সংসদ নির্বাচন: ভোটের লড়াইয়ে হাতিয়ার বাংলাদেশের শিশুরা

ছবির উৎস, SJF
বাংলাদেশে শিশু আইন ভঙ্গ করে নির্বাচনী প্রচারে শিশুদের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
ভোটের যুদ্ধে শিশুদের ব্যবহার না করার জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আহ্বান জানিয়েছে 'শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান।
এই দাবিতে এই সংগঠনটির সদস্যরা বুধবার ঢাকায় মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানব-বন্ধন করেন।
বাংলাদেশ শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এই আইন ভঙ্গ করা হলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
ভোটের যুদ্ধে যেভাবে শিশুদের ব্যবহার চলছে
বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রচারণায় বরাবরই শিশুদের ব্যবহার করা হয়ে আসছে।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুঈদ হাসান তড়িৎ বিবিসিকে জানান, নির্বাচনী প্রচারণার সময় শিশুদের দিয়ে মাইকিং এবং প্রচারপত্র বিলি করানো হচ্ছে । বিভিন্ন প্রার্থীর মিছিলের পুরোভাগেও শিশুদের রাখা হচ্ছে।

ছবির উৎস, SJF
মি. হাসান বলেন, "আপনি দেখবেন প্রার্থীরা প্রচারের জন্য যে মিনিবাস বা ট্রাক ব্যবহার করেন সেখানেও শিশুদের দেখা যায়।"
ভোটের দিন শিশুদের দিয়ে ভোটার স্লিপও বিলি করানো হয় বলে তিনি জানান।
"মূলত দরিদ্র এবং ছিন্নমূল শিশুদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ভোটের প্রচারে ব্যবহার করা হয়। সাধারণত এসব কাজের জন্য এদের দৈনিক ২০-২৫ টাকা এবং খাবার দেয়া হয়।"
প্রার্থীরা এসব শিশুদের সস্তায় কাজ করায় কারণ একই কাজে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে নিয়োগ করা হলে তাতে নির্বাচনী ব্যয় বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বিবিসিকে বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশেষভাবে শিশুদের ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দিয়ে কয়েক মাস আগেই তারা নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছেন।
"নির্বাচন কমিশন তখন আমাদের জানায় যে তারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা যেন শিশুদের ব্যবহার না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।"

ছবির উৎস, SJF
আরও পড়তে পারেন:
ভোটের লড়াইয়ে শিশুদের যেসব ঝুঁকি
শিশু অধিকার নিয়ে যারা আন্দোলন করেন তারা বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার করা হলে তাদের সুরক্ষা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুঈদ হাসান তড়িৎ জানান, নির্বাচনের প্রচারণায় শিশুদের ব্যবহার করা হলে পরবর্তী সময়ে তারা মাদক এবং সন্ত্রাসের দিকে ধাবিত হতে পারে।
এছাড়া ভোটের প্রচারের সময় কোন কারণে সহিংসতা হলে শিশুরাই তার প্রধান ভিকটিম হয় - কারণ ঐ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা অসহায় হয়ে পড়ে।
এছাড়া নির্বাচনী প্রচারের যানবাহনে শিশুদের ব্যবহার করা হলে তারা নানা ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে বলেও শিশু অধিকার কর্মীরা উল্লেখ করেন।








