বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কেন্দ্র

স্যাটেলাই থেকে তোলা পুঙ্গেরি পরমাণু কেন্দ্রের ছবি, ২০১৩ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারিতে তোলা

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, স্যাটেলাই থেকে তোলা পুঙ্গেরি পরমাণু কেন্দ্রের ছবি, ২০১৩ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারিতে তোলা

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার কেন্দ্রটি এই মে মাসেই বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের অফিস।

একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন পুঙ্গেরি নামের এই কেন্দ্রটি প্রকাশ্যে বন্ধ করা হবে। এটি প্রত্যক্ষ করতে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরমাণু পরীক্ষার এই কেন্দ্রটি গত সেপ্টেম্বর মাসেই হয়তো আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হযেছে।

গত শুক্রবারই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-আন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন তাদের ঐতিহাসিক বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু-মুক্ত করার ঘোষণা দেন।

পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কয়েক মাসের বাগযুদ্ধের পর দুই নেতার মধ্যে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকদিন আগেও এরকম একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা ছিল অকল্পনীয়।

শুধু তাই নয়, আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথেও কিম জং-আনের বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কী বলেছে দক্ষিণ কোরিয়া?

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র উন ইয়ং-চ্যান বলেছেন, মি. কিম জানিয়েছেন যে তিনি এই 'মে মাসেই দেশটির পরমাণু পরীক্ষার কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেবেন।'

তিনি জানান, এই কাজটি স্বচ্ছতার সাথে করার ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার নেতা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এমনকি তিনি এসময় দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও বলেছেন।

আরো পড়তে পারেন:

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে এও বলা হয়েছে যে উত্তর কোরিয়া তার ঘড়িতে সময়ের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। বর্তমানে দক্ষিণের সাথে সময়ের তফাৎ আধা ঘণ্টা। এখন দুটো দেশের মধ্যে ঘড়ির সময়ও একই করা হচ্ছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন।

তবে এসব বিষয়ে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোন মন্তব্য করেনি।

পরমাণু কেন্দ্রটি সম্পর্কে কী জানা যায়?

উত্তর কোরিয়ার উত্তর-পূর্বে পাহাড়ি এলাকায় এই পরমাণু কেন্দ্রটি অবস্থিত। ধারণা করা হয় এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় পরমাণু স্থাপনা।

সেখানে পুঙ্গেরি কেন্দ্রের কাছে মাউন্ট মান্তাপের নিচে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে বিভিন্ন সময়ে পরমাণু পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

পরমাণু স্থাপনা

ছবির উৎস, CNES - NATIONAL CENTRE FOR SPACE STUDIES VIA AIRB

ছবির ক্যাপশান, পরমাণু স্থাপনা

২০০৬ সালের পর থেকে এখানে ছ'টি পরমাণু পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

সবশেষ পরীক্ষাটি চালানো হয় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। তারপর সেখানে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্প বিশারদদের অনেকে মনে করেন, এর ফলে পাহাড়ের ভেতরে নির্মিত কিছু অবকাঠামো হয়তো ভেঙে পড়েছে।

কিন্তু এসব খবর উত্তর কোরিয়ার নেতা অস্বীকার করেছেন বলে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বার্তা সংস্থা ইওনহ্যাপ জানিয়েছে।

"অনেকে বলছেন, আমরা এই কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিচ্ছি কারণ এটি নাকি ঠিকমতো কাজ করছে না। কিন্তু আপনারা দেখতে পাবেন যে এটি কতোটা ভালো অবস্থায় রয়েছে," উত্তর কোরিয়ার নেতাকে উদ্ধৃত করে এই কথাটি বলেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্র মি. ইউন।

সাধারণত স্যাটেলাইটের সাহায্যে তোলা ছবি দিয়ে এই পরমাণু কেন্দ্রটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেখানে যেসব যন্ত্রপাতি আনা নেওয়া করা হয় সেগুলোর উপরেও নজর রাখা হয় স্যাটেলাইট থেকে।

তৈরি হচ্ছে আস্থা

বিবিসি কোরিয়া সংবাদদাতা লরা বিকার বলছেন, কিম জং-আনের এই ঘোষণা আরো একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।

ইতোমধ্যেই তিনি ঘোষণা করেছেন যে তারা পুঙ্গেরি কেন্দ্র বন্ধ করে দিচ্ছেন। এবং এখন তিনি বলছেন যে এই কাজটা প্রকাশ্যে সবার উপস্থিতিতে করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমের লোকজনকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে এই অনুষ্ঠানে।

তিনি এও বলেছেন, তিনি যখন দেখেন যে দুই কোরিয়ার ঘড়িতে দুই রকম সময় তিনি খুব কষ্ট পান। এখন তিনি দক্ষিণের ঘড়ির সাথে সময় মিলিয়ে নেওয়ার কথাও বলেছেন।