আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ব্যবহার কমাতে এসেছে নতুন টুল
ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম একটি নতুন টুল প্রকাশ করেছে যা থেকে জানা যাবে যে ইউজাররা অ্যাপগুলিতে কত সময় ব্যয় করছে।
মূলত সামাজিক যোগাযোগের এই অ্যাপগুলোর ব্যবহার সীমিত করার লক্ষ্যেই এই টুলটি ছাড়া হয়েছে।
মাত্রাতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কার জায়গা থেকে এই টুল প্রকাশের কথা ঘোষণা করা হয়।
মোবাইলের সেটিংস থেকে এই টুলের অ্যাকসেস পাওয়া সম্ভব। এছাড়া ফেসবুক অ্যাপের "ইওর টাইম অন ফেসবুক" অপশন থেকে এবং ইনস্টাগ্রামের "ইওর অ্যাকটিভিটি" থেকে জানা যাবে সময়ের হিসাব নিকাশ।
এখন ইউজাররা চাইলেই চেক করতে পারবেন যে তারা অ্যাপগুলোয় স্ক্রোলিং করে কত সময় কাটিয়েছেন।
এছাড়া অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নির্দিষ্ট করতে আছে রিমাইন্ডার সেট করার ব্যবস্থাও। যেখানে বেঁধে দেয়া সময় শেষ হওয়ার পর তাদের সতর্ক বার্তা দেয়া হয়। নোটিফিকেশনও মিউট হয়ে থাকে কিছু সময়ের জন্য।
কিন্তু কিছু মানুষ বলছে এতে খুব একটা লাভ হবেনা।
অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের গ্র্যান্ট ব্ল্যাঙ্ক নিউজ বিটকে জানান "আমি বলব না যে এতে রাতারাতি কোন পরিবর্তন আসবে। মানুষ যে হারে ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে তাতে এই টুল বড় ধরণের কোন পরিবর্তন আনবে বলে মনেহয় না।
"আমার ধারণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্পোরেট স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যই এই টুলটি বের করেছে। যেন তারা মানুষকে দিয়ে ফেসবুকে আরো বেশি সময় ব্যয় করাতে পারে। সেইসঙ্গে যেসব ইউজাররা বার বার নোটিফিকেশন আসা নিয়ে বিরক্ত ও বিভ্রান্ত। তাদেরকেও প্রভাবিত করতে এই টুলকে কাজে লাগানোর কথা ভাবছে তারা।"-এমনটিই জানান গ্র্যান্ট ব্ল্যাঙ্ক।
গত বছরের ডিসেম্বরে ফেসবুক একটি ব্লগ পোস্ট প্রকাশ করে। যেখানে তারা স্বীকার করেছে যে, এই ধরণের প্ল্যাটফর্মে অনেক সময় ব্যয় করলে মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর এ সংক্রান্ত একটি পরীক্ষা চালানো হয়।
সেখানে একদল শিক্ষার্থীকে ১০ মিনিট ধরে ফেসবুকে ইচ্ছামতো স্ক্রোল করতে বলা হয়। এবং আরেকটি গ্রুপকে বলা হয় ফেসবুকে কিছু পোস্ট করতে এবং বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতে।
দিনশেষে প্রথম দলের শিক্ষার্থীদের মেজাজ খারাপ হতে দেখা যায়। যেখানে দ্বিতীয় গ্রুপের শিক্ষার্থীরা ছিল অপেক্ষাকৃত সক্রিয়।
ইউসি সান ডিয়েগো এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে যারা ফেসবুকের অসংখ্য লিঙ্ক ও পোস্টে বারবার ক্লিক বা লাইক করেন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক খারাপ।
কতো সময় অপচয় করছি:
২৪ বছর বয়সী লাইফস্টাইল ভ্লগার এবং ইনস্টাগ্রাম ইউজার এম শেলডন নিউজ বিটকে জানান, যে এক সময় তার বন্ধুদের কার্যকলাপ নজরে রাখাই ছিল তার সারাদিনের কাজ।
"আমি এটাকে কাজের অংশ বলেই মনে করি, আবার একে সমস্যা বলেও মনেহয়। কারণ সময় কাটাতে, আমরা আমাদের ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি।"
মিস শেলডন বলেন, "একটু অবসর পেলেই আমি মোবাইলে স্ক্রলিং করে সেই ফাঁকা সময়টা পূরণ করে ফেলি।"
"সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টাই আমার জন্য অপরিহার্য। আমার মনেহয়, এটা এমন কিছু যেটা ধীরে ধীরে আমাদের ওপর প্রভাব খাটিয়েছে। আর এটার প্রতি আমাদের প্রয়োজন প্রতিনিয়ত থেকেই যায়।"
তবে নতুন টুলটি ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে তার সময় কাটানোর হার কমাতে পারবে কিনা, এমন প্রশ্ন করা হলে এম শেলডন বলেন,
"এটি আদৌ কোন সাহায্য করবে কিনা জানি না, কারণ আমি নিজেই জানি যে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুব বেশি ব্যবহার করি"।
তবে রিমাইন্ডারের নোটিফিকেশন কাজে আসতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
"এই রিমাইন্ডার হয়তো আমাকে একটা ধাক্কা দিতে পারে যে, এখন ফোনটা নামিয়ে রাখা দরকার।"
মিস শেলডন বলেন, "যদি স্ত্রীনে কিছু পপ আপ হয়ে জানায় যে, আপনি এই অ্যাপটা গত ছয় ঘণ্টা ধরে ব্যবহার করছেন। তখন আমার অবস্থা এমন হবে যে, ওয়াও যথেষ্ট হয়েছে। সময়ের কি অপচয় না করলাম।"
দিনে ১৫ ঘণ্টা টুইটারে:
ডিজিটাল মার্কেটিং কোম্পানি দ্য গোট এজেন্সির সহ-প্রতিষ্ঠাতা হ্যারি হুগো বলেছেন যে এই পরিবর্তন নিয়ে অনেকদিন ধরেই ভাবা হচ্ছিল।
বিশেষ করে যুব সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি উঠে আসার পর। যারা তাদের বেশিরভাগ সময় এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করেন।
এখন যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার সীমিত করার কোন টুল থাকে তাহলে সেটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা। তার।
হ্যারি হুগো বলেন, "যদি মানুষ বুঝতে পারে যে তারা এই প্ল্যাটফর্মে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করছে, এই টুলের কারণে হয়তো তারা বিষয়টি নিয়ে দু'বার ভাববে।"
হ্যারি নিজেও বোঝেন অনলাইনে অনেক সময় ব্যয় করলে কি হয়। তিনি জানান, কিশোর বয়সে তিনিও দিনের ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা টুইটারে ব্যয় করতেন। সেই কথা ভাবলে এখনো শিউরে ওঠেন তিনি।
হ্যারি মনে করেন, এটি শেষপর্যন্ত মানুষের ইচ্ছা অনিচ্ছার ওপরই নির্ভর করে যে, তারা নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করে আনতে দায়িত্বশীল হবে কিনা।
কারণ এই আমরাই ফোনটা খুলি, ইনস্টাগ্রামে ট্যাপ করি। তাই এই সমস্যা সমাধানের দায়ভার শুধু অ্যাপেল বা ফেসবুককে দেয়া যায়না।
এ ধরণের টুল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অবশ্যই কাজে আসতে পারে, তবে তারা রাতারাতি ভালোর জন্য কোন পরিবর্তন করতে পারবে না। বলে জানান মিস্টার হুগো।