ফেনীতে মাদ্রাসা ছাত্রীর গায়ে আগুন: অবস্থা আশঙ্কাজনক, শরীরের ৮০ ভাগই পুড়ে গেছে - বলছেন ডাক্তার

নারী নির্যাতন, প্রতীকি ছবি
ছবির ক্যাপশান, ফেনীতে অগ্নিকাণ্ডের শিকার মাদ্রাসা ছাত্রীর শরীরের ৮০ ভাগই পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। (প্রতীকী ছবি)

বাংলাদেশে ফেনীর সেনাগাজীতে গতকাল (শনিবার) একটি মাদ্রাসার পরীক্ষাকেন্দ্রে যেই শিক্ষার্থীর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক।

ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বিবিসিকে জানান, "তার শরীরে ৮০ শতাংশের মত বার্ন। তাকে আইসিইউ'তে রাখা হয়েছে, একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে।"

মি. সেন বলেন, "আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি কিন্তু তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।"

উন্নতমানের চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হবে কিনা - সে প্রশ্নের জবাবে মি. সেন জানান, এখনো সেবিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

"যদি সরকারি সিদ্ধান্ত হয় তাহলে তাকে বিদেশে নেয়া হতে পারে।"

ফেনী সদর হাসপাতাল

ছবির উৎস, Shajal

ছবির ক্যাপশান, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে দগ্ধ অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

যেভাবে গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনাটি ঘটে

শনিবার সকালে ফেনীর একটি কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থী ঐ ছাত্রী আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সকালে পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে প্রবেশের আগে কয়েকজন 'মুখোশ পরা' মেয়ে ভবনের ছাদে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা জানায় যে তার এক বান্ধবীকে ছাদে পেটানো হচ্ছে।

মেয়েটির ভাই মাহমুদুল হাসান গতকাল বিবিসিকে বলেছিলেন, কয়েকদিন আগে তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করেছিল।

"সেই ঘটনার জেরে ওই অধ্যক্ষের পক্ষের শিক্ষার্থীরা আমার বোনকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে।"

চিকিৎসকের সামনে পুলিশের জবানবন্দিতে আহত শিক্ষার্থীও জানিয়েছেন যে, পরীক্ষার কেন্দ্রের বাইরে তাকে কয়েকটি মুখোশ পরা মেয়ে ডেকে নিয়ে যায় এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলাটি তুলে নিতে বলে। তাতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিবারের অভিযোগ, ওই মেয়েরাই মিথ্যা বলে, পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

গত ২৭শে মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তার বোনকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে এমন অভিযোগে পুলিশের কাছে মামলা করে মেয়েটির পরিবার।

পরে পুলিশ ওই মামলার জেরে ঐ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায়।

এই ঘটনার পর পর মাদ্রাসায় ওই শিক্ষকের পক্ষে বিপক্ষে শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে আন্দোলন করতে শুরু করে।

আরো পড়তে পারেন: