ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আট বছরের মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে বিক্ষোভ

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে বিক্ষোভ

ভারতের দুটি শিশু ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা এবং রাজনীতিকদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠার পর এর বিরুদ্ধে শুক্রবার দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ হচ্ছে।

এর মধ্যে আট বছরের এক মুসলিম মেয়েকে অপহরণের পর ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে হিন্দু মন্দিরের ভেতর ধর্ষণের একটি ঘটনা ঘটে কাশ্মীরে।

এই ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্যসহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অপর এক ঘটনায় উত্তর প্রদেশে ১৬ বছরের এক মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়। ক্ষমতাসীন বিজেপির এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে এই মেয়েটিকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

কাশ্মীরে আট বছর বয়সী শিশু কন্যাটির (ভারতীয় আদালত তার নাম পরিচয় প্রকাশ না করার আদেশ দিয়েছে) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিলো ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কাঠুয়া শহরে ১৭ই জানুয়ারি, একটি জঙ্গলের ভেতরে।

কিন্তু এই ধর্ষণের খবর সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়ে উঠে এসপ্তাহে। কিন্তু ভিন্ন কারণে।

শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে হিন্দুত্ববাদী গ্রুপগুলো রাস্তায় নেমে আসার পর এটি খবর হিসেবে উঠে আসে পত্রিকার পাতায়।

তারপর ধর্মীয় উত্তেজনারও সৃষ্টি হতে শুরু করে।

ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ যে আট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে তাদের মধ্যে রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি এক কর্মকর্তা, চারজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন অল্পবয়সী- তারা সবাই স্থানীয় একটি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য।

আরো পড়ুন:

জম্মুর যাযাবর সম্প্রদায়

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, জম্মুর যাযাবর সম্প্রদায়

মুসলিম একটি যাযাবর গোষ্ঠীর সাথে এই হিন্দু সমাজের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

কিন্তু অভিযুক্তদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আয়োজিত সভা সমাবেশে ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির দুজন মন্ত্রী অংশ নিলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর প্রতিবাদে হ্যাশট্যাগ দিয়ে আন্দোলন শুরু হয়।

টুইটারে কেউ কেউ এই শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাকে দিল্লিতে মেডিকেলের ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার সাথে তুলনা করতে থাকেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা মনে করছেন, যাযাবর মুসলিমদেরকে জম্মু থেকে তাড়িয়ে দিতে তাদের ওই কন্যাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে।

ভারতে বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রধান রাহুল গান্ধী এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে মোমবাতি হাতে নিয়ে আয়োজিত এক মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রতিবাদ আন্দোলন আরো কয়েকিদন ধরে অব্যাহত থাকবে। দিল্লিতে নারী বিষয়ক কমিশনের প্রধান বলেছেন, নারীদের নিরাপত্তার দাবিতে শুক্রবার থেকে তিনি অনশন কর্মসূচি শুরু করবেন।