রাতে ইন্টারনেট বন্ধ রোহিঙ্গা শিবিরে, দুটো বিদেশি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ

    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন-বিরোধী তৎপরতায় আর্থিক সহায়তা এবং উস্কানি দেয়ার অভিযোগে এবার দু'টি বিদেশী এনজিও আদ্রা এবং আল মারকাজুল ইসলামীর কক্সবাজারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সংস্থা দু'টির ব্যাংক হিসাব বা আর্থিক লেনদেন স্থগিত করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ এবং উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবিরগুলোকে কেন্দ্র করে ঐ এলাকায় থ্রি জি, ফোর জি ইন্টারনেট সেবাও রাতের বেলা বন্ধ রাখা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিবিরগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর দ্বিতীয় দফার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার এমন সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।

প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে তৎপরতায় উস্কানি দেয়া এবং শিবিরের ভিতরে রোহিঙ্গাদের সমাবেশে আর্থিক সহায়তা করা - এই দু'টি অভিযোগ তদন্তে প্রমাণ হওয়ার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় প্রশাসন আদ্রা এবং আল-মারকাজুল ইসলামীর কার্যক্রম বন্ধের সুপারিশ করেছিল।

সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, এ দুটো সংস্থার কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন জায়গায় আছে। শুধু কক্সবাজারে তাদের কার্যক্রম এবং আর্থিক লেনদেন বন্ধ করা হয়েছে।

কয়েকদিন আগে কক্সবাজারে একটি দেশী এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। এর আগে আরও ৬টি এনজিওর কর্মকাণ্ড সরকার বন্ধ করে দেয়।

আরো পড়তে পারেন:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, সরকারের ভেতরে আলোচনার পর তারা কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

"আমরা কিছু কিছু অবস্থান নিয়েছি। কিছু কিছু অ্যাকশন হচ্ছে যাতে আমরা আরও সুন্দর করে এটা ম্যানেজ করতে পারি। সেজন্য আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি।এবং কাজ হচ্ছে।"

টেকনাফ এবং উখিয়ায় ৩০টি রোহিঙ্গা শিবিরকে ঘিরে মোবাইল ফোনের সিম বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিকেল ৫টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ইন্টারনেট থ্রি জি এবং ফোর জি সেবা বন্ধ রাখার জন্য অপারেটরদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অপারেটররা জানিয়েছেন, এসব নির্দেশ বাস্তবায়নের কাজ তারা শুরু করেছেন।

এসব ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে।

তবে স্থানীয় লোকজনের নাম ব্যবহার করে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে মোবাইল ফোনের ৬/৭ লাখ সিম ব্যবহার হচ্ছে বলে স্থানীয় প্রশাসন ধারণা করছে। এগুলো চিহ্নিত করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেছেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।

"২৪ ঘণ্টা আমাদের যৌথ টহল যেটা ছিল, এটা মাঝে একটু কম ছিল, এখন তা আমরা জোরদার করেছি শিবিরের ভিতরে। আমরা ক্যাম্প ইনচার্জ এবং সংশ্লিষ্টদের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক থাকার বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত করেছি," বলেন মি. হোসেন।

"স্থানীয়দের নামে নিবন্ধন করা মোবাইল সিম রোহিঙ্গারা ব্যবহার করছে বলে অপারেটররা যে বলছে, সেগুলো আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছি। এছাড়া ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়ার বিষয়টিও আমরা বের করার চেষ্টা করছি।"

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে কয়েকদিন আগে দ্বিতীয় দফার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। সেসময় রোহিঙ্গারা শিবিরের ভেতরে বড় সমাবেশ করে কিছু দাবি তুলে ধরেছিল।

এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন।

সরকার তখন রোহিঙ্গাদের উস্কানি দেয়ার অভিযোগ তুলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছিল।

কক্সবাজারে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার একজন কর্মকর্তা শিউলী শর্মা বলছিলেন, "শিবিরগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। তবে রোহিঙ্গারা তাদের অধিকার ছাড়া মিয়ানমারে যেতে রাজি না হওয়ায় এনজিওদের দোষ দিয়ে খুব একটা লাভ হবে না।"

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একাধিক নেতা বলেছেন, তাদের মানবিক সাহায্যের ব্যাপারে যেন কোন সমস্যা না হয়, বাংলাদেশ সরকারের সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

আরো পড়তে পারেন: