ভারতের মহারাষ্ট্রে মাওবাদী হামলায় ১৫ জন কমান্ডো নিহত

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
ভারতে মহারাষ্ট্রের গাদচিরোলি জেলায় সন্দেহভাজন মাওবাদী বিদ্রোহীদের চালানো হামলায় অন্তত পনেরোজন নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য ও তাদের গাড়ির চালক নিহত হয়েছেন।
নিহতরা সবাই ছিলেন মহারাষ্ট্র পুলিশের একটি কুইক রিঅ্যাকশন টিমের কমান্ডো।
মাওবাদীরা এই হামলা চালালো এমন একটা সময়ে যখন ভারতে লোকসভা নির্বাচন মাঝপথে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, এই হামলার জন্য যারা দায়ী তারা কিছুতেই পার পাবে না।
এই হামলার ধরন থেকে মনে হচ্ছে মাওবাদীরা গাদচিরোলির গহীন জঙ্গলে পুলিশের জন্য একটি ফাঁদ পেতেছিল।
এদিন ভোররাতেই সন্দেহভাজন মাওবাদীরা ওই জেলার কুড়খেডা-তে একটি রাস্তা নির্মাণ কোম্পানির পঁচিশটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ছবির উৎস, Getty Images
সকালে খবর পেয়ে গাদচিরোলি পুলিশের কমান্ডো বাহিনী যখন সেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছে, তখন রাস্তায় আইইডি বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস পেতে রেখে তাদের ওপর বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়।
বিকেল পর্যন্ত সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের তীব্র বন্দুকযুদ্ধ চলছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
মহারাষ্ট্র পুলিশের ডিজি বা মহাপরিচালক সুবোধ জয়সওয়াল বলেন, "মাওবাদীরা এখানে আমাদের অভিযানের কোনও বদলা নিল কি না সেটা বড় কথা নয়।"
"গুরুত্বপূর্ণ হল আমাদের বাহিনীর পনেরোজন সহকর্মী চরম বলিদান দিয়েছেন, যেটা একটা বিরাট ক্ষতি।"
"কিন্তু নকশাল-দমন অভিযানে আমরা বিন্দুমাত্র রাশ শিথিল করব না, এখানে রাষ্ট্র তাদের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে যাবে - আজকেই এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়ে গেছে।"

ছবির উৎস, Getty Images
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিশ নিজেও জানিয়েছেন, গাদচিরোলিতে মাওবাদী হামলার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরালো করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং থেকে শুরু করে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ সকলেই এদিন বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর শহীদদের আত্মদান বৃথা যাবে না।
এই হামলায় তিনি 'গভীরভাবে ব্যথিত', জানিয়ে টুইট করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।
তবে তার দলের মুখপাত্র মনে করিয়ে দিয়েছেন গত পাঁচ বছরে প্রায় চারশো জওয়ান মাওবাদী হামলায় নিহত হয়েছেন, অর্থাৎ মোদী সরকার দেশকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
দিল্লির স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিসেস ফেলো পুষ্পিতা দাস মনে করছেন, "মাওবাদীরা বরাবরই নির্বাচন বা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে - তারা সব সময়ই গ্রামবাসীদের ভোট দেওয়ার বিরুদ্ধে ফরমান জারি করে থাকে।"
"ভারতে লোকসভা নির্বাচনের সময় এই হামলা চালিয়েও তারা সম্ভবত একটা বার্তা দিতে চেয়েছে, এটা তাদের কৌশলেরই অংশ।"

ছবির উৎস, Getty Images
"আর গাদচিরোলিকে বেছে নেওয়ার কারণ, এই জায়গাটা তিন রাজ্যের সীমানায় - যেখানে তিনটি রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ঠিকমতো থাকে না আর মাওবাদীরাও তার সুবিধা নিতে পারে", বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ড: দাস।
তবে এই হামলার পেছনে কোনও গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল না বলেই দাবি করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ।
ডিজিপি সুবোধ জয়সওয়াল বলেছেন, "নির্বাচনের সময় তারা যে হামলা চালানোর চেষ্টা করবে সে খবর বরং আমাদের কাছে ছিলই। তারপরেও ঘটনা ঘটে গেছে।"
গাদচিরোলিতে অবশ্য ভোট হয়ে গেছে লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই - গত মাসের ১১ তারিখে।
তার ঠিক দুদিন আগে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়াতে আর একটি মাওবাদী হামলায় একজন বিজেপি বিধায়ক-সহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছিলেন, এখন ভোটের মাঝপথে তার পাশের রাজ্য মহারাষ্ট্রে তারা আরও বড়সড় আঘাত হানল।








