ট্রাম্প অভিশংসন: আপনার প্রশ্নের উত্তর

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, অ্যান্থনি জারকার
- Role, উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ইমপিচ হওয়া তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হলো এই প্রতিবেদনে।
প্রশ্ন: সেনেটে ইমপিচমেন্ট শুনানি কবে হবে?
উত্তর: এখন পর্যন্ত কিছুই শতভাগ নিশ্চিত হয়নি। তবে শীতকালীন ছুটির পর জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে সেনেট সম্ভবত এই বিচারের ব্যাপারে সাধারণ সম্মতি নেয়া শুরু করবে।
সেনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাটিকদের নেতা চাক শুমার তেমনটাই অনুরোধ করেছেন।
রিপাবলিকান সেনেট নেতা মিচ ম্যাককনেলও হয়তো এই প্রস্তাবে সায় দেবেন।
প্রশ্ন: ২০২০ সালের নির্বাচনে কী প্রভাব পড়বে?
উত্তর: এটি আসলে খুবই কঠিন একটি প্রশ্ন - এবং এর উত্তরও আসলে পরিস্কার না।

ছবির উৎস, Reuters
রিপাবলিকানরা এমনটা ফলাও করে প্রচার করছে যে ইমপিচমেন্ট কীভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণার অর্থায়নের জন্য সুবিধা তৈরি করে দিচ্ছে।
কারণ সমর্থকরা তাদের প্রেসিডেন্টের আশেপাশে আগের চেয়ে জোরেসোরে সমর্থন জানাচ্ছে।
তবে ডেমোক্র্যাটরা বলছে এই ইমপিচমেন্ট ট্রাম্পের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করবে, যার ফলে ভোটাররা তাকে ভোট দিতে গিয়ে সঙ্কোচের মধ্যে পড়বে।
জনসমীক্ষার ফলাফল বলে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের পক্ষে ও বিপক্ষের মতামত ইমপিচমিন্ট সংক্রান্ত গত কয়েকমাসের নাটকে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।
অর্থাৎ বলা যায়, ইমপিচমেন্টের বিতর্ক ওঠার আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে যেরকম হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা ছিল সেরকম, এখনো লড়াই হবে।
প্রশ্ন: ট্রাম্প অভিশংসিত হয়ে পেন্স প্রেসিডেন্ট হলে তিনি কী আইনগতভাবে ট্রাম্পকে ভাইস প্রেসিডেন্ট বানিয়ে নিজে পদত্যাগ করতে পারেন?
উত্তর: মার্কিন সংবিধানে এই প্রক্রিয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়নি, কাজেই এটি খুবই সম্ভব।
তবে প্রথমত, মাইক পেন্স ট্রাম্পকে ভাইস প্রেসিডেন্ট বানাতে চাইলে সেই প্রস্তাব নিম্নকক্ষ হাউজ অব রেপ্রেজেন্টেটিভসের এবং উচ্চকক্ষ সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদিত হতে হবে।

ছবির উৎস, Getty Images
ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা হাউজ অব রেপ্রেজেন্টেটিভস স্বাভাবিকভাবেই ট্রাম্পকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে দিতে চাইবে না।
এমন সম্ভাবনাও আছে যে, ট্রাম্পকে সেনেট তার দায়িত্ব থেকে অপসারণ করার সময়ই এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করবে যার ফলে ভবিষ্যতে তিনি দায়িত্বে আসার সুযোগ হারাবেন।
কিন্তু সেনেট যদি তা না করে, তাহলে মাইক পেন্স সহজেই ট্রাম্পকে ভাইস প্রেসিডেন্ট বানাতে পারবেন।
এবং তখন ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্পকে বাধা দেয়া সম্ভব হবে না।
প্রশ্ন: সেনেট যদি ট্রাম্পকে শেষপর্যন্ত অভিশংসিত নাই করে, তাহলে এই পুরো প্রক্রিয়ার গুরুত্ব কী?
উত্তর: ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সেনেটে ট্রাম্পের অভিশংসিত হওয়ার প্রায় কোনোরকম সম্ভাবনা না থাকলেও তারা এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছে শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টকে তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী করার উদ্দেশ্য থেকে।
ক্ষমতার অপব্যবহার করার দায়ে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা না করলে হয়তো তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনকে ঘিরে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতেন যা ডেমোক্র্যাটদের আরো ক্ষতিগ্রস্ত করতো।

