যেভাবে বিখ্যাত হয়ে উঠলেন 'আফগান জাস্টিন ট্রুডো'

ছবির উৎস, AFP/GETTY
একজন শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেন গ্রুপের নেতা এবং আরেকজন বিয়ের অনুষ্ঠানে গান করে বেড়ান, কিন্তু তাদের চেহারায় এতো মিল যে এই ঘটনা আফগান একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান কাঁপিয়ে দিয়েছে।
উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের আব্দুল সালাম মাফতুন দেখতে অনেকটাই কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর মতো এবং এজন্যে তিনি দেশটিতে বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন।
টেলিভিশন চ্যানেলে গানের এক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি হয়ে গেছেন একজন তারকা- 'আফগান স্টার।'
একজন বিচারক এই দু'জনের চেহারার সাদৃশ্য তুলে ধরেছেন, এবং মি. মাফতুন এখন সবশেষ আটজন প্রতিযোগীর সাথে পৌঁছে গেছেন ট্যালেন্ট শোর চূড়ান্ত পর্বে।
বাদাখশান প্রদেশে মি. মাফতুন বিয়ের অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শোনান। জাস্টিন ট্রুডো সম্পর্কে তার কোন ধারণাই ছিল না।
"সোশাল মিডিয়াতে তার ছবি দেখার আগ পর্যন্ত জাস্টিন ট্রুডো সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না," বার্তা সংস্থা এএফপিকে একথা বলেছেন মি. মাফতুন।

ছবির উৎস, Twitter
"আমাদের চেহারার মধ্যে যে এতো মিল সেটা আমার জয়ের সম্ভাবনাকে ৫০% বাড়িয়ে দিয়েছে," বলেন তিনি।
তারা দুজন যে দেখতে এক রকম তার বহু ছবি আফগানরা পোস্ট করছেন সোশাল মিডিয়াতে।
এই অনুষ্ঠানের একজন বিচারক, আফগান-কানাডীয় শিল্পী কায়েস উলফাৎ, তিনি যখন ১২ জন শিল্পীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন তখনই তিনি আবিষ্কার করেন যে মি. ট্রুডোর সাথে মি. মাফতুনের চেহারার দারুণ রকমের মিল রয়েছে।
"আমি দেখলাম যে তিনি দেখতে আমার প্রধানমন্ত্রীর মতো," বলেন তিনি। "এটা নিয়ে তখন অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মধ্যে হাসাহাসি শুরু হয়ে গেল।"
এই মিলটার কথা তখন টেলিভিশনের অনুষ্ঠানেও তুলে ধরা হলো। এবং তারপরই মি. মাফতুন হয়ে গেলেন আফগানিস্তানের নতুন সেলেব্রিটি।

ছবির উৎস, Twitter
"তারপর থেকেই তিনি ভাইরাল হয়ে গেলেন," বললেন মি. উলফাৎ, "সোশাল মিডিয়াতে এখন সবাই তাকে নিয়ে কথা বলছে।"
'আফগান স্টার' অনুষ্ঠানটি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের টিভি অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। তালেবান সরকারের পতন ঘটার চার বছর পর ২০০৫ সাল থেকে শুরু হয় এই ট্যালেন্ট শো।
তারপর থেকেই জঙ্গি গ্রুপটি এই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার জন্যে হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের বক্তব্য: এটি ইসলামবিরোধী।
মি. মাফতুন সাধারণ রোমান্টিক প্রেমের গান করেন যেগুলো লোক সঙ্গীত থেকে নেওয়া। দারি এবং পশতু এই দুই ভাষাতেই গান করেন তিনি।
গান গাওয়ার সময় তার পরনে থাকে তার প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক।

ছবির উৎস, AFP/GETTY
গান এবং উপস্থাপনা- এই দুটো দিয়েই তিনি বিচারক এবং একই সাথে দর্শকদেরও মন জয় করে নিয়েছেন।
এই শো এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১শে মার্চ। ফার্সি নতুন বছরের ঠিক আগে।
কিন্তু মি. মাফতুন বলেছেন, শোতে তিনি বিজয়ী না হলেও তার কোন দুঃখ নেই কারণ ইতোমধ্যেই গান গেয়ে তার উপার্জন আগের চাইতে অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি বলছেন, এখন তিনি চান তিনি যার মতো দেখতে সেই কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। কারণ "তিনি একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব এবং আমি হলাম আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকার একজন গরিব মানুষ।"








