‘হিটলারের ভুতে'র সাথে তুলনার পর এরদোয়ানের ওপর চরম ক্ষিপ্ত নেতানিয়াহু

ছবির উৎস, Reuters
তুরস্কের ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইপ এরদোয়ান এবং ইসরায়েলের কট্টর ইহুদি-বাদী প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কের বৈরিতা বহুদিনের। সুযোগ পেলেই তারা একে অন্যকে অপমান করতে ছাড়েন না।
তবে তাদের দুজনের সর্বসাম্প্রতিক বাদানুবাদ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ধারালো এবং স্পর্শকাতর।
বিবাদের শুরু হয় যখন মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার ক্ষমতাসীন একে পাটির এক সভায় ইসরায়েলকে 'হিটলারের প্রেতাত্মার' সাথে তুলনা করেন।
সম্প্রতি আইন করে ইসরায়েলের সরকার দেশটিকে একচ্ছত্র ইহুদি রাষ্ট্র হিসাবে মর্যাদা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মি এরদোয়ান বলেন, "এই ঘটনার পর, সন্দেহের আর কোনো অবকাশ নেই যে ইসরায়েল এখন বিশ্বের সবচেয়ে ফ্যাসিবাদী এবং বর্ণবাদী রাষ্ট্র।"
"আর্য বর্ণের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে হিটলারের বাতিক আর এই প্রাচীন জনপদ শুধু ইহুদিদের বলে ইসরায়েলের যে বিশ্বাস, তা একইরকম, কোনো পার্থক্য নেই।"
"হিটলারের যে প্রেতাত্মা পৃথিবীকে ধ্বংসের দ্বারে নিয়ে গিয়েছিল, তা নতুন করে ইসরায়েলের কিছু নেতার ওপর ভর করেছে।"
হিটলার বা নাৎসি, যাদের কারণে ইউরোপে ৬০ লাখ ইহুদির মৃত্যু হয়েছিল, তাদের সাথে তুলনা ইসরায়েলীদের জন্য সবচেয়ে বড় অপমান।
আর সে কারণে মুহূর্ত দেরি না করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে লক্ষ্য করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Reuters
টুইটারে তিনি মি এরদোয়ানকে "সিরিয় এবং কুর্দিদের গণহত্যার" জন্য দায়ী করেছেন।
"এরদোয়ানের অধীনে তুরস্ক একটি অন্ধকার একনায়কতন্ত্রে পরিণত হয়ে। অন্যদিকে নতুন আইনের পরও ইসরায়েল তাদের সমস্ত নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত রেখেছে।"
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এই দুই নেতা পরস্পরকে চরম ভাষায় গালমন্দ করেছেন। মি এরদোয়ান মি নেতানিয়াহুকে "দখলদারি", "সন্ত্রাসী" এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রকে "শিশু হত্যাকারী" হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
অন্যদিকে মি নেতানিয়াহু তুরস্কের কুর্দি বিরোধী অভিযান প্রসঙ্গ তুলে একাধিকবার বলেছেন, 'যে নেতা তাদের নিজের দেশের মানুষের ওপর নির্বিচারে বোমা ফেলতে পারেন, অন্য দেশের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অধিকার তার নেই।।"








