ক্রিকেট ফুটবলের মাঠে যেসব মুহূর্ত অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে

ভারতীয় ক্রিকেটার ইয়ুজভেন্দ্রা চাহাল, সানগ্লাস পরিহিত

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভারতীয় ক্রিকেটার ইয়ুজভেন্দ্রা চাহাল, সানগ্লাস পরিহিত

চিরবৈরী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচের উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই ম্যাচের কিছু কিছু মুহূর্ত থাকে যা ক্রিকেট-প্রেমীদের স্মৃতিতে বহুকাল স্মরণীয় হয়ে থাকে।

খেলায় এরকম ঘটনা খুব কমই থাকে যাতে দু'পক্ষের দর্শকরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু চলতি এশিয়া কাপে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচ চলাকালে এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে যাতে দুটো দেশের ভক্তরা একসাথে হাততালি দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটার ইয়ুজভেন্দ্রা চাহালকে উদ্দেশ্য করে।

এর কারণ- ম্যাচ চলাকালে তিনি পাকিস্তানি ক্রিকেটার উসমান খানের জুতার ফিতা বেঁধে দিয়েছিলেন।

দুটো দেশের ভক্তরাই সাধারণ এই ঘটনাটিকে উল্লেখ করছেন 'সুন্দর' একটি মুহূর্ত হিসেবে।

ঢাকায় মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও এরকম একটি ঘটনা বেশ আলোচিত হয়েছিল যখন ইংলিশ ক্রিকেটার অ্যালিস্টার কুক হাঁটু গেড়ে বাংলাদেশী ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজের পায়ের জুতার ফিতা বেঁধে দিয়েছিলেন।

খেলার মাঠের উত্তেজনার ভেতরে ঘটে যাওয়া এরকম আরো কিছু ঘটনার দিকে ফিরে তাকানো যাক:

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post

উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটার চাহাল মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পাকিস্তানি ক্রিকেটার উসমান খানের জুতার ফিতা বেঁধে দিচ্ছেন।

অনেকেই এই ছবিটি শেয়ার করেছেন টুইটারের মতো সোশাল মিডিয়ায়।

পাওলি ডি ক্যানিও ও পল জেরার্ড

পাওলো ডি ক্যানিও পুরষ্কার নিচ্ছেন পল জেরার্ডের হাত থেকে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পাওলো ডি ক্যানিও পুরষ্কার নিচ্ছেন পল জেরার্ডের হাত থেকে।

খেলার মাঠে যে কোন ফুটবলার তো বটেই, সমর্থকদেরও স্বপ্ন থাকে এরকম যে তিনি পায়ের কাছে বল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তার সামনে খোলা নেট। অর্থাৎ ফাঁকা পোস্ট।

কিন্তু পাওলো ডি ক্যানিও এরকমই এক স্বপ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন ২০০১ সালে। তিনি খেলছিলেন ইংলিশ ফুটবল ক্লাব ওয়েস্ট হ্যামের হয়ে।

আর ম্যাচটি ছিল আরেক ইংলিশ ক্লাব এভারটনের সাথে।

একসময় দেখা গেল এভারটনের গোলরক্ষক পল জেরার্ড আহত হয়ে পেনাল্টি এলাকায় মাটিতে পড়ে আছেন। ফলে পাওলো ডি ক্যানিওর সামনে তখন একেবারে ফাঁকা পোস্ট।

ডি ক্যানিও তখন খুব সহজেই বলটি নেটে পাঠিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি শট না নিয়ে হাত দিয়ে বলটি তুলে নিলেন।

তার এই 'অসাধারণ খেলোয়াড়সুলভ আচরণের' কারণে তাকে পরে 'ফিফা ফেয়ার প্লেয়ার' পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছিল।

রাফায়েল ন্যাদাল ও রজার ফেডার

রাফায়েল ন্যাদাল জড়িয়ে ধরেছেন রজার ফেডারকে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, রাফায়েল ন্যাদাল জড়িয়ে ধরেছেন রজার ফেডারকে।

টেনিসে এই দু'জনই শীর্ষ খেলোয়াড়। ফেডার ও ন্যাদাল। তারা বহুবার মুখোমুখি হয়েছে একে অপরের।

২০০৯ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে রজার ফেডার যখন তার প্রতিদ্বন্দ্বীর ন্যাদালের কাছে পাঁচ সেটে পরাজিত হলেন তখন তিনি তার কান্না চেপে রাখতে পারছিলেন না।

তখন এগিয়ে এলেন রাফায়েল ন্যাদাল নিজে। রজার ফেডারের কাঁধের উপর হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন তাকে। জয়ী হয়েও তিনি পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীকে এভাবেই সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেন।

১০ হাজার মিটার দৌড় শেষে...

লিনিও চাকা দৌড়ে আসছেন ফিনিশিং লাইনের দিকে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, লিনিও চাকা দৌড়ে আসছেন ফিনিশিং লাইনের দিকে।

স্বর্ণপদক জয় করাই হয়তো প্রথম লক্ষ্য থাকে একজন দৌড়বিদের। কিন্তু কখনও কখনও এটাই সবকিছু নয়।

অস্ট্রেলিয়ান কমনওয়েলথ গেমসে ১০ হাজার মিটার দৌড়ের এক ইভেন্টে অনেক আগেই দৌড় শেষ করে ফেলেন অস্ট্রেলিয়ার এলোজ ওয়েলিংস, মেডেলিন হিলস এবং সেলিয়া সালোহেন। কিন্তু তারা অন্য একটি কারণে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

এই তিনজনই সিদ্ধান্ত নিলেন একেবারে শেষ দৌড়বিদ ফিনিশিং লাইন পার না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অপেক্ষা করবেন।

এই শেষ দৌড়বিদ ছিলেন লেসোথোর লিনিও চাকা। ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করার সাথে সাথে অপেক্ষমাণ তিন অস্ট্রেলীয় দৌড়বিদ তাকে জড়িয়ে ধরলেন।

এন্ড্রু ফ্লিনটফ ও ব্রেট লী

ব্রেট লীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন এন্ড্রু ফ্লিনটফ।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ব্রেট লীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন এন্ড্রু ফ্লিনটফ।

আরো পড়তে পারেন:

ইংল্যান্ডের জন্যে এটা ছিল এক আনন্দের দিন যেদিন তারা ২০০৫ সালের অ্যাসেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করলো।

কিন্তু আনন্দ উল্লাস করার পরিবর্তে ইংল্যান্ডের এন্ড্রু ফ্লিনটফ তখন অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লীকে সান্ত্বনা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।

এই ঘটনার বহু পরে ২০১০ সালে ব্রেট লীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সেদিন ফ্লিনটফ আসলে তাকে কী বলেছিলেন। লী তখন ওই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, "তিনি বলেছিলেন, বন্ধু এটা তোমাদের দুর্ভাগ্য। আমরা তোমাকে আউট করার জন্যে অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা ভাবিনি যে শেষ দুই কি তিন রানে এরকম কিছু হবে। পরে ভেতরে তোমার সাথে বিয়ার খাওয়ার সময় দেখা হবে।"

গ্যারেথ সাউথগ্যাটের সান্ত্বনা

কলাম্বিয়ার ফুটবলারকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন গ্যারেথ সাউথগেট।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, কলাম্বিয়ার ফুটবলারকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন গ্যারেথ সাউথগেট।

পেনাল্টি শুট-আউটে যে ইংলিশ ফুটবলাররা ভালো নয় সেটা মোটামুটি সবারই জানা।

ফলে ইংল্যান্ডের ম্যানেজারের এটা আশা করা খুব স্বাভাবিক যে তার দল পেনাল্টি শুট-আউটে জিতে ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে।

কিন্তু সেদিন ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কলাম্বিয়ার একজন ফুটবলার যখন পেনাল্টি মিস করলেন তখন তাকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

কারণ তিনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছিলেন যে এরকম পরিস্থিতিতে ওই ফুটবলারের কেমন লাগতে পারে!

জার্মানি ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউরো টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে বিদায় নিতে হয়েছিল পেনাল্টি শুট-আউটে হেরে গিয়ে।

সেদিন এই গ্যারেথ সাউথগেটেরই শট আটকে দিয়েছিলেন জার্মান গোলরক্ষক। আর জার্মানি পৌঁছে গিয়েছিল ফাইনালে।

সাউথগেট সেদিনের কথা নিশ্চয়ই ভুলতে পারেন নি!