বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষ, কারণ কী?

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল

ছবির উৎস, আহরার হোসেন

ছবির ক্যাপশান, বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সমর্থকে ভাগ হয়ে যায় বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা
    • Author, নাগিব বাহার
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশের কয়েকটি এলাকায় ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনার জের ধরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে এসব দ্বন্দ্বের সমাধান করা সম্ভবপর হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ।

ফুটবল খেলায় সমর্থনের জের ধরে দুই দলের অন্ধ ভক্তদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়।

ঘরোয়া ক্লাব ফুটবলে একসময় দুই বড় ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডান সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটতো নিয়মিতই।

তবে বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবল জনপ্রিয়তা হারানোর পর সমর্থকদের মধ্যে ফুটবল সংক্রান্ত দ্বন্দ্বটা পরিবর্তিত হয়ে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থকদের যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।

এর তীব্রতা কতটা তা বোঝা যায় ফুটবল বিশ্বকাপের সময়।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বন্দ্বের তীব্রতা কতটা তা বোঝা যায় ফুটবল বিশ্বকাপের সময়

এবারের বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় এরই মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে।

রাজশাহী, নীলফামারি বা ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ঘটনার ঘটনার মাত্রা ছোটখাটো হলেও, খুলনায় এক দম্পতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর ঘটনা ঘটেছে বলে জানান খুলনার দৌলতপুর থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা কাজী মোস্তাক আহমেদ।

অনেকে প্রশ্ন করেছেন, খেলা নিয়ে এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে কেন?

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ না থাকার কারণেই এই ধরণের সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক জিনাত হুদা ওয়াহিদ।

"আমরা যারা পিছিয়ে পড়া মানুষ আছি, তাদের খেলাধূলা বা বিনোদনের জগতটা সেভাবে বিকশিত হয়নি। স্বয়ংসম্পূর্ণ তো নয়ই, প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানেও আমরা পৌঁছাতে পারিনি।"

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ধারার সুষ্ঠু বিকাশ ব্যাহত হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে দিন দিন বিদ্বেষমূলক মনোভাব তৈরি হচ্ছে।

"এক ধরণের রাজনৈতিক বিভাজন ও সংস্কৃতিতে যে না পাওয়ার হাহাকারগুলো আছে - সেই শূন্যতার বোধ থেকে এই ধরণের বিষয়গুলো উৎসরিত হয়," - বলছিলেন মিজ ওয়াহিদ।

জিনাত হুদা ওয়াহিদের মতে রাজনৈতিক দর্শন ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ সুষ্ঠভাবে না হওয়ায় মানুষের মনে সৃষ্ট অপ্রাপ্তি থেকে এই ধরণের উগ্র মনোভাব তৈরি হচ্ছে।

"আমরা স্বীকার করি আর না করি, বাংলাদেশ তার আদি রাজনৈতিক দর্শন, সামাজিক বন্ধন ও ধর্মীয় অনুশাসন থেকে বিচ্যুত হয়েছে।"

নাগরিকদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের অভাবও এর অন্যতম প্রধান কারণ বলে তিনি মনে করেন।

জাতীয়তাবোধের অভাব আমাদের ক্রীড়া,সংস্কৃতি, পোশাক-আশাক সব ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে।

সংস্কৃতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও সেসব ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের জন্য মানুষকে উৎসাহিত করলে দেশের নাগরিকদের মধ্যে একাত্ববোধ তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে মতপ্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন: