করদাতাদের অর্থে কি হজে যাওয়া যায়?

ছবির উৎস, Getty Images
এই বছর বাংলাদেশে ইতিমধ্যে হজ ফ্লাইট শুরু হয়ে গেছে। হজ যাত্রীদের সার্বিক সহায়তার জন্য নানা রকম দল সেখানে যায়। এবারেও তার ব্যতিক্রম নয়।
১৪ই জুলাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে জানানো হয় ২০১৯ সালের সৌদি আরবে হজ ব্যবস্থাপনা কাজে সার্বিক তত্বাবধান ও দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল সৌদি আরবে পাঠানো হবে। এই কমিটিতে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
১০জনই পরিবারের তিনজন করে সদস্য নিয়ে যেতে পারবেন।
এদিকে এর আগে ৪ই জুলাই আরেকটি চিঠি দেয়া হয় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
সেখানে সৌদি আরবে হজ চিকিৎসক দলকে সহায়তা প্রদানের জন্য হজ সহায়ক দলের একটি তালিকা দেয়া হয়।
সেই তালিকায় ১১৮ জনের নাম রয়েছে। যাদের অধিকাংশের চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে কোন অভিজ্ঞতা নেই বলে তাদের পদবী অনুযায়ী জানা যাচ্ছে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ রয়েছেন বিভিন্ন কর্মকর্তার গাড়ী চালক, কেউ আবার কম্পিউটার অপারেটর আবার কেউ রয়েছেন ব্যক্তিগত সহকারী।
এই তালিকা নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
হজ নিয়ে ইসলামে কী বিধান রয়েছে
ইসলাম ধর্মে হজ পালন ফরজ হলেও সেটা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির জন্য।
অর্থাৎ যাদের হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়া-আসা, থাকাসহ আনুষঙ্গিক খরচ ছাড়াও বাড়তি অর্থ থাকে তাদের জন্য হজ করা ফরজ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষক খায়রুল ইসলাম বলছিলেন "একজন ব্যক্তির একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ থাকতে হবে। আর্থিক সচ্ছলতা, হজের সমস্ত খরচ এবং তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের সদস্যদের জন্য সেই কয়দিনের জন্য অর্থ রেখে যেতে হবে"।
মি. ইসলাম বলছিলেন " হজে যাওয়ার আগে অবশ্যই একজনকে সমস্ত ঋণ পরিশোধ করতে হবে"।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য মুফতি ফয়জুল্লাহ বলছিলেন "যে ব্যক্তির কাছে প্রয়োজনীয় অর্থের বেশি সম্পদ থাকে সেখান থেকে মধ্যম মানের যান-বাহন ব্যবহার করে, হজের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদনা এবং পরিবারের জন্য মধ্যম মানের অর্থ রাখতে পারবেন তাদের জন্য হজ ফরজ"।

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি বলছিলেন, একজন ব্যক্তিকে প্রাপ্ত বয়স্ক এবং সামর্থ্যবান হতে হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দুই চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদের। যেটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে।
সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, যারা যাচ্ছেন তারা চাইলে হজ করতে পারেন। তিনি বলেন, যেহেতু যাওয়া আসা এবং থাকার অর্থ এখান থেকে (মন্ত্রণালয়) দেয়া হচ্ছে,হজের টাকাও এখান থেকে দেয়া হবে।
মি. ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যাদের চিকিৎসক দলের সহকারী হিসেবে রাখা হচ্ছে তাদের কি সেই দক্ষতা আছে?এই প্রশ্নে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি।
এদিকে প্রতিবছর হজের সময় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় একটা তালিকা দেখা যায় যারা বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে সৌদি আরবে যান।এখন প্রশ্ন উঠছে করদাতাদের দেয়া রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ দিয়ে কি হজ পালন করা যায়?

ছবির উৎস, Reuters
ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষক খায়রুল ইসলাম বলছিলেন হজ সবার জন্য নয়। ইসলামের বিধান অনুযায়ী "একজন ব্যক্তির যদি উল্লেখিত সামর্থ্য থাকে তাহলে তিনি হজ পালন করতে পারবেন। যাদের তালিকায় নাম রয়েছে বাস্তবে তাদের উপর হজ ফরজ? তার উপর এটা এক ধরণের প্রতারণা। ইসলামে এই ধরণের কোন বিধান নেই" বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মি. ইসলাম বলেন, পুত্র-পিতার, মা বা আত্মীয় পরিজনের অর্থ সাহায্য করতে পারেন । কিন্তু জনগণের অর্থে হজ পালন করাটা ইসলাম ধর্মের বিধানের মধে পড়ে না।
তবে মুফতি ফয়জুল্লাহ বলছিলেন, "যদি কারো ইচ্ছা থাকে হজ করার তাহলে তিনি সরকারি-বেসরকারি অর্থ সাহায্য নিয়ে হজ করতে পারেন। সেটা খুব বেশি অন্যভাবে দেখার সুযোগ নেই"।








