সাংবাদিক জামাল খাসোগজি হত্যা: কিভাবে বার বার সুর পাল্টেছে সৌদি আরব

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ইস্তামবুলের সৌদি কনসুলেটের ভেতর কিভাবে সাংবাদিক জামাল খাসোগজিকে হত্যা করা হয়েছে - তার নগ্ন সত্য তিনি প্রকাশ করবেন।

গত ক'দিনে এ ঘটনার অনেক তথ্যই সংবাদমাধ্রমে বের হয়েছে, তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার অডিও ও ভিডিও হাতে পাবার কথাও বলেছে - যদিও তা এখনো বের হয় নি।

কিন্তু তার সাথে লক্ষ্যণীয় ছিল: কিভাবে সৌদি আরব ব্যাপারটা প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে একটু একটু করে ঘটনার অনেক কিছুই স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

এখানে দেখা যাক কিভাবে সৌদি আরব একেক দিন একেক রকম বিবরণ দিয়েছে।

৩রা অক্টোবর: মি খাসোগজি জীবিত অবস্থায় কনস্যুলেট ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন।

সেদিন জামাল খাসোগজি তার প্রেমিকাকে বিয়ে করার জন্য তার আগের স্ত্রীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের কাগজপত্র নিতে কনস্যুলেটে ঢোকেন। তার পর আর তিনি বেরিয়ে আসেন নি। কয়েক ঘন্টা পরই তিনি নিখোঁজ বলে খবর বেরোয়।

পর দিন এক সৌদি কর্মকর্তা বলেন, মি খাসোগজি, কনস্যুলেট থেকে কাগজপত্র নিয়ে একটু পরই বেরিয়ে গেছেন। তিনি কনস্যুলেটে নেই, বা সৌদি হেফাজতেও নেই।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

এর কিছু পরে কনস্যুলেট থেকে একটা বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, মি. খাসোগজি 'কি পরিস্থিতিতে' নিখোঁজ হলেন তা বের করতে তারা তুর্কি কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করছেন।

৮ই অক্টোবর: মৃত্যুর খবর 'মিথ্যা ও ভিত্তিহীন'

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভাই এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালিদ বিন সালমান একটি চিঠি প্রকাশ করেন। তাতে বলা হয়, মি খাসোগজির মৃত্যুর খবর 'সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।'

তিনি লেখেন, 'যখন কনস্যুলেট খোলা, বহু কর্মচারী ও দর্শনার্থী রয়েছে, তার মধ্যে এই খুনের অভিযোগ হচ্ছে যা অস্বাভাবিক । আমি জানি না কারা এসব দাবির পিছনে, তাদের কি উদ্দেশ্য, জানতে চাইও না।'

১৫ই অক্টোবর: দুর্বৃত্ত ঘাতকের সম্ভাবনা

সৌদি বাদশা সালমান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পএর মধ্যে এক ফোনালাপের পর মি. ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, বাদশা খাসোগজির অন্তর্ধানের ব্যাপার কিছু জানেন না এবং তার অস্বীকৃতি ছিল 'খুব, খুব জোরালো'।

তিনি বলেন, 'আমার মনে হয় এরা কোন দুর্বৃত্ত ঘাতক হতে পারে , কে জানে?'

২০শে অক্টোবর: 'ঝগড়া এবং ঘুষোঘুষি'

২০শে অক্টোবর সৌদি সরকার একটি প্রেস রিলিজ দেয়। এতে বলা হয়, সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মি. খাসোগজি এবং তার সাথে দেখা করা লোকদের মধ্যে ঝগড়া এবং ঘুষোঘুষির ঘটনা ঘটে।

এর পরিণতিতে খাসোগজির মুত্যু হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এর পর একই দিনে আরেকটি সরকারি বিবৃতি দেয়া হয়, এবং তাতে বলা হয় যে মি. খাসোগজি এবং কনস্যুলেটে তার সাথে থাকা আরো কয়েক জনের মধ্যে ঝগড়া এবং মারামারির ফলে তিনি মারা যান, এবং ওই লোকেরা ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করে।

২১শে অক্টোবর: খুন করা ছিল একটি মারাত্মক ভুল

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবের মার্কিন টিভি ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো সাংবাদিক খাসোগজির মৃত্যুকে 'খুন' বা 'মার্ডার' হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে তিনি বলেন, যুবরাজ মোহামেদ বিন সালমান সেই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেননি।

তার কথায়, নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু 'দুর্বৃত্ত' এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি বলেন তারা তাদের কর্তৃত্বের আওতার বাইরে গিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে - যার কথা গোয়েন্দা বাহিনীর উর্ধতন নেতারাও জানতেন না।

তিনি বলেন, "এটা একটা চরম ভুল হয়েছে, এবং সেটা চাপা দেবার চেষ্টা ছিল আরো গুরুতর। আমরা সত্য উদ্ঘাটন করে এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"