ওমব্যাট কেন কিউব আকৃতির মল ত্যাগ করে তার রহস্য উদঘাটন করেছেন বিজ্ঞানীরা

এই প্রাণীটি এক রাতে ১০০টির মতো কিউব আকৃতির মল ত্যাগ করতে পারে।

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, এই প্রাণীটি এক রাতে ১০০টির মতো কিউব আকৃতির মল ত্যাগ করতে পারে।

পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে তার মধ্যে একমাত্র ওমব্যাটই কিউব আকৃতির মল ত্যাগ করে থাকে। প্রকৃতিতে বহুদিন ধরেই এটা একটা বড় ধরনের বিস্ময়।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, এই প্রাণীটি কিভাবে ও কেন এই আকারের মল ত্যাগ করে তারা তার রহস্য উদ্ধার করতে পেরেছেন।

এই প্রাণীটি মাসুপিয়াল প্রজাতির এবং এটিকে সাধারণত অস্ট্রেলিয়াতেই দেখতে পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, একটি ওমব্যাট প্রতি রাতে একশোটির মতো কিউবা-কৃতির পায়খানা করতে পারে এবং এগুলোকে সে যেখানে থাকে তার চারপাশে জড়ো করে নিজেদের এলাকাকে চিহ্নিত করে রাখে।

এর মাধ্যমে তারা অন্যদের জানিয়ে দেয় যে এই এলাকাটুকু তার নিজের। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অন্তত তারা নিজেরা এরকমই মনে করে।

এর সুবিধা হলো - কিউব আকৃতি হওয়ার কারণে এসব মল এক জায়গাতেই স্থির হয়ে থাকে, গড়িয়ে আরেক জায়গায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম।

অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মতো ওমব্যাটের মলদ্বারও গোলাকৃতির কিন্তু তারপরেও তাদের বিষ্ঠা গোলাকার, নলাকৃতির কিম্বা পেঁচানো হয় না। কিন্তু কেন?

গবেষকরা বলছেন, এই প্রাণীটির পাকস্থলী থেকে মলদ্বার পর্যন্ত খাদ্যনালীর যে নিম্নাংশ বা অন্ত্র তার স্থিতিস্থাপকতার কারণেই সে এরকম অভিনব আকৃতিতে মল ত্যাগ করতে পারে।

"প্রথম কথা হলো জীব বিজ্ঞানে এরকম অদ্ভুত জিনিস আমি কখনো দেখিনি। আমার কাছে এটা ছিল বড় রকমের একটি রহস্য," বলেন যুক্তরাষ্ট্রে জর্জিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির প্যাট্রিসিয়া ইয়াং।

তারই নেতৃত্বে বিজ্ঞানীদের একটি দল এই প্রাণীটির মলের ওপর গবেষণা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। আটলান্টাতে আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি ডিভিশন অফ ফ্লু্‌ইড ডিনামিক্সের বার্ষিক সম্মেলনে এই ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া দ্বীপে গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা যাওয়া বেশ কিছু ওমব্যাটের ওপর তারা এই গবেষণাটি চালিয়েছেন।

কিউব আকৃতির মল

ছবির উৎস, Twitter

ছবির ক্যাপশান, কিউব আকৃতির মল

আরো পড়তে পারেন:

বিজ্ঞানীরা এ সময় ওমব্যাটের অন্ত্রের ভেতরে বেলুন ঢুকিয়ে সেসব ফুলিয়ে দেখেছেন তাদের খাদ্যনালী বেলুনটিকে কিভাবে গ্রহণ করে নেয়। তখন তারা দেখেছেন যে নালীর প্রাচীর সমানভাবে ফুলে না। আর একারণেই মলের আকৃতি কিউবের মতো হয়ে থাকে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রাণীটির খাদ্য হজম করতে দু'সপ্তাহের মতো সময় লাগে। তারা তাদের গবেষণায় দেখেছেন, ওমব্যাটের মল তাদের খাদ্যনালীর শেষ ২৫ শতাংশ অংশে গিয়ে তরল অবস্থা থেকে কঠিন অবস্থায় রূপ নেয়।

আর একবারে শেষ ৮ শতাংশ অংশে গিয়ে সেটি কিউবের আকৃতি নেয় তার খাদ্যনালীর দেয়ালের স্থিতিস্থাপকতার কারণে।

তারা বলছেন, মল ত্যাগ করার পর এই প্রাণীটি এসব এক জায়গায় জড়ো করে রাখে। একটা পর একটা জমিয়ে তারা দেওয়ালের মতো তৈরি করে। যতো বেশি উঁচু করতে পারে তারা ততো বেশি খুশি হয়।

মিস ইয়াং বলেন, "কিউব তৈরি করার জন্যে বর্তমানে আমাদের কাছে মাত্র দুটো উপায় আছে। ছাঁচের মাধ্যমে কিম্বা কেটে কেটে এই কিউব তৈরি করা যায়। এখন আমরা তৃতীয় আরো একটি উপায় সম্পর্কে জানতে পারলাম।"

তিনি বলছেন, প্রকৃতির বাইরে উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এই আবিষ্কার বড় রকমের ভূমিকা রাখতে পারে।"