কেন ইরান চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেন ট্রাম্প - তিনটি কারণ

যুক্তরাষ্ট্র ইরান

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, ডোনাল্ড ট্রাম্প

একটা সময় ছিল, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ইরান চুক্তির এতটা বিরোধী ছিলেন না, তার ভোটারদের জন্যও এটা তেমন বড় কোন ইস্যু ছিল না।

কিন্তু পর্দার আড়ালে এ নিয়ে অনেক বার্তা বিনিময়ের পরই মি. ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাকে ঠেকানোর জন্য তার মিত্র পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা এবং আমেরিকার ভেতরের সমর্থকরাও - শেষ দিন পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছেন।

কিন্তু তারা সফল হন নি।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য ছ'টি দেশের সাথে তার যে চুক্তি হয়েছিল - মঙ্গলবার তা থেকে বেরিয়ে আসার কথা ঘোষণা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের উপর পারমাণবিক এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও ঘোষণা করেছেন । তবে একই সঙ্গে মি. ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নতুন করে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তৈরি আছেন।

তাই প্রশ্ন উঠছে, কেন এবং কিভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির এমন তীব্র বিরোধী হয়ে উঠলেন?

বিবিসির এ্যান্টনি জারকার বলছেন, এর মূলত তিনটি কারণ রয়েছে।

ওবামার উত্তরাধিকারকে উড়িয়ে দেয়া।

যুক্তরাষ্ট্র ইরান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ইরানের সাথে শক্তিধর দেশগুলেঅর আলোচনার সময় প্রতিনিধিরা

ইরান-চুক্তির বিরোধিতার ক্ষেত্রে মি. ট্রাম্প যেন একেক সময় ব্যাপারটাকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। ওই চুক্তির অন্যতম রূপকার তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একসময় নিয়মিত নানা রকম বিদ্রুপ করতেন মি ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট হবার পর থেকেই মি. ট্রাম্প তার পূর্বসুরীর বড় বড় অর্জনগুলোর প্রায় প্রতিটিকেই নস্যাৎ করতে উদ্যোগ নিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট হবার এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি ট্রান্স প্যাসিফিক বাণিজ্য আলোচনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। জুন মাসে তিনি ঘোষণা করেন, জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানোর প্যারিস চুক্তি থেকেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে আসতে চান। বারাক ওবামার সময় অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্য সুরক্ষাগুলোও তুলে নেন তিনি। আর ওবামার স্বাস্থ্য বীমা বাতিলের চেষ্টা তো আছেই, যদিও তা খুব একটা সফল হয় নি। এ ছাড়া কিউবার ওপর ভ্রমণ বিধিনিষেধও নতুন করে আরোপ করেন মি. ট্রাম্প।

এসবের পর ওবামা-যুগের একমাত্র বড় উত্তরাধিকার হিসেবে টিকে ছিল এই ইরান চুক্তি, এবার সেটাতেও হাত দিলেন মি. ট্রাম্প।

রক্ষণশীল ওয়েবসাইট দি ফেডারেলিস্ট-এ শন ডেভিস লিখেন, এখন ওবামার আসল উত্তরাধিকার হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া। মনে হচ্ছে, মি. ট্রাম্প ঠিক এটাই চান।

নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন

যুক্তরাষ্ট্র ইরান

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, মি ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দেয়া উপাত্তও অংশত ব্যবহার করেছেন

শুরুর দিকে মি. ট্রাম্প এ চুক্তিটাকে 'খারাপ' বললেও এটা থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলেন নি।

কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু, এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় কট্টর ইসরায়েলি পক্ষের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করার সময় থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান বদলাতে থাকে।

প্রেসিডেন্ট হবার পর মি ট্রাম্প মার্কিন দূতাবাসকে জেরুসালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার হুমকি দেন।

ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে তার নিন্দাও চলতে থাকে - এ ক্ষেত্রে কখনো কখনো তিনি মি. নেতানিয়াহুর তুলে ধরা তথ্য-উপাত্ত উদ্ধৃত করেন।

ট্রাম্পের কক্ষে নতুন সব মুখ

যুক্তরাষ্ট্র ইরান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, জন বোল্টন তার ইরানের ব্যাপারে কড়া নীতির জন্য সুপরিচিত

মি ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্ট হবার প্রথম বছরেই ইরান চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু জানা গেছে তার তখনকার সিনিয়র উপদেষ্টারা এটা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

এর মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার, এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস।

এর মধ্যে প্রথম দু'জনই বিদায় নিয়েছেন।

তাদের জায়গা নিয়েছেন মাইক পম্পিও এবং জন বোল্টন - যাদের মনে করা হয় ইরানের ব্যাপারে কট্টর নীতির সমর্থক।

টিকে আছেন কেবল মি. ম্যাটিস - তবে তার প্রভাব কমে গেছে বলেই মনে করা হয়।

ফলে ইরানের ব্যাপারে মি. ট্রাম্প বরাবরই যে অবিশ্বাস পোষণ করতেন - তার উৎসাহী সমর্থকদেরকেই এখন নিজের উপদেষ্টা হিসেবে পেয়ে গেছেন তিনি।

সুতরাং প্রেসিডেন্ট হবার ১৫ মাস পর বলা যায়, ঠিক তার পছন্দমত একটি পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তুলেছেন মি. ট্রাম্প।