মেক্সিকোর ভক্তদের উল্লাস কি আসলেই সেদেশে ভূমিকম্প তৈরি করেছিল?

গোলের পর মেক্সিকোর সমর্থকদের উল্লাস।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, গোলের পর মেক্সিকোর সমর্থকদের উল্লাস।

মেক্সিকোর খেলোয়াড় হার্ভিং লোজানো যখন বিশ্বকাপে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে জার্মানির বিরুদ্ধে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন, ওই দলের সমর্থকরা তখন তাদের আনন্দ উল্লাস ধরে রাখতে পারেনি।

খেলার ৩৫ মিনিটের মাথায় বলটি যখন নেট স্পর্শ করে তখন ফুটবলপ্রেমীরা এমনভাবে লাফাতে শুরু করলো যে তাদের পদভারে কেঁপে উঠলো মেক্সিকোর মাটি। দেশটির কোন কোন সংবাদ মাধ্যমে এও বলা হলো, সমর্থকদের লাফালাফিতে দেশটিতে মৃদু ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু আসলেই কি এরকম হতে পারে?

দেশটিতে ভূমিকম্প নিয়ে যে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা, মনিটর ও জরিপ পরিচালনা করে, সেই ইন্সটিটিউট অফ জিওলজিক্যাল এন্ড এটমোসফেরিক ইনভেস্টিগেশন বলছে, সেসময় আসলেই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটির এক টুইট বার্তায় এরকমটাই দাবী করা হয়েছে: "রাশিয়ায় ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির বিরুদ্ধে মেক্সিকোর গোল করার পর উল্লাসের কারণে মেক্সিকো সিটিতে কৃত্রিম ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছে।"

নিচের ছবিতে ভূকম্পনের যে গ্রাফটি (সিসমোগ্রাম) তুলে ধরা হয়েছে তাতে লাল কালি দিয়ে ভূকম্পনের সময়টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে সিসমোমিটারের কাছে স্থানীয়ভাবে কী ধরনের ভূকম্পনের সৃষ্টি হয়েছিল।

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post

Presentational white space

আসলেই কী ঘটেছিল?

ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে গোল হওয়ার পর মেক্সিকোর সমর্থকরা যখন উল্লাস করতে শুরু করে তখন স্থানীয়ভাবে তাদের দুটো সিসমোমিটারে ভূকম্পনের মাত্রা ধরা পড়তে শুরু করে।

এই ইন্সটিটিউটের ব্লগে বলা হয়: "খেলার ৩৫ মিনিট সাত সেকেন্ডের সময় মেক্সিকো একটি গোল দিয়ে দেয়, তখন আমাদের মনিটিরং সিস্টেমে ভূকম্পনের একটি মাত্রা ধরা পড়ে। এই কম্পনের ত্বরণ ছিল ৩৭মি/এস২ যা মেক্সিকো সিটির ভেতরে কমপক্ষে দুটো সেন্সরে ধরা পড়ে। বড় ধরনের উল্লাসের কারণেই সম্ভবত এই কম্পনের সৃষ্টি হয়েছে।"

আরো পড়তে পারেন:

হার্ভিং লোজানো বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে তিনি জার্মানির বিরুদ্ধে গোল করে ফেলেছেন।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, হার্ভিং লোজানো বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে তিনি জার্মানির বিরুদ্ধে গোল করে ফেলেছেন।

তবে ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে "এধরনের কম্পন খুব একটা বড় ঘটনা নয়।"

তারা বলছেন, সমবেত সমর্থকরা যেখানে উল্লাস করছিল তার খুব কাছে অবস্থিত অত্যন্ত স্পর্শকাতর এসব যন্ত্রে এই কম্পন ধরা পড়ে।

যেসব জায়গায় ফুটবল ভক্তরা জড়ো হয়েছিল তার একটি রাজধানী মেক্সিকো সিটির এঞ্জেল অফ ইন্ডিপেন্ডেস ভাস্কর্য চত্বর যার খুব কাছেই আছে একটি সিসমোমিটার। এই যন্ত্রটিতেই সেসময়কার ভূকম্পনের মাত্রা ফুটে ওঠে।

এটা কি ভূমিকম্প ছিল নাকি ছিল না?

ইন্সটিটিউট অফ জিওলজিক্যাল এন্ড এটমোসফেরিক ইনভেস্টিগেশনের ব্লগে এটা পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হয়েছে এই কম্পন এতোটাই মৃদু যে তার সাধারণ লোকজনের পক্ষে অনুভব করা বা বুঝতে পারা সম্ভব নয়।

"এই ঘটনা কোন মাত্রা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। সেকারণে এটিকে ভূমিকম্প বলা যাবে না। যদি এটাকে ভূমিকম্প বলতে হয় তাহলে এর সাথে 'কৃত্রিম' শব্দটিও জুড়ে দিতে হবে। এটা যে ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক কারণে ঘটেনি সেটা পরিষ্কার করে দিতে হবে।"

আনন্দ উল্লাস কতোটা বেপরোয়া ছিল?

নিচের ছবিগুলো দেখে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন:

এঞ্জেল অফ ইন্ডিপেন্ডেস ভাস্কর্য চত্বরে একজন ভক্ত এভাবেই লাফ দিয়ে উপরে ওঠে যান।

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, এঞ্জেল অফ ইন্ডিপেন্ডেস ভাস্কর্য চত্বরে একজন ভক্ত এভাবেই লাফ দিয়ে উপরে ওঠে যান।
মেক্সিকো সিটির প্রধান চত্বর জোকালোতে সমর্থকদের উল্লাস।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, মেক্সিকো সিটির প্রধান চত্বর জোকালোতে সমর্থকদের উল্লাস।
শিশুরাও যোগ দেয় জয়ের উল্লাসে।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, শিশুরাও যোগ দেয় জয়ের উল্লাসে।

এরকম কি আগেও ঘটেছিল?

হ্যাঁ, হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে আমেরিকান এক ফুটবল টুর্নামেন্টের সময়। লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং অবার্নের ম্যাচের সময় লুইজিয়ানা যখন খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করে তখন টাইগার স্টেডিয়ামে এরকম ভূকম্পনের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞান বিভাগে স্থাপিত সিসমোমিটারে ধরা পড়েছিল এই ভূকম্পন। এরপর থেকে ওই ম্যাচটি পরিচিত হয়ে ওঠে "ভূমিকম্পের খেলা' হিসেবে।

অতি সম্প্রতি, ২০১৬ সালে নরিচের বিরুদ্ধে যখন লেস্টার সিটি শেষ মুহূর্তে গোল করে তখনও ইংল্যান্ডের মাটিতে এরকম কম্পনের সৃষ্টি হয়েছিল।