'চেক করছে, ভাংচুর করছে, তাই বাস চলা বন্ধ' - বলছেন মালিক-শ্রমিকরা

বাংলাদেশ ঢাকা বাস ধর্মঘট

ছবির উৎস, বিবিসি

ছবির ক্যাপশান, বাসশূন্য ঢাকার মহাখালী থেকে বিমানবন্দরগামী সড়ক
    • Author, রাকিব হাসনাত
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাঁচদিনের ছাত্র বিক্ষোভের পর আকস্মিকভাবে দেশ জুড়ে বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা।

কোনো ধরণের ঘোষণা ছাড়াই বাস বন্ধ করে দেয়ায় ঢাকায় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। ঢাকার সাথে প্রায় সারাদেশে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলছেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণেই বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিক-শ্রমিকরা, তবে তারা কোনো ধর্মঘট ডাকেননি ।

তিনি বলেন, "বাস বন্ধ আছে নিরাপত্তার অভাবে। মালিক-শ্রমিকরা গাড়ী বন্ধ করে দিয়েছে নিরাপত্তার কারণে। এ পর্যন্ত চারশর মতো বাস ভাংচুর করা হয়েছে। ৭/৮টি গাড়ী সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।"

"সে কারণে নিরাপত্তার জন্যই বন্ধ করা হয়েছে, অন্য কিছু না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার চালু হবে" - বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

কিন্তু বিক্ষোভ তো হচ্ছে মূলত ঢাকায়, তাহলে কেনো সারাদেশের সব ধরনের বাস বন্ধ করে দেয়া হলো?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "গাড়ী শহরে আসতে বা বের হতে পারছে না। বিভিন্ন জায়গায় চেক করছে, ভাঙছে, এজন্যই বন্ধ আছে।"

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

তবে হঠাৎ করে কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। বন্ধ পাওয়া গেছে টার্মিনালে দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলো। ফলে অসংখ্য মানুষকেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর গন্তব্যে যেতে হয়েছে হেঁটে বা রিকশায়।

তেমনি একজন এই তরুণ বিমানবন্দর থেকে হেটে কারওয়ানবাজার যাওয়ার পথে মহাখালীতে বিবিসিকে বলছিলেন যে তিনি জয়দেবপুর থেকে প্রথমে কিছুটা বাসে পরে ট্রাকে করে বিমানবন্দর পর্যন্ত আসেন।

"বিমানবন্দরে নামিয়ে দেয়া হলো আমাদের। এরপর হেঁটে রওনা দিলাম। পথে যদি পাই বাস তাহলে উঠবো। দেখি ভাগ্যে কি আছে"।

আবার এই বাস সংকটের সুযোগে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকগুণ বেশি টাকা দিয়ে অনেকে যাতায়াত করেন প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস কিংবা লেগুনার মতো পরিবহনগুলোতে।

আর যারা দীর্ঘপথ হেঁটে যেতে পারেননি এমনি অসংখ্য নারী পুরুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে রাজধানীর কয়েকটি বাসস্টপেজে।

একজন নারী বলছিলেন যে তার একটি পরীক্ষা ছিলো কিন্তু পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে আর কোন যানবাহন পাচ্ছেননা।

"অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। বাস নেই। লেগুনা আছে কিছু কিন্তু ওগুলোতে এতো ভিড় যে ওঠার মতো পরিবেশই নেই"।

এদিকে মালিক শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করার পরেও শহরের কয়েকটি জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে দু একটি বাস চোখে পড়েছে।

এ ধরনের একটি বাসের ধাক্কায় আজও ঢাকার মগবাজারে নিহত হয়েছেন একজন মটর সাইকেল আরোহী। পরে ঘটনাস্থলে বিক্ষুদ্ধ লোকজন বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।