মালিবাগে পুলিশ ভ্যানে বিস্ফোরণ, পুলিশসহ আহত দুই

ছবির উৎস, UNK
ঢাকার মালিবাগে পুলিশের একটি গাড়ির কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুইজন আহত হয়েছে।
মতিঝিল থানার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শিবলি নোমান বিবিসি বাংলাকে জানান, মালিবাগ মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের একটি গাড়ির কাছে রাত ৯টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
''তখন কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক বিভাগের একজন নারী এএসআই পায়ে এবং একজন রিকশাচালক মাথায় আঘাত পান। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।''
''এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এটি কোন বোমা নাকি ককটেল বিস্ফোরণ, সেখানে কি ছুড়ে মারা হয়েছে নাকি আগে থেকে রাখা ছিল, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, সেটা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। বোমা বিশেষজ্ঞরা এখন ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে দেখছেন, পুলিশের তদন্তও চলছে।''
পুলিশ জানিয়েছে, এ সময় পুলিশের ওই গাড়িতে আগুন ধরে যায়। পরে কাছের একটি পেট্রোল পাম্প থেকে অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জাম এনে আগুন নেভানো হয়।
যেখানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তার পাশেই রয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও বিশেষ শাখার কার্যালয় (এসবি) প্রধান কার্যালয়।
আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Google Maps
গত ২৯শে এপ্রিল ঢাকার গুলিস্তানে পুলিশের ওপর একটি ককটেল হামলা করা হয়, যাতে তিন পুলিশ আহত হন।
সেই ঘটনার সঙ্গে এই বিস্ফোরণের মিল দেখতে পাচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
গুলিস্তানে সে বিস্ফোরণের ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট।
ইসলামিক স্টেট গ্রুপের কর্মকাণ্ড নজরদারি করে, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, গুলিস্তানে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। হোলি আর্টিজান হামলার পর দুই বছরের মধ্যে তারা আবার ঢাকায় এই হামলা চালালো বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
পাঁচ বছর পর আইএস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদীর নতুন একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই হামলা হয় বলে সাইট ইন্টেলিজেন্স বলছে।
সে হামলার পর ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেছিলেন, "সোমবার গুলিস্তানে ককটেলটি অনেক শক্তিশালী ছিল। আইএস যে দাবি করেছে, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।"
শ্রীলংকায় হামলার পরে বাংলাদেশের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, শ্রীলংকায় জঙ্গি হামলার পরে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি কিছুটা বেড়েছে, তারা আরো বেশি উত্তেজিত হয়েছে। তবে তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিছু হওয়ার মতো অবস্থায় এটি এখনো যায়নি।








