বরগুনা হত্যাকাণ্ড: জামিনে মুক্তি পেয়েছেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি

ছবির উৎস, রুদ্র রোহান
বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তাঁর স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নি দেড় মাসের ওপর কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ মঙ্গলবার বিকেলের দিকে তিনি বরগুনা কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৬ই জুলাই থেকে তিনি কারাগারে আটক ছিলেন।
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন তার মেয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ায় তিনি খুশি।
উনত্রিশে অগাস্ট আয়শার জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন হাইকোর্ট। যে রায়ে বলা হয়, গণমাধ্যমে কথা বলা বা বক্তব্য না দেয়ার শর্তে বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার অভিযুক্ত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে জামিনে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকোর্ট।
আয়েশার জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পর তার আইনজীবি জেড. আই. খান পান্না বলেছিলেন, "মিন্নির বয়স, সে একজন নারী, তার সংশ্লিষ্টতা কতটুকু আছে এবং যে পদ্ধতিতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে, ও মিন্নিকে আদালতে পেশ করার সময় তার পক্ষে যে কোন আইনজীবি ছিলেন না, এফআইআর এ তার নাম নেই এবং এ মামলার তিনি একমাত্র সাক্ষী- এসব বিবেচনায় নিয়ে তাকে মু্ক্তি দেয়া হয়েছে।"
আদালত তার রায়ে বলে, "তদন্ত প্রক্রিয়া যেহেতু শেষের দিকে এবং এ অবস্থায় তদন্ত প্রভাবিত করার কোন সুযোগ নেই, তাই আমরা তার জামিন মঞ্জুর করলাম।"
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী। তিনিই এই মামলার প্রধান সাক্ষী।
চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যা মামলায় বরগুনার পুলিশ মিন্নিকে গত ১৬ই জুলাই গ্রেফতার দেখায়।
অথচ এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবেই মামলায় নাম ছিল মিন্নির।
এর আগে হত্যা মামলাটির বাদী, নিহত রিফাত শরীফের বাবা, আবদুল হালিম দুলাল শরীফ গত ১৩ই জুলাই এক সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, তার পুত্রবধূ (মিন্নি) এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে তিনি সন্দেহ করেন।
পুলিশ এই রিফাত হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে রোববার। সেই চার্জশিটে মিন্নিকে অভিযুক্ত দেখানো হয়েছে। সেই চার্জশিট গ্রহণ করা না করার প্রশ্নে শুনানি হবে ১৮ই সেপ্টেম্বর।
বিবিসি বাংলায় সম্পর্কিত খবর পড়তে পারেন:

গত ২৬শে জুন সকালে বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে রিফাত শরীফকে তার স্ত্রীর সামনেই কুপিয়ে জখম করে একদল লোক।
পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঐ ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায় কয়েকজন অস্ত্রধারী রিফাতকে ধারাল অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে আহত করছে। আর ঘটনাস্থলে উপস্থিত মিন্নি তাদেরকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছে। মিন্নি ছাড়া ওইসময় আর কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি ভিডিওতে।
ওই হত্যাকাণ্ডের পরদিন টেলিফোনে বিবিসি বাংলাকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন মিন্নি। (সাক্ষাৎকারের ভিডিও দেখুন এখানে)
অভিযুক্ত হামলাকারীদের একজন, যিনি এলাকায় 'নয়ন বন্ড' নামে পরিচিতি ছিল, পুলিশ তাকে আটক করে।
পরে, পুলিশের সাথে কথিত 'বন্দুকযুদ্ধে' তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
ভিডিওতে দেখুন: বরগুনা হত্যাকাণ্ড কি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে?
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post








