বাংলাদেশে বজ্রপাত কখন কোথায় বেশি হচ্ছে?

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রপাতে রবিবার অন্তত প্রায় ১৬ জন মারা যাবার খবর পাওয়া গেছে।
চলতি মাসে এনিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু প্রায় ৫০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে বজ্রপাতে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে। বছরের এ সময়টিতে বৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে বজ্রপাতও হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তাওহিদা রশিদ বলছেন বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক আছে।
বজ্রপাত বাড়ার কারণ কী?
অধ্যাপক তাওহিদা রশিদ বলছেন বিজ্ঞানীরা অনেকে মনে করেন বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য এটা বেশি হচ্ছে তবে অনেক বিজ্ঞানীই আবার এ মতের সাথে একমত নন।
"তবে বাংলাদেশে আমরাও ভাবছি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই তাপমাত্রা বেড়েছে এবং এর কিছুটা হলেও প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশে দশমিক ৭৪ শতাংশ তাপমাত্রা বেড়েছে"।

ছবির উৎস, AFP
বজ্রপাত বিকেলে বেশি হয় কেনো?
তাওহিদা রশিদের মতে বজ্রপাতের ধরণই এমন। সকালের দিকে প্রচণ্ড তাপমাত্রা হয়। আর তখন এটি অনেক জলীয় বাষ্প তৈরি করে। এ জলীয় বাষ্পই বজ্র ঝড় ও বজ্রপাতের প্রধান শক্তি। তাপমাত্রা যত বাড়বে তখন জলীয় বাষ্প বা এ ধরণের শক্তিও তত বাড়বে।
তিনি বলেন, "জলীয় বাষ্প বেড়ে যাওয়া মানেই হলো ঝড়ের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া। বছরে এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ার কারণে ১২শতাংশ বজ্র ঝড় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এটি কোন কোন বিজ্ঞানী প্রমাণ করেছেন"।
প্রাণহানি এড়ানোর উপায় কী?
তাওহিদা রশিদ বলেন বজ্রপাত প্রকৃতির একটি বিষয় এবং এটি হবেই। তবে এতে প্রাণহানি কমানোর সুযোগ আছে।
"বজ্র ঝড় যখন শুরু হয় এর তিনটি ধাপ আছে। প্রথম থাপে বিদ্যুৎ চমকানি বা বজ্রপাত শুরু হয়না। প্রথমে মেঘটা তৈরি হতে থাকে এবং সে সময় আকাশের অবস্থা খুব ঘন কালো হয়না। একটু কালো মেঘের মতো তৈরি হয় । সামান্য বৃষ্টি ও হালকা বিদ্যুৎ চমকায়। আর তখনি মানুষকে সচেতন হওয়া উচিত"।
তিনি বলেন প্রতিটি দুর্যোগে একটি নির্দিষ্ট সময় আছে এবং সে সম্পর্কে প্রতিটি মানুষকে সচেতন করা উচিত।
"বাইরে থাকলে যখন দেখা যাবে আকাশ কালো হয়ে আসছে তখনি নিরাপদ জায়গায় যেতে হবে। এ সময়টিতে অন্তত আধঘণ্টা সময় পাওয়া যায়"?

ছবির উৎস, MAJORITY WORLD
কোন নির্দিষ্ট এলাকায় বর্জপাত বেশি হয়?
তাওহিদা রশিদ বলেন অঞ্চল ভেদে এটি কম বেশি হচ্ছে। বজ্রঝড় ও বজ্রপাত এপ্রিল ও মে মাসের কিছু সময় ধরে প্রতি বছরই হয়। এ বছর কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।
তার মতে বাংলাদেশের হাওড় অঞ্চলে বজ্রপাতের সংখ্যা বেশি।
"কারণ ওখানে হাওড়ের জন্য জলীয় বাষ্প বেশি হয়। সে কারণেই সিলেটের ওই অঞ্চলটিতে বর্জপাতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি"।
বজ্রপাত ঠেকাতে গাছ লাগানো উচিত কোথায়?
অধ্যাপক তাওহিদা রশিদ বলেন তালগাছের মতো গাছগুলো রোপণ করা উচিত খোলা মাঠে, তাহলেই এটি বেশি কাজে দেবে।
"কিন্তু কিছু প্রকল্পের অধীনে সেগুলো লাগানো হচ্ছে রাস্তার পার্শ্বে। এর ফলে বর্জপাত মানুষ বা গাড়ির ওপরই পড়বে"।
তিনি বলেন ঘন বনও বর্জপাতের জন্য ভালো, কারণ এটি তাপমাত্রাও কমায়। গ্রামে ছোট ছোট গাছের ঝোপ থাকলে লোকজন সেখানেও আশ্রয় নিতে পারে।








