সংসদ নির্বাচনের প্রভাব: ক্ষতি হয়েছে অনলাইনের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের

- Author, ফারহানা পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ ছিল দুই দিন।
ইন্টারনেট-ভিত্তিক অনেক ব্যবসা এখন মোবাইল ডেটার ওপর নির্ভর করে চলে।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে অনেক অ্যাপ-ভিত্তিক রাইড শেয়ারের মূল চালিকাশক্তি এই মোবাইল ইন্টারনেট।
অ্যাপ-ভিত্তিক রাইড শেয়ার সার্ভিস উবারে নিজের গাড়ী নিজেই চালান হাফিজ উদ্দিন।
মূলত মোবাইল ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করে এই সেবা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো হয়।
হাফিজ উদ্দিন বলছিলেন, একদিকে ইন্টারনেট বন্ধ, অন্য দিকে যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় গত কয়েক দিন ধরে তার গাড়ী বন্ধ ছিল।
আজ (মঙ্গলবার) থেকে তিনি আবার গাড়ী চালানো শুরু করেছেন।
তিনি বলছিলেন "এই দু'দিনে আমার অবস্থা খুব খারাপ গেছে।"
"মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমাদের গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ হয়," বলছেন তিনি, "অবশ্য ২জি সার্ভিস ছিল। কিন্তু সেটাতে আমাদের গ্রাহক পাওয়া যায় না।"
"৩০ তারিখ সরকারিভাবে যানবাহন চালানো নিষেধ ছিল। আমি আজ কয়েক দিন পর গাড়ী বের করেছি। সব মিলিয়ে বেশ ক্ষতি হয়েছে।"

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
আরও পড়তে পারে:
এদিকে একই রকম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছিলেন অনলাইনে ব্যবসা করেন এমন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
টুম্পা খান গত কয়েক বছর ধরে ফেসবুকের মাধ্যমে শাড়ী-কাপড়ের ব্যবসা করেন।
তিনি বলছিলেন, এই দুইদিনে তার ৪০ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে।
তিনি বলছিলেন "আমি এই কয়েকদিনে সেল সংক্রান্ত কোন পোস্ট বা ছবি দেই নি। কারণ আমি জানি এটা অনেকেই দেখতে পাবে না। সুতরাং এই সময়টাতে আমার নতুন কাস্টোমারের অর্ডার ছিল না বা রেসপন্স ছিল না। এতে করে অন্য সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে আমার বেচাকেনা"
বাংলাদেশে গত ৩০শে ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তার আগের দিন থেকে শুরু হয় যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা।
এদিকে ইন্টারনেটের ৩জি এবং ৪জি সার্ভিস বন্ধ ছিল। আবার বিকাশের মাধ্যমে টাকা লেনদেন উপর ছিল সাময়িক একটা নিষেধাজ্ঞা।

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
যদিও বিকাশ ইন্টারনেটের মাধ্যমে নয় বরং ইউএসএসবি নামে অন্য একটি প্রযুক্তির মাধ্যমে চলে।
বিকাশের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, সাময়িক সময়ের জন্য তাদের সেবা যে বন্ধ করতে বলা হয়েছিল তার জন্য তাদের লেনদেন ৫০% কমে গিয়েছিল।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বলছে, টাকার অংকে সেই হিসেবটা বলা না গেলেও ক্ষতি যে হয়েছে সেটা অস্বীকার করার নেই।
সংস্থাটির একজন গবেষক অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ বলছেন, "ফ্রিল্যান্সিং যারা করেন তারা কিন্তু সোজা কথায় কাজ ধরার যে বিষয়টা মোবাইই করেন।তাদের ক্ষতি হয়েছে।"
"শুধু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা না, যারা বড় উদ্যোক্তা তারাও গাড়ীতে যেতে যেতে অনেক মিটিং সেরে ফেলেন। গত কয়েকদিনে আমরা অর্থনৈতিকভাবে নানা ভাবে ডিসকানেক্টেড ছিলাম বিশ্ব থেকে। নির্বাচনকে ঘিরে এমন অবস্থা হওয়াটা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।"
এদিকে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মোবাইলে ৩জি এবং ৪জি ইন্টারনেট সেবা আবার চাল করা হয়েছে।








