'চার ট্যাংকারে অন্তর্ঘাতী হামলার পেছনে ইরান', মার্কিন তদন্তকারীদের ধারণা

আক্রান্ত ট্যাংকারগুলোর একটি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আক্রান্ত ট্যাংকারগুলোর একটি

গত দু'দিনের মধ্যে পারস্য উপসাগরের একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকায় - সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট চারটি জাহাজে রহস্যজনক অন্তর্ঘাতী আক্রমণের ঘটনা ওই অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়, মার্কিন তদন্তকারীরা ধারণা করছেন যে এর পেছনে রয়েছে ইরান বা ইরানের সমর্থিত কোন গোষ্ঠী। অবশ্য এ ধারণার পক্ষে কোন তথ্যপ্রমাণ দেয়া হয় নি।

রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালীর ঠিক বাইরে ফুজাইরাহ বন্দরের কাছে এ ঘটনা ঘটে। সৌদি আরব জানায় আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে তাদের দুটি তেল ট্যাংকার রয়েছে এবং সেগুলোর বড় রকমের ক্ষতি হয়েছে।

বাকি দুটি জাহাজের একটি আমিরাতের পতাকাবাহী, এবং অপরটি নরওয়েতে নিবন্ধীকৃত।

সৌদি আরব, আমিরাত বা নরওয়ে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোন দেশকে এ জন্য দায়ী করে নি।

একটি ট্যাংকারের তলায় ছিদ্র হয়েছে

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, একটি ট্যাংকারের তলায় ছিদ্র হয়েছে

আক্রান্ত জাহাজগুলোর দুটির নিচের অংশে ফুটো হয়ে গেছে বলে ছবিতে দেখা যায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার খবর দেয়, কোন অস্ত্রের আঘাতে এই গর্ত হয়েছে। এছাড়া ফুজাইরাহ বন্দরে 'বিস্ফোরণ ও আগুনের' খবরও বেরোয় তবে আমিরাত কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে।

ঘটনার পরই একটি মার্কিন সামরিক তদন্ত দল পাঠানো হয়।

কিন্তু এ আক্রমণ কারা চালালো?

এ ব্যাপারে খুব কম তথ্যই জানা গেছে। হরমুজ প্রণালী হচ্ছে ইরানের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা এবং এখান দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের এক পঞ্চমাংশ সরবরাহ হয়।

ইতিমধ্যেই এর পূর্ণ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইরান। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে একটি তৃতীয় দেশ এ আক্রমণের পেছনে থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, নাম উল্লেখ না করলেও ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের প্রতি ইঙ্গিত করতেই এধরণের ভাষা ব্যবহার হয়।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর:

হরমুজ প্রণালী দিয়ে পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়
ছবির ক্যাপশান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়

এ অঞ্চলে তেলের ট্যাংকারের ওপর আক্রমণ আগেও হয়েছে। ২০০১ সালে ইয়েমেনের আল-কায়দা এমন আক্রমণ চালিয়েছিল। তা ছাড়া সোমালি জলদস্যুরা ওমান উপসাগরে, আর লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও জাহাজে আক্রমণ চালিয়েছিল।

এর ঘটনার একদিন পরই ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি তেল স্থাপনার ওপর কয়েকটি হামলা চালিয়েছে।

বিবিসির বিশ্লেষক ফ্রাংক গার্ডনার বলছেন, আগেকার আক্রমণগুলোর তুলনায় ট্যাংকারগুলোর ক্ষতি হয়েছে খুবই কম। কোন আগুন লাগেনি, তেল চুইয়ে পড়েনি।

"কিন্তু এ জায়গাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির ভেতর দিযে যাচ্ছে, তাই সময়টাই সন্দেহজনক ও বিপদজনক।"

তিনটি দেশের চারটি ট্যাংকার আক্রান্ত হয়েছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, তিনটি দেশের চারটি ট্যাংকার আক্রান্ত হয়েছে

তার মতে, নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত সবশেষ আক্রমণটি কে চালিয়েছে তা বের কর কঠিন হবে।

ইরানের সাম্প্রতিক হুমকি, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন

তবে গত মাসেই ইরান হুমকি দিয়েছিল যে ইরানি তেল আমদানিকারকদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আবার বলবৎ হলে তারা এই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে - অর্থাৎ কোন জাহাজই চলাচল করতে দেবে না।

কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরে বিমানবাহী জাহাজ পাঠিয়েছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরে বিমানবাহী জাহাজ পাঠিয়েছে

কয়েকদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'ইরানী হুমকির ইঙ্গিতের' কারণ দেখিয়ে ওই এলাকায় মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ, উভচর জাহাজ, এবং কাতারে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বি-৫২ বোমারু বিমান পাঠায়।

তবে ইরান সংক্রান্ত বিশেষ মার্কিন প্রতিনিধি ব্রায়ান হুক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে কোন যুদ্ধ বাধাতে চায় না।

তবে তার ভাষায় একের পর এক যেসব হুমকি আসছে, তার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, "আমরা ইরানকে এই বার্তা দিতে চাই যে আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি দিয়ে জবাব দেবে।"

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: