বাংলাদেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নিচে, পরিণাম কী?

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, ফারহানা পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে বাজেটে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির সবচেয়ে কম ব্যয় ধরা হয়েছে। শিক্ষাখাতে দুই শতাংশ এবং স্বাস্থ্যখাতে এক শতাংশেরও কম।
অর্থের হিসেবে ২০১৮-১৯ বছরের বাজেটে এই যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে সেটা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের মত গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার কেন এত কম বরাদ্দ করলো? ভবিষ্যতে এর কী প্রভাব পড়তে পারে? অর্থনীতিবিদ এবং গবেষকরা বলছেন, এই দুই খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকলে তাহলে একটি কর্মক্ষম শিক্ষিত জনগোষ্ঠী করা সম্ভব নয়।
এবার ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জন্য বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্যখাতে সাড়ে ২৩ হাজার কোটির কাছাকাছি অর্থ বরাদ্দ করেছে। আর শিক্ষাখাতে সাড়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
টাকার অংকে হিসেবটা অনেক বড় মনে হলেও জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিকের এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে শিক্ষাখাতে ব্যয় দুই শতাংশ এবং স্বাস্থ্যখাতে এক শতাংশেরও কম।
মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির অনুপাতে এই দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশের ব্যয় এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
এ খাতগুলোয় কি ব্যয় বাড়ানো যেতো?
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ এ প্রশ্নের জবাবে বলছিলেন, যেসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই বা ধীরগতি সম্পন্ন - সেখান থেকে সহজেই টাকা কেটে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যে লাগানো যেতে পারে।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:প্রতিবেশীদের তুলনায় বাংলাদেশের সামরিক ব্যয়ের চিত্র

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি বলছিলেন, "উন্নয়ন বাজেটে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প যেগুলো আছে সেগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হত যে আদৌ এসব প্রকল্পগুলোয় দিনের পর দিন অর্থ খরচ করা হবে কীনা! অনেক প্রকল্প আছে যা দু্ই বছরে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু গত দশ বছরেও সেগুলোর কাজ আগায় নি"।
তিনি আরো বলছিলেন, একটা অর্থবছর শেষে যদি দেখা যায় কোন খাতে অর্থ বেঁচে গেছে - সেটা পরবর্তীতে অর্থবছরের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে কাজে লাগাতে পারে সরকার।
এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার কেন এত কম বরাদ্দ করলো?
জানতে চাইলে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান স্বীকার করেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় এই দুইখাতে বরাদ্দ কম।
তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে স্বাস্থ্য খাতে যারা বিভিন্ন যন্ত্র কেনেন তাদের আপডেট প্রযুক্তি সম্পর্কে সবসময় অভিজ্ঞতা থাকে না।

ছবির উৎস, Getty Images
এই দুইখাতে বরাদ্দ কম হলে জনগণের উপর কি ধরণের প্রভাব পড়তে পারে?
অর্থনীতিবিদ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের গবেষকরা বলছেন, যদি এই দুই খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকে তাহলে একটি কর্মক্ষম শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের মত দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে অন্তত ৬ শতাংশ বরাদ্দ থাকা উচিত বলে মনে করছেন গবেষকরা।
ড. নাজনীন আহমেদ বলছিলেন "আমার প্রচুর পরিমাণে হিউম্যান ক্যাপিটাল দরকার। যেটা আসবে শিক্ষা থেকে এবং স্বাস্থ্য থেকে। বলা হয় যদি শিক্ষা ক্ষেত্রে ৬% বরাদ্দ থাকে তাহলে এই ধরণের দেশের জন্য যথাযথ ।"
"সেই হিসেবে চিন্তা করলে বলা যায় বাংলাদেশের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাত অবহেলিত, যেটা গ্রহণযোগ্য নয় এবং বাংলাদেশের জন্যেও কোন সুখবর না" - বলেন তিনি।








