ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে হয়রানির শিকার দুই ছাত্রী

ছবির উৎস, NurPhoto
- Author, ফারহানা পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে হয়রানির শিকার হয়েছেন দুইজন শিক্ষার্থী।
তাৎক্ষণিকভাবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে একথা জানালে অভিযোগকারীদের পুলিশে ধরিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসেন একজন শিক্ষার্থী। সাথে ছিলেন তার বোন।
গতকাল শনিবার পরীক্ষা শেষে বের হওয়ার সময় দুইজন যুবক তাদের উদ্দেশ্য কথা অশালীন কথা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে এই দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূর মোহাম্মদ বলছিলেন, কি ছিল সেই লিখিত অভিযোগে ।
"সে লিখেছে, তারা আমাকে ডেকে নিয়ে আমার পরীক্ষার ফাইল কেড়ে নেয়। আমাকে স্পর্শকাতর এবং হয়রানিমূলক কথাবার্তা বলে। এবং আমাকে বিল্ডিং এর বাইরে নিয়ে যেতে চাচ্ছিল। তারা আমার পরিবার এবং আমার পোশাক সম্পর্কে বিভিন্ন নোংরা কথা বলে। যা আমার জন্য খুবই বিব্রতকর ছিল"।
বিবিসি বাংলায় এ নিয়ে আরও খবর:
এই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রক্টর অফিস ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিযোগে ঐ দুই যুবককে ডেকে পাঠালে দেখা যায় তারা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
এরপর পুলিশ ডেকে তাদের সোর্পদ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এই ধরণের ঘটনা পর পরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল না?
প্রক্টর নূর মোহাম্মদ বলছিলেন, এই ঘটনার তদন্ত করে দুই-তিন দিনের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ছবির উৎস, Getty Images
"গতকাল একটা আনঅফিসিয়াল বিষয় ছিল। আজ আমাদের অফিস শুরু হয়েছে । আজকে তদন্তের মাধ্যমে দু-তিন মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসবে। আমরা চিন্তা করেছি যেহেতু তারা আমাদের এখানকার ছাত্র সেহেতু তদন্ত করে অ্যাকাডেমিক পানিশমেন্ট যেটা হয় সেটা হবে" - বলেন তিনি।
এদিকে সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে যে অভিযুক্তরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সদস্য । তবে প্রক্টর এই তথ্য নিশ্চিত করেননি।
ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগকে কতটা গুরুত্ব দেয় কর্তৃপক্ষ?
বাংলাদেশে নারীদের এমন হয়রানির শিকার হবার ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরণের হয়রানি বন্ধে কি ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং এসব ঘটনাকে কতটা গুরুত্ব সহকারে দেখে কর্তৃপক্ষ?
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শামিমা বেগম এর জবাবে বলছিলেন, এই ধরণের ঘটনা অনেক সময় শিক্ষার্থীরা লোকলজ্জার ভয়ে বলতে পারেন না। সেক্ষেত্রে প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সেল গঠন করা এবং সেখানে যাতে শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ করতে পারেন সেই ব্যবস্থা থাকা উচিত।

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি বলছিলেন, "প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক - সবাইকে।"
প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের নিজেদের আচরণ বিধি রয়েছে। যেটার ভঙ্গের দায়ে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে সেই আচরণ বিধি ভঙ্গ করলে করলে নির্দিষ্ট শাস্তি দেয়া হচ্ছে কিনা ?
এদিকে গতকালের এই হয়রানির ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিয়া মাসুদা বলছিলেন, আচরণ বিধি থাকলেও সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গাফিলতি রয়েছে। যার কারণে এই ধরণের ঘটনা কমছে না।
"সমস্যাটি হচ্ছে কিছু গাফিলতি থেকে যাওয়ার কারণে এগুলো প্রপারলি ইমপ্লিমেন্টেড হচ্ছে না। সুতরাং ইমপ্লিমেন্ট করার জন্য কি কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে, প্রক্টরিয়াল যে বডি রয়েছে তারা সেটাকে কীভাবে কার্যকর করবে - সেটা আমাদের দেখতে হবে, সেটাই এখন মুখ্য বিষয়" - বলেন তিনি।









