ভেনেজুয়েলায় কি অভ্যুত্থান হচ্ছে? পরিস্থিতি ঘোলাটে

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি ডাক দিয়েছেন।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোরের দিকে প্রচারিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় মি গুয়াইদো একটি সামরিক ঘাঁটির বাইরে সেনা বাহিনীর পোশাক পরিহিত কয়েকজনকে পাশে নিয়ে ঘোষণা করছেন যে সরকারকে উৎখাতের চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হয়েছে।

তিনি বলছেন, এখন তিনি সেনাবাহিনীর একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন। সেনাবাহিনীর বাকি সবাইকে তিনি তার পক্ষে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন।

তবে নিকোলাস মাদুরোর সরকার বলছে ছোটোখাটো একটি সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মি: গুয়াইদো এখন ঐ সেনা ছাউনি থেকে সরে গেছেন। কিন্তু টিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে তার সমর্থকদের সাথে রাস্তায় সেনা সদস্যদের সংঘর্ষ হচ্ছে। সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া গাড়িকে মানুষের মিছিলে ভেতর চালিয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। সে সময় রাস্তায় বেশ ক'জনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

টুইটারে প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেছেন তিনি সেনা কমান্ডারদের সাথে কথা বলেছেন এবং তারা তাকে সমর্থন দিয়েছেন।

সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি তার সমর্থকদের বিক্ষোভ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বশেষ পরিস্থিতি কী?

মি: গুয়াইদোকে দেখা গেছে তিন মিনিটের একটি ভিডিওতে আরেকজন বিরোধী নেতা লিওপোল্দো লোপেজের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।

২০১৪ সালে সরকার বিরোধী এক বিক্ষোভে ইন্ধন জোগানোর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মি: লোপেজ গৃহবন্দী অবস্থায় ছিলেন।

মি: লোপেজ বলেছেন সেনা বাহিনীর সেইসব সদস্যরা তাকে মুক্তি দিয়েছে যারা মি: গুয়াইদোর প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে এবং এই ভিডিওতে মি: গুয়াইদো ঘোষণা করেছেন কারাকাসের "সাহসী সেনারা" তাকে সমর্থন করছেন।

"ভেনেজুয়েলাবাসী- রাস্তায় নেমে আসুন...দখলের অবসান ঘটানোকে সমর্থন করুন- দখলদারিত্বে আমরা ফিরতে চাই না। জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভেনেজুয়েলার জনগণের সমর্থন তাদের পেছনে রয়েছে। আমাদের সংবিধান তাদের পক্ষে, ইতিহাস তাদের মনে রাখবে," বলেন মি: গুয়াইদো।

বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা জনাতান মার্কাস বলছেন ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এখন অস্পষ্ট এবং অনিশ্চিত। তবে ম: গুয়াইদো ক্ষমতা হাতে নেবার সর্বসাম্প্রতিক এই উদ্যোগ নিয়ে তিনি যে কার্যত বিরাট একটা জুয়া খেলছেন সেটা স্পষ্ট।

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতায় টিকে থাকার পেছনে মূল শক্তি ছিল তার প্রতি দেশটির সেনাবাহিনীর আনুগত্য।

মি: মার্কাস বলছেন তাদের এই আনুগত্যে মৌলিক একটা পরিবর্তন ঘটে থাকলে অথবা সেনাবাহিনীর মধ্যে অন্তত বড়ধরনের একটা বিভক্তি ছাড়া বাইরে থেকে কোন ধরনের কূটনৈতিক চাপ মি: মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে বলে মনে হয় না।