অ্যাপ ব্যবহারে অনাগ্রহ বাড়ছে মোটরসাইকেল চালকদের

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
- Author, আকবর হোসেন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
মানিকগঞ্জের মোহাম্মদ আলী একসময় ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে চাকরী করতেন। সব মিলিয়ে তাঁর মাসিক বেতন ছিল ৮০০০ টাকা।
নিরাপত্তারক্ষীর চাকরী করা অবস্থাতেই তিনি বুঝতে পারেন, ঢাকায় বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন বেশ লাভজনক।
তখন তিনি কাজের ফাঁকে-ফাঁকে মোটরসাইকেল চালানো শিখে নেন। এরপর নিজের কিছু জমানো টাকা এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে একটি মোটর সাইকেল ক্রয় করেন।
গত এক বছর যাবত এই মোটর সাইকেল চালিয়ে তিনি সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছেন।
মোহাম্মদ আলীর দাবি, শুরুর দিকে তাঁর প্রতিমাসে ২৫ হাজার টাকার মতো আয় হলেও গত কয়েকমাসে অর্ধেকে নেমে এসেছে।
মো: আলী এখন চেষ্টা করেন অ্যাপ এড়িয়ে কিভাবে চুক্তি-ভিত্তিক যাত্রী পরিবহন করা যায়। ঢাকার এয়ারপোর্ট রোডে দাঁড়িয়ে যাত্রী খুঁজতে দেখা গেল মোহাম্মদ আলীকে।
তিনি বলেন, অ্যাপের প্রতি তাঁর অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে দুটো কারণে। প্রথমত, সারাদিনে তিনি যা উপার্জন করেন তার ২০ শতাংশ দিয়ে দিতে হয় রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোকে। যদি তিনি অ্যাপ ব্যবহার না করেন তাহলে সে টাকা তাঁর পকেটেই থাকবে।
দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, ঢাকায় এখন প্রচুর মোটরসাইকেল হওয়ায় আগের চেয়ে অ্যাপ এর মাধ্যমে কল আসে কম। ফলে অগত্যা রাস্তায় যাত্রী খুঁজে নিতে হচ্ছে।
"আজ সকালে আটটার সময় শুরু করছি। এখন বাজে সাড়ে এগারোটা। মাত্র ১২০ টাকার একটা কাস্টমার পাইছি। অ্যাপে কল আসেনা," বলছিলেন মোহাম্মদ আলী।
ঢাকার রাস্তায় মোহাম্মদ আলীর মতো অনেক মোটরসাইকেল চালক আছেন যারা এখন অ্যাপ এড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, "কোম্পানি আমাদের কাছ থেকে যে ২০ পার্সেন্ট কেটে নিচ্ছে এটা একটু বেশি হয়ে যায়। এটা ১০ পার্সেন্ট হলে মোটামুটি চলে। দেখা যায় আমরা যা কামাই বেশিরভাগ ওদের দিতে হয়।"

ছবির উৎস, NURPHOTO
বাড়ছে যাত্রী হয়রানি
অ্যাপ-ভিত্তিক মোটরসাইকেল নিয়ে যাত্রীদের বিড়ম্বনা দিনকে দিন বাড়ছেই। ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করেন আসিয়া আলম দিনা। অফিসে যাতায়াতের জন্য মোটর সাইকেল এখন তাঁর নিত্য সঙ্গী।
কিন্তু অ্যাপের মাধ্যমে মোটর সাইকেল এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানালেন মিজ দিনা।
"সৈনিক ক্লাব থেকে মিরপুর ১০ নম্বর পর্যন্ত ওরা ভাড়া চায় ১০০ টাকা। দেখা যাচ্ছে, যদি ডিসকাউন্ট থাকে তাহলে আপনি ৪০-৫০ টাকায় চলে যেতে পারেন। অ্যাপ ইউজ করলে কেউ অ্যাকসেপ্ট করতে চায়না," বলছিলেন মিজ দিনা।
যাত্রীদের অভিযোগ হচ্ছে, মোটরসাইকেল চালকরা এখন রিকশাচালক কিংবা সিএনজি-চালিত স্কুটার চালকদের মতো আচরণ করছে। রীতিমতো দরদাম করে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে তাদের।
আরেকজন যাত্রী ফারিহা রহমান বলেন, "রাইড শেয়ারিং যে কনসেপ্ট থেকে শুরু হয়েছিল, এখন মনে হয়না সেটা চলছে।"
তিনি বলেন, অ্যাপ-এর মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন হলে সেটি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। কারণ, সেখানে ড্রাইভারের নাম, ছবি এবং মোটরসাইকেল নম্বর থাকে। এ বিষয়টি যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ তৈরি করে।
ফারিহা আলম বলেন, "যদি অ্যাপ-এর মাধ্যমে যান তাহলে ওটা ট্র্যাক করে। পরবর্তীতে কোন অঘটন ঘটলে স্টেপ নিতে পারবেন"।
রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও এর প্রধান নির্বাহী হুসেইন এম ইলিয়াস বিবিসি বাংলাকে বলেন, এ বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন।
যেসব মোটরসাইকেল চালকদের বিভিন্ন সময় বাদ দেয়া হয়েছে তারা এ কাজ বেশি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।








