পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তার ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, অমিতাভ ভট্টশালী
- Role, বিবিসি বাংলা, কলকাতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা চিকিৎসক ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যের পর ধর্মঘটরত ডাক্তারদের ''আন্দোলনের কেন্দ্র'' নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ থেকে মিডিয়ার সামনে ধর্মঘট প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করা হয়।
সংকট মেটানোর লক্ষ্যে আজ সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠক করেন ধর্মঘটী ডাক্তাররা। তাতে ডাক্তারদের প্রায় সব দাবি ও প্রস্তাবই গ্রহণ করেছেন মমতা ব্যানার্জী, এমনটাই বলা হয় বিভিন্ন সূত্রে।
তার পর থেকেই মনে করা হচ্ছিল যে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণাটা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।
জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রায় ঘন্টা দেড়েকের বৈঠকটির একেবারে শেষে মমতা ব্যানার্জী চাইছিলেন, ওখান থেকেই যেন ডাক্তাররা ধর্মঘট প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন।
মিজ ব্যানার্জী তার নিজস্ব স্টাইলে বলেন, "লক্ষী ভাই বোনেরা আমার, তোমরা প্লিজ কাজে ফিরে এসো। "

ছবির উৎস, Getty Images
কিন্তু চিকিৎসকরা খুব বিনীতভাবেই বলেন, যে তাদের আন্দোলনের যে কেন্দ্রস্থল এন আর এস মেডিক্যাল কলেজ, সেখানে ফিরে গিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে নিয়েই কাজে ফেরার ঘোষণা করবেন।
গোটা বৈঠকটাই টিভিতে লাইভ দেখানো হয়।
গত সপ্তাহে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু এবং চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে দুই জুনিয়ার ডাক্তারকে মারধর করা হয়। এর পরই বিক্ষুব্ধ ডাক্তাররা ধর্মঘট শুরু করেন।
ডাক্তারদের মূল দাবিগুলো ছিল হাসপাতালগুলোতে কর্মরত ডাক্তারদের নিরাপত্তা, এবং পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত। মুখ্যমন্ত্রী ধর্মঘটী ডাক্তারদের সব অভাব অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন, এবং সেখানেই হাজির আমলাদের এ ব্যাপারে নির্দেশ দেন।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
এসবের মধ্যে আছে জরুরি বিভাগে রোগীর আত্মীয়দের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, গেট লাগানো, প্যানিক বোতামের ব্যবস্থা করা, অভিযোগ সেল তৈরি করা, বা কোনও চিকিৎসক আক্রান্ত হলে রাজ্যজুড়ে একটি টোল-ফ্রি নম্বরে যাতে জানানো যায় তার বন্দোবস্ত করা।
বৈঠক সূত্রগুলো বলছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এসব দাবিদাওয়ার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু নির্দেশ দেন।
ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের ডাকা এ ধর্মঘট সারা ভারতেই পালিত হয়েছে। শুধু সরকারি হাসপাতাল নয়, অনেক বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তারও যোগ দিয়েছিলেন এই ধর্মঘটে।
শুধু জরুরি বিভাগগুলো চালু ছিল। এ জন্য সোমবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন।