ছবির উৎস, Getty Images
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বিবেচনা করলেও, দলের সমর্থকদের আনুগত্য ধরে রাখতে ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া পরিচালনা করা প্রয়োজন ছিল ডেমোক্র্যাটদের।
প্রশ্ন: নিম্নকক্ষে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হওয়ার পর সাথে সাথেই কী বিচার শুরু হবে, নাকি সেনেটের ভোট দিতে হয়?
উত্তর: আজকের ভোটের ফলে মার্কিন সংবিধান অনুসারে সেনেটে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে, তবে এর মেয়াদ এবং সময় নির্ভর করছে সেনেটের ওপর।
সেনেট কোনো এক সময় এই বিচার সংক্রান্ত সাধারণ নিয়ম এবং অন্যান্য মাপকাঠি ঠিক করবে - তবে কোনো না কোনো ধরণের বিচার পরিচালিত হবেই।
একটি বিষয়ে কিছুটা অস্পষ্ট আইনি বিতর্ক রয়েছে যে নিম্নকক্ষের ভোটের পরই সেনেটের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়, নাকি নিম্নকক্ষের প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিকভাবে ইমপিচমেন্টের কাগজপত্র সেনেটে 'পেশ' করতে হয়।
এটি এই জন্য জরুরি, কারণ এমন একটা ধারণা রয়েছে যে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি যতক্ষণ না পর্যন্ত নিশ্চিত হচ্ছেন যে সেনেট নিরপেক্ষ বিচার আয়োজন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি ইমপিচমেন্টের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারেন।
প্রশ্ন: এই ইমপিচমেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাক্স দেয়া সাধারণ মানুষের কী পরিমাণ খরচ হচ্ছে?
উত্তর: যদি সুনির্দিষ্টভাবে খরচের বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়, তাহলে এটি বলা কঠিন।
এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক রবার্ট মুলারের রাশিয়া সম্পর্কে অনধিকার চর্চার অভিযোগের তদন্তে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার খরচ হয়েছিল।
তবে এই প্রক্রিয়া না চালিয়ে কী কী করা যেতো, সেটি আসলে রাজনৈতিক বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।
নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, ভোটের পদ্ধতির সংস্কার, সর্বনিম্ন মজুরি বাড়ানো, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার আইন পুনর্নবায়নের মত শত শত আইন প্রণয়ন করেছে - কিন্তু এগুলোর মধ্যে খুব কমই রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সেনেটে অনুমোদিত হয়েছে।
প্রশ্ন: ইমপিচ হওয়া প্রেসিডেন্টের বিচার পরিচালনা করেন কে?
উত্তর: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সাংবিধানিকভাবে সেনেটের ইমিপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার প্রিজাইডিং অফিসার থাকেন।
বিচারের গঠনতন্ত্র নির্ধারিত হয় বিচার শুরু হওয়ার আগে সেনেটরদের ভোটে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রধান বিচারপতির দেয়া রায় ১০০ জনের সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিবর্তিত হতে পারে।
অর্থাৎ বলা যায়, রিপাবলিকানরা যদি একমত হন তাহলে যে কোনো সময় বিচারের রায় এবং বিচার প্রক্রিয়া পরিবর্তন করতে পারবে।
প্রশ্ন:সেনেটের কি রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা করে ভোট দেয়া উচিত নাকি স্বাধীন বিচারক হিসেবে ভোট দেয়া উচিত?
উত্তর: প্রত্যেক সেনেটরকে নিজের বিবেকের দ্বারা চালিত হয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তিনি কোন পক্ষে ভোট দেবেন।
এরই মধ্যে কয়েকজন রিপাবলিকান ঘোষণা দিয়েছেন যে তারা প্রেসিডেন্টকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্যই ভোট দেবেন।
আবার অনেক ডেমোক্র্যাট মনে করেন যে এখন পর্যন্ত পাওয়া সব প্রমাণ সাপেক্ষে প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব থেকে অপসারিত হতে পারেন।
শুধুমাত্র তারাই জানেন, তারা রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে এরকম সিদ্ধান্তের কথা বলছেন নাকি তারা নিজেদের বিবেক থেকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।








