ফেসবুকে টেন ইয়ার্স চ্যালেঞ্জ -এর মত অ্যাপে অংশ নিয়ে নিজেকে বিপদে ফেলছেন না-তো?

ফেসবুক

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ফেসবুকে যেসব তৃতীয়পক্ষের অ্যাপে ঢুকে আমরা নানা মজার খেলা বা কুইজে অংশ নিচ্ছি, তাতে আমরা নিজেদের সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য তাদের দিয়ে দিচ্ছি।

দশ বছর আগে আপনি দেখতে কেমন ছিলেন? পুরনো অ্যালবাম ঘেঁটে সেটি জানতে হয়ত বেশ সময় লাগবে।

কিন্তু হঠাৎ ফেসবুকে পেয়ে গেলেন মজার এক অ্যাপ 'টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ'।

সেটি দিয়ে খুব সহজেই এখনকার সাথে সেই সময়কার নিজের চেহারার তুলনা করে নিলেন।

বছরের শুরুতেই মাত্র একটা ক্লিক আর অল্প কিছু তথ্য দিয়ে ফেসবুক ঘাটতে গিয়ে জেনে গেলেন এ বছরের রাশিফল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেমন যাবে প্রেম অথবা পেশাগত জীবনে এমন ভবিষ্যতবাণী অথবা কোন নায়ক বা নায়িকার সাথে আপনার চেহারার মিল রয়েছে তা জানতে গিয়ে আসলে ফেসবুক ও তার তৃতীয়পক্ষের পার্টনারদের আমরা অনেক তথ্য দিয়ে দিচ্ছি।

আরো পড়ুন:

গায়িকা রিয়ানা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, জনপ্রিয় তারকারাও অংশ নিয়েছেন টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জে।

কীভাবে নিজের তথ্য দিচ্ছেন?

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন বলছেন, ফেসবুকে যেসব তৃতীয়পক্ষের অ্যাপে ঢুকে আমরা নানা মজার খেলা বা কুইজে অংশ নিচ্ছি তাতে আমরা নিজেদের সম্পর্কে নিজেরাই নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের দিয়ে দিচ্ছি।

তিনি বলছেন, "যেমন ধরুন টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ, তাতে আমি ছবি দিয়েছি। এর মাধ্যমে ঐ অ্যাপকে ফেসিয়াল রিকগনিশনের সুযোগ দিয়ে দিয়েছি।"

"কিন্তু অপরিচিত কেউ আপনার ছবি কোথাও তুললে ব্যক্তিগত বিষয় লঙ্ঘন হচ্ছে বলে আমরা তাতে বিরক্ত হই। অথচ এখানে নিজেই যত্ন করে ছবি দিয়ে দিয়েছেন।"

টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ কাছাকাছি সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। যাতে সকল দেশের মানুষজনতো বটেই জনপ্রিয় তারকারাও অংশ নিয়েছেন।

এমনকি পরিবেশবিদ বা মানবাধিকার কর্মীরা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে এতে অংশ নিয়েছেন।

মি. স্বপন বলছেন, কিছু অ্যাপ রীতিমতো বিপজ্জনক। যেমন ধরুন রাশিফল বিষয়ক অ্যাপ যেখানে নিজের জন্ম তারিখ দিচ্ছেন আপনি।

জন্ম তারিখ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ইমেইল অ্যাড্রেস চলে যাচ্ছে।

ফেসবুক

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, ফেসবুককে প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে আরও অনেক সফটওয়ার কোম্পানি।

ব্যক্তি সম্পর্কে ডাটাবেজ তৈরি হয়ে যাচ্ছে?

অনেক সময়ে অনেক কুইজে অংশ নিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।

তাতে আপনার পছন্দ, অপছন্দ, আপনার পেশা, নিয়মিত চেক ইনের মাধ্যমে কোন ধরনের এলাকায় আপনি যাচ্ছেন, কোন রেস্টুরেন্টে কেমন খাবার খান এমনকি আপনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কি, কাদের আপনি ঘৃণা করেন - সেসব তথ্য সেখানে নিজেই দিচ্ছেন।

কয়েকটি লাইক বা খানিক বিনোদনের জন্য আপনি কি কোন নজরদারির অংশ হয়ে উঠছেন? - এমন প্রশ্ন বহুদিনের।

মি. স্বপন বলছেন, "বহু অ্যাপ নানা এজেন্সির প্ল্যান্ট করা এটা অনেকবার প্রমাণিত হয়েছে। আপনি খেলা ভাবছেন কিন্তু সে আপনার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে নিলো।"

আপনি কেমন লোক তা যাচাই করতে চাইলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেই অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট।

এমনকি আপনাকে টার্গেট করে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন দিয়ে নির্বাচনে আপনার ভোট দেয়ার প্রবণতা বদলে দেয়া বা কোন পণ্য কেনার ব্যাপারে ধীরে ধীরে আগ্রহী করে তোলা এমন অনেক কিছুর নমুনা ইদানীং পাওয়া যায়।

মার্ক জাকারবার্গ।

ছবির উৎস, Tom Williams

ছবির ক্যাপশান, কারোর কাছে ব্যবহারকারীর তথ্য দেয়ার বিষয়টি সবসময় অস্বীকার করে আসছে ফেসবুক।

কীভাবে কাজ করে এসব তৃতীয়পক্ষের অ্যাপ

জাকারিয়া স্বপন বলছেন, ফেসবুককে প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে আরও অনেক সফটওয়ার কোম্পানি।

তাদের অ্যাপ্লিকেশনগুলো ফেসবুক সংযুক্ত হওয়ার অনুমতি দেয়।

ফেসবুকের কাছ থেকে সে যেমন আপনার কিছু তথ্য নিয়ে নেয় তেমনটি আপনি নিজেও কিছু তথ্য তাদের দিচ্ছেন।

ফেসবুক এবং দুপক্ষই এখানে অর্থ উপার্জন করে।

যেমন ধরুন অ্যাপগুলো যখন এভাবে অর্থ উপার্জন করে তখন সে ফেসবুককেও তা দিয়ে থাকে।

যদিও ফেসবুক 'টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ' বা অন্য কারোর কাছে ব্যবহারকারীর তথ্য দেয়ার বিষয়টি সবসময় অস্বীকার করে আসছে।

সে নিয়ে বহুবার বক্তব্য দিয়েছেন এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ।

অন্যান্য খবর: