দুর্নীতি দমনে লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা চালু হচ্ছে কেনিয়ায়

কেনিয়ার সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের লাই ডিটেক্টর পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে, যার মাধ্যমে জানা যাবে তিনি মিথ্যে বলেছেন কি না।

আর তার মাধ্যমেই তাদের প্রমাণ করতে হবে যে কোন ধরনের দুর্নীতির সাথে তারা জড়িত নন।

প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা এই ঘোষণা করেছেন।

কেনিয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি রয়েছে।

এর সর্বসম্প্রতি ঘটনায় কেনিয়ার যুব সেবা দফতর থেকে দুর্নীতি করে সাত কোটি আশি লক্ষ ডলার সমপরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় সরকারের ৪০ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ভুয়া বিল জমা দিয়ে এবং এক ব্যক্তিকে একাধিকবার অর্থ প্রদান করে এই দুর্নীতি করা হয়েছে।

কেনিয়ার যুবসম্প্রদায়ের মধ্যে বেকারত্ব দূর করতে মি. কেনিয়াত্তা এই কর্মসূচি চালু করেছিলেন।

এখন এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর দুর্নীতি দমনে মি. কেনিয়াত্তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হবে।

আরো দেখুন:

লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা, যার অন্য নাম পলিগ্রাফ টেস্ট, এতে পরীক্ষাধীন ব্যক্তিকে নানা ধরনের প্রশ্ন করা হয়।

জবাব দেয়ার সময় তার দেহের রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন, নিশ্বাসপ্রশ্বাস এবং ত্বকের অবস্থা রেকর্ড করা হয়।

এবং ঐ ব্যক্তি মিথ্যে কথা বলছেন কি না, সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়।

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে এক ভাষণে মি. কেনিয়াত্তা বলেন, "দুর্নীতি আমাদের দেশকে সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করার আগে এবং আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখার স্বার্থে দুর্নীতিকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে।"

তিনি জানান, সরকারের সকল বিভাগ এবং সংস্থার প্রধান, এবং মন্ত্রণালয়ের ক্রয় ও হিসেব বিভাগের সকল কর্মকর্তাকে এই লাই ডিটেক্টর পরীক্ষায় বসতে হবে।

"এর মাধ্যমেই তার নৈতিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে," তিনি বলেন, "যারা এই পরীক্ষায় ফেল করবে, তাদের বরখাস্ত করা হবে।"