সংসদ নির্বাচন ২০১৮: ইসলামপন্থী দলগুলো কে কোথায় নির্বাচন করছে

বাংলাদেশে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলিয়ে ৭০টি রাজনৈতিক দল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচনে জড়িত রয়েছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলিয়ে ৭০টি রাজনৈতিক দল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচনে জড়িত রয়েছে
    • Author, সায়েদুল ইসলাম
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে সবমিলিয়ে প্রায় ৭০টি ইসলামী দল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এসব দলের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল রয়েছে ১০টি। তাদের মধ্যে ৬টি রয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে, আর ২টি বিএনপি জোটের সঙ্গে।

নিবন্ধিত বাকি দুইটি ইসলামপন্থী দল নিজেদের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছে। তবে দুই জোটে থাকা কয়েকটি ইসলামপন্থী দলও জোটের প্রতীকে নির্বাচনের পাশাপাশি নিজেদের দলের প্রতীকেও প্রার্থী দিয়েছে।

বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিবন্ধনের বাইরে থাকা অনেক ছোট ছোট দল সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিলেও নানা দল বা জোটের সাথে যৌথভাবে রয়েছে।

হেফাজতে ইসলামী নামের মাদ্রাসা ভিত্তিক একটি দল সম্প্রতি আলোচনায় আসলেও, নির্বাচনের আগে আগে তারা ঘোষণা দিয়েছে যে, কোন দলকেই তারা সমর্থন জানাবে না। যদিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

আরো পড়ুন:

বাংলাদেশে এবার বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল দুইটি বড় জোটের অংশ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে এবার বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল দুইটি বড় জোটের অংশ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছে, আবার নেই

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে যেমন ইসলামপন্থী বেশ কয়েকটি দল রয়েছে, আবার তাদের মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে গঠিত একটি জোটের সঙ্গে রয়েছে আরো কয়েকটি ইসলামী দল।

তবে ধর্মভিত্তিক শরীক দলগুলোর মধ্যে একটি দলের জন্য দুইটি আসনে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

নজিবুল বশরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে দুইটি আসন পেয়েছে, যেখানে এই দলের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

এর বাইরে যে ধর্মভিত্তিক দলগুলো ১৪দলীয় জোট বা মহাজোটের সঙ্গে রয়েছে, তারা আর কোন আসন পায়নি।

মহাজোটের সঙ্গে থাকা অন্য ইসলামপন্থী দলগুলো হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী ফ্রন্টের দুইটি অংশ, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট (মেজবাউর রহমান) ও জমিয়াতুল উলামা, খাদেমুল ইসলাম ইত্যাদি।

গত ৩ নভেম্বর আটটি ইসলামী দলকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিত ইসলামী জোট নামে নতুন একটি জোটের ঘোষণা করে জাতীয় পার্টি।

সেই জোটের অংশ হয়েছিল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। কিন্তু শরীকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি ব্যর্থ হয়ে এখন তারা ৫টি আসনে রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মাহফুজুল হক বলছেন, '' সুনির্দিষ্টভাবে আমরা জোট থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেইনি, তবে আমরা কার্যত জোটেও নেই। আমরা এখন আলাদাভাবে নির্বাচন করছি।''

তিনি জানান, তাদের কয়েকটি আসন ছেড়ে দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেটা না হওয়ায় তারা এখন আলাদাভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গত সেপ্টেম্বর মাসে ১৫টি দল নিয়ে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (আইডিএ) নামের আরেকটি জোটের আত্মপ্রকাশ হয়। এর চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। ও কো-চেয়ারম্যান তরীকত ফেডারেশনের সাংসদ এম এ আউয়াল।

এই জোটের সঙ্গে জাকের পার্টি, সুপ্রিম পার্টিসহ কয়েকটি দল রয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এলেও, জাকের পার্টি ৯৩টি আসনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তাদের প্রতীক গোলাপ ফুল।

২০১৩ সালের ৫ই মে ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের পর মাদ্রাসাভিত্তিক এই দলটি আলোচনায় উঠে আসে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০১৩ সালের ৫ই মে ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের পর মাদ্রাসাভিত্তিক এই দলটি আলোচনায় উঠে আসে

ধর্মভিত্তিক তিন দলকে বিএনপি দিয়েছে ২৮ আসন

বিএনপির সঙ্গে রয়েছে প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে ইসলামপন্থী সবচেয়ে বড় দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। দলটির নিবন্ধন না থাকায় তারা নিজেদের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারছে না। বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির পর এই দলের নেতারা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন।

জামায়াতে ইসলামীকে ২২টি আসন দিয়েছে বিএনপি। আর একটি আসন উন্মুক্ত রয়েছে।

২০ দলীয় জোটের সঙ্গে থাকা নিবন্ধিত দল বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একটি অংশকে ৩টি আসন আর অপর অংশটিকে ১টি দিয়েছে বিএনপি। চারজনের তিনজন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলেও, একজন দলীয় প্রতীক খেজুর নিয়ে নির্বাচন করবেন।

খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন। এর বাইরে আরো ১০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে খেলাফত মজলিস।

খেলাফত মজলিসের নেতা আব্দুল জলিল বিবিসি নিউজ বাংলাকে বলছেন, ''আমরা যতগুলো আসনে চেয়েছিলাম, ততগুলো আসন পাইনি। তাই জোটের কাছ থেকে দুইটি আসন পেলেও আমাদের নেতারা আরো দশটি আসনে নির্বাচন করছেন।''

বাদ পড়েছে আবদুর রকিবের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় নিবন্ধন ধরে রাখতে অনেক দল নিজেদের প্রতীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

জাতীয় সংসদ ভবন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে

তিনশো আসনেই নির্বাচন করতে চায় ইসলামী আন্দোলন

আগের নির্বাচনগুলোয় প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর পরেই রয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান।

এবারের নির্বাচনে নিজেদের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলন নামের দুইটি ইসলামপন্থী দল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দলটির নেতা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম বিবিসি নিউজ বাংলাকে জানিয়েছেন, আমরা ২৯৮টি আসনে নির্বাচন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছি, তারা সবাই নির্বাচন করছেন। আরো দুইটি আসনের বিষয় উচ্চ আদালতে রয়েছে।

দলটির প্রতীক হাতপাখা। দলটি ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিল। তবে ২০০৮ সালে ১৬৬ প্রার্থী নিয়ে জাতীয় সংসদে অংশ নিয়েছিল।

অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ২৩টি আসনে নির্বাচন করছে বলে জানিয়েছে। তাদের প্রতীক বটগাছ।

ইসলামী ঐক্যজোট
ছবির ক্যাপশান, ২০১৬ সালে দলীয় সম্মেলন শেষে ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইসলামী ঐক্যজোট

মুফতি ফজলুল হক আমিনীর দল ইসলামী ঐক্যজোট একসময় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলেও, ২০১৬ সালের জানুয়ারি সেই জোট থেকে বেরিয়ে আসে।

এরপর এই দলটি আওয়ামী লীগের মহাজোটের সাথে যুক্ত হচ্ছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা থাকলেও, তা নাকচ করে দিয়েছেন দলটির নেতা মুফতি মোঃ ফয়জুল্লাহ।

তিনি বলছেন, ''২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসার পরে আমরা কোন জোটেই যাইনি। নির্বাচনে আমরা আলাদাভাবে অংশ নিচ্ছি। আমাদের ২৪জন নেতা মিনার প্রতীকে নির্বাচন করছেন।''