রোজাকে মাথায় রেখে চাষ হয় ফরিদপুরের যে ফল

ছবির উৎস, রাকিবুল ইসলাম
ফরিদপুরের কিছু এলাকার কৃষকরা একটি নির্দিষ্ট ফল চাষ করছেন শুধু রমজান মাসকে মাথায় রেখে।
ফলটি দেখতে কিছুটা বাঙ্গির মতো হলেও স্বাদ ও গন্ধে আসলে কিছুটা তফাৎ রয়েছে।
রমজানে ইফতারির সময় এটি রস করে খাচ্ছেন অনেকে। ফরিদপুরের কৃষকরা দাবি করছেন, এটি খেলে 'পেট ঠাণ্ডা থাকে'।
এটিকে দেখলে সবজিও মনে হতে পারে।
এটি ফল হিসেবে বেশি জনপ্রিয় হলেও পাকার আগে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়।
শীতের দুই মাস বাদ দিয়ে সারা বছরই ফলটি হয়। তবে গ্রীষ্মে বেশি ভাল হয়।
যেভাবে শুরু হল
একদম শুরুর দিকে এই ফলটি চাষ শুরু করেন এমন একজন কৃষক ফরিদপুরের সদরপুরের আলীম খাঁ।
তিনি বলছেন, বছর ১৫ আগে প্রথম এই ফলটি চাষ করেছিলেন।

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি বলছেন, "লালমি বলতে গেলে সারা বছরই হয়। ক্ষেতে লাগালে ৬০ দিন লাগে ফল তোলার সময় হতে। আমরা যেটা করি রোজার হিসেব করে ঠিক তার দুই মাস আগে এর চারা লাগাই।"
তিনি বলছেন, "শুরুটা ছিল বীজের দোকান থেকে একজন হঠাৎ একটা বীজ দিয়ে বলেছিল এটা লাগিয়ে দেখত। আমরা লাগালাম, তারপর দেখি বেশ চলছে। কিন্তু এখন আমরা নিজেরাই বীজ বানাই। যখন ফসল ওঠে তখন ট্রাকের পর ট্রাক যায় আমাদের এলাকা থেকে।"
কিন্তু সেই বীজ ঠিক কোথা থেকে তিনি পেলেন তা নিশ্চিত নয়।
এটি একটি রসালো ফল তাই এটিকে জুস করা সহজ, বলছিলেন আলীম খাঁ।
তিনি বলছেন, "রোজায় অনেকে এটি পছন্দ করেছিলো দেখে আমরা এরপর রোজার কথা মাথায় রেখেই লাগানো শুরু করলাম।"
ফলনের বেশিরভাগই ঢাকায় যায় বলে জানালেন তিনি।
রমজান মাস শুরু হতে প্রতিবছর যতটুকু সময় পরিবর্তন হয়, তার সাথে হিসেব করেই ফরিদপুরের কৃষকরা এটা লাগান।
এই কৃষক তখন জানতেন না যে তিনি ঠিক কী চাষ করেছন। তবে এখন এর মাধ্যমে নতুন একটি জাত সম্ভবত ওই সময় এই এলাকায় কৃষিতে যুক্ত হয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images
কতটা চাষ হয়?
ফরিদপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলছেন, এখন ফরিদপুরে শুধু সদরপুর উপজেলাতেই ৬০০ হেক্টরের বেশি জমিতে সেখানকার কৃষকরা ফসলটি লাগাচ্ছেন।
তিনি বলছেন, একটা উপজেলার জন্য এটি অনেক বড় যায়গা।
এছাড়া চরভদ্রাসন, নগরকান্দা, ভাঙ্গা এসব এলাকাতেও কিছুটা চাষ হচ্ছে। এর সাথে হাজার দেড়েক কৃষক এখন জড়িত।
তিনি বলছেন, "ফরিদপুরে বাঙ্গি এমনিতেই খুব চাষ হতো। এটি বাঙ্গির থেকে একটু আলাদা বৈশিষ্ট্যের ও স্বাদ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এটা আলাদা করে ফেলছিল। এটাকে আমরা বলছি নির্বাচন প্রক্রিয়া।"
মি. চক্রবর্তী বলছেন, নতুন এই জাতটি এক অর্থে এখানকার কৃষকদেরই উদ্ভাবন।
তিনি বলছেন এটি অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে দেয়ার চিন্তা চলছে।
তিনি বলছেন, "এটিকে নতুন কোনও ভ্যারাইটি হিসেবে নামকরণ করা যায় কিনা তা নিয়ে আমরা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীদের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা এখান থেকে বীজ সংগ্রহ করেছেন।"








