে কিন্তু তা ইসরায়েলের প্রতি হুমকি হবে না।

স্বীকৃতি: ইসরায়েলের দাবি, যেকোনো ধরণের শান্তি চুক্তিতে ইসরায়েলকে "ইহুদিদের জাতি রাষ্ট্র" হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি থাকতে হবে। তারা মনে করে, এটি না হলে ফিলিস্তিনিরা ইহুদীদের ভূমির উপর তাদের মালিকানার দাবি অব্যাহত রাখবে, যার কারণে সহিংসতা থেকেই যাবে। ফিলিস্তিনিরা বলে যে, ইসরায়েল যা দাবি করে সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়, কিন্তু ইসরায়েলকে ইহুদী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়াটা হবে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব বাসিন্দা, যারা মুসলিম, খ্রিস্টান এবং দ্রুজ তাদের স্বার্থ বিরোধী।

সীমানা: ফিলিস্তিনের সীমানা কোথায় হওয়া উচিত তা নিয়ে দুই পক্ষেরই আলাদা মতবাদ রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৯৪৯ এবং ১৯৬৭ সালের অস্ত্র বিরতি চুক্তি যা ইসরায়েলকে পূর্ব জেরুসালেম, গাজা এবং পশ্চিম তীর থেকে আলাদা করেছিল সে অনুযায়ী সীমানা রেখা হওয়া উচিত। ইসরায়েল বলে, ওই রেখাগুলো সামরিকভাবে অরক্ষনীয়/অযৌক্তিক এবং এগুলো কখনোই স্থায়ী হতে পারে না। তারা বলেনি যে কোথায় সীমান্ত হওয়া উচিত তবে এটা বলেছে যে তাদের নিজেদের পূর্ব সীমানা হওয়া উচিত জর্ডান নদীর তীর ধরে।

বসতি: ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল প্রায় ১৪০টি বসতি গড়ে তুলেছে পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুসালেম। যার মধ্যে ১২১টি আউটপোস্ট বসতি সরকারের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলোতে প্রায় ৬ লাখ ইহুদী বাস করে। বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বসতিকে অবৈধ মনে করে থাকে, যদি ইসরায়েল এর বিরোধিতা করে। ফিলিস্তিনিরা বলে যে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র তৈরির জন্য এসব বসতি সরিয়ে ফেলা উচিত। মিস্টার নেতানিয়াহু এসব বসতি কখনোই সরিয়ে ফেলা নয় বরং এসব এলাকা ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের অন্তর্ভূক্ত করার কথা বলছেন।

শরণার্থী: জাতিসংঘ বলছে, প্রায় ৫৫ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে মধ্যপ্রাচ্যে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে তারা (ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে যে শরণার্থীর সংখ্যা ৬০ লাখ)।এদের মধ্যে ১৯৪৮-৪৯ সালের যুদ্ধের সময়ে ইহুদী বাহিনীর হাতে যারা বিতাড়িত হয়েছিলেন সেসব ফিলিস্তিনিদের বংশোধররাও রয়েছেন। ফিলিস্তিনিরা তাদের পক্ষ থেকে দাবি তোলে যে তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে আসার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল তা অস্বীকার করছে।

আরো খবর: