আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ডেঙ্গু জ্বর: মশা নিধনে কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে, কাজ কী তাদের?
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধনে ভূমিকা রাখতে অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।
সিটি কর্পোরেশনের হিসাবে, সারা দেশে এবছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। যাদের মধ্যে দুই জন মারা গেছেন।
ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ১,৮৭৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩০০ জন।
এই প্রেক্ষিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ করা হয়েছে।
কারা এই অ্যাম্বাসেডর?
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ওয়ার্ড ভিত্তিক অর্থাৎ প্রতিটি ওয়ার্ডে আয়তন এবং জনসংখ্যার অনুপাতে চার-পাঁচটি এলাকায় সাত জন করে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদের মধ্যে রয়েছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা নেতা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রতিটি ওয়ার্ডের আয়তন ভেদে যে কমিটি তাদেরকে কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডর উপাধি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অ্যাম্বাসেডরদের সবাই তাদের নিজ এলাকার নাগরিক।
আরো পড়তে পারেন:
অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দেয়ার কারণ কী?
কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডরদের কেন নিয়োগ দেয়া হলো এ বিষয়ে মিস্টার খোকন বলেন, তারা প্রায়ই নাগরিকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে থাকেন যে বিভিন্ন এলাকায় মশার ওষুধ স্প্রে করা হয়নি, মশা নিধন কর্মী যায়নি, বা সাত দিনের ময়লা পরিষ্কার করা হয়নি, সংস্কার কাজে ধীরগতি আছে।
"এসব অভিযোগ যাতে সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা যায় এবং এসব অভিযোগ যাতে না আসে সেই নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই তারা এসব কাজ করবে। অর্থাৎ চেকড এন্ড ভ্যালেন্সড নিশ্চিত করতেই এই অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দেয়া হয়েছে।"
'সিটিজেন এংগেজমেন্ট' বা নাগরিক সংশ্লিষ্টতা বাড়ানোও কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দেয়ার একটি কারণ।
মশা নিধনে কিভাবে ভূমিকা রাখবেন কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডরা?
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেহেতু অ্যাম্বাসেডর তার এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন তাই তাদের কাজ হচ্ছে তার এলাকায় কোথায় কী ধরণের অসুবিধা আছে, কোথায় মশা মারার ওষুধ ছিটাতে হবে বা ওষুধ ঠিকমতো ছিটানো হচ্ছে কি না - তা কাউন্সিলরের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা করা।
"এছাড়া পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তাও তদারকি করবেন তারা।"
মিস্টার খোকন বলেন, মশা নিধনসহ নানা কাজে সিটি কর্পোরেশনের যে সব কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন, তারা সে কাজ করবেন।
কিন্তু অ্যাম্বাসেডরের নিয়োগ হওয়ায় এখন থেকে তারা নাগরিক নজরদারির মধ্যে থাকবেন।
তিনি বলেন, যদি কোন সংশ্লিষ্ট এলাকায় নাগরিক ভোগান্তি বা সমস্যা থাকে তা সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করে তা লাঘব করা হবে অ্যাম্বাসেডরদের কাজ।
তিনি বলেন, "একটা ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে ছবি তুলে পোস্ট দিলে সাথে সাথে আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক সেখানে চলে যাবে। এভাবে আমরা নেটওয়ার্ক তৈরি করেছি।"
যে ৩ উপায়ে কাজ করবেন অ্যাম্বাসেডররা
মেয়র খোকন জানান, মশা নিধনসহ নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ তুলে ধরার বেশ কয়েকটি সুযোগ রয়েছে অ্যাম্বাসেডরদের।
এরমধ্যে একটি হচ্ছে, সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেইজে ছবিসহ অভিযোগ পোস্ট করা।
দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ওই এলাকার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে অবহিত করবেন।
আর তৃতীয়টি হলো, কোন অ্যাম্বাসেডর চাইলে সরাসরি মেয়রের কাছে উপস্থিত হয়ে সমস্যার কথা তুলে ধরতে ও তার সমাধানে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
তিনি বলেন, "মশা নিধন ছাড়াও একটি এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের অন্য কাজেরও তদারকি করবেন অ্যাম্বাসেডররা।"