সংসদ নির্বাচন: 'বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটের সাথে আপোষ নয়', মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা

ছবির উৎস, BBC Bangla
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, বিবিসি বাংলা, নড়াইল
২০১৯ আইসিসি বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটের সাথে আপোষ করতে চান না বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনের বিজয়ী প্রার্থী মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।
নির্বাচনের পরের দিন নড়াইলে তার অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই আশা ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক।
"খেলার মাঠের মতো করেই সফল হতে চাই রাজনীতির মাঠে, তবে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোনোভাবেই ক্রিকেটের সাথে সমঝোতা করবো না," বলেন মাশরাফী।
খেলাধূলা সম্পর্কে তিনি বলেন, "৫ তারিখ থেকে বিপিএল আছে। আজকের পর থেকে পুরো ফোকাস সেখানে নিয়ে যাবো।"
"এখন আমার মনের দাবি হলো বিশ্বকাপ পর্যন্ত সুস্থ থেকে, পারফরমেন্স ঠিক রেখে বিশ্বকাপ খেলা," তিনি যোগ করেন।
এর আগে নড়াইল-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদের চেয়ে প্রায় ২ লাখ ৬৩ হাজার ভোট বেশি পেয়ে নড়াইল দুই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাশরাফী।
আরো পড়ুন:
'এলাকায় বরাদ্দের অর্থের সঠিক ব্যবহার' চান মাশরাফী
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মাশরাফী বলেন, তিনি ব্যক্তিগত উন্নয়নের চেয়ে সমষ্টিগত উন্নয়নে বেশি নজর দিতে চান।
"রাস্তাঘাট দেখেছি ঘুরে ঘুরে, অনেক জায়গাতেই যাওয়া কঠিন। সেগুলো দেখা প্রয়োজন, আর একটা ব্যাপার নিশ্চিত করতে হবে যে, যেই বরাদ্দ আসছে সেটা যাতে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।"
তরুণ ভোটারদের বিষয়ে আলাদাভাবে প্রশ্ন রাখা হলে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা বলেন, "নড়াইলের তরুণদের সাথে বসবো কথা বলবো - তারা কী চায়, শিক্ষাখাত ও খেলাধুলার জায়গাটা একটা ইস্যু এখানে।"
স্থানীয়রা কী বলছেন?
এই আসন ছাড়াও মাশরাফী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে প্রায় ১৭ বছর খেলা ও সফল অধিনায়ক হওয়ার কারণে বাংলাদেশব্যাপী তিনি জনপ্রিয় এক ব্যক্তিত্ব।
নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র সৈকতের আশা, মাশরাফী তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন সংসদে। নড়াইলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা রাখেন তিনি।
নড়াইল-২ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্যনীয় ছিল।
প্রতীকী সাহা একজন বয়োজ্যেষ্ঠ্য ভোটার। তিনি এর আগে ভোট দেননি কখনোই, কিন্তু মাশরাফীর প্রতি অনুরাগের কারণেই তিনি এবার ভোট দিয়েছেন বলে জানান।
মিজ সাহা বলেন, "মাশরাফীর মতো মানুষকে অনেকে ভালোবাসে, সে রাজনীতির স্রোতে গা ভাসাবে না, আমার মনে হয় সে খারাপ করার আগে তাকে যারা ভালোবাসে তাদের কথা ভাববে।"
মাশরাফীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে - শঙ্কা অনেকের
মাশরাফীর কিছু ভক্ত শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিবিসি বাংলার কাছে।
নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া এক নারী ভোটার বলেন, রাজনীতিতে এসে মাশরাফীর ব্যক্তিত্ব ও ভাবমূর্তি যাতে নষ্ট না হয়, সেই আশা করেন তিনি।
তিনি আরো যোগ করেন, "এখানে আসলে মাশরাফী বলে কথা না, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিই এমন যে ভয় লাগে। কখন কে কাকে ওপরে ওঠায় আর নিচে নামায় বোঝা কঠিন।"








