ভারতে ট্রেনের চাকরির জন্য পিএইচডি ডিগ্রীধারীও মরীয়া কেন?

ভারত, বেকারত্ব, রেল

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, ভারতের রেলবিভাগের বিভিন্ন পদের চাকরির জন্য আবেদন করেছেন পিএইচডি ডিগ্রীধারীরাও।

সম্প্রতি ভারতের রেল-বিভাগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলে কোটি কোটি আবেদন জমা পড়েছে। আরও প্রচুর দরখাস্ত আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ চাকরির আবেদনের সময় শেষ হবে শনিবার।

পদগুলো মূলত, রেলওয়ে পুলিশ, লোকোমোটিভ চালক এবং টেকনিশিয়ান-এর। সেজন্য অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া হবে। বেকারত্ব ভারতের জন্য বিশাল এক সমস্যা এবং কোটি মানুষ কাজ পাচ্ছেনা।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই ধরনের মাঝারি এবং নিচু সারির কাজের জন্য এত বেশি লোকের সাড়া পেয়ে তারা বিস্মিত।

রেলের একজন কর্মকর্তা স্থানীয় পত্রিকাকে বলেন, "চাকরি প্রার্থী অনেকেই অতিরিক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন। এমনকি পিএইচডি ডিগ্রীধারীরাও টেকনিশিয়ানের চাকরির জন্য দরখাস্ত করেছেন।"

সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, কেবল টেকনিশিয়ান এবং লোকোমোটিভ চালক হিসেবে কাজ করার জন্য ৫০ লাখের বেশি মানুষ আবেদন জমা দিয়েছেন।

ভারত, বেকারত্ব, রেল

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বিশাল রেল নেটওয়ার্ক ভারতে।

ভারতের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক বিশ্বের অন্যতম বিশাল নেটওয়ার্ক যেখানে দৈনিক দুই কোটি ত্রিশ লাখ লোক রেলে যাতায়াত করেন। আর রেলে বিভিন্ন বিভাগে কাজ করেন ১০ লাখের বেশি।

বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে যেসব সংস্থার তার মধ্যে ভারতে রেল-বিভাগ তার অন্যতম।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেই কাজের জন্য মরীয়া আবেদনকারীর সংখ্যা যে কত ব্যাপক সেটি স্পষ্ট হয় এর আগের বিভিন্ন নজির থেকে।

২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশে নিম্ন-সারির ৩৬৮টি সরকারি পদের জন্য আবেদন পড়েছিল কুড়ি লাখের বেশি।

সেই একইবছর দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বিশাখাপত্তমে সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগ দেয়ার জন্য মানুষের ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে অনেকেই আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

২০১০ সালে মুম্বাইতে পুলিশের চাকরিতে যোগ দিতে হাজার দশেক মানুষ হাজির হলে সংঘর্ষে একজন নিহত হয় এবং ১১ জন আহত হয়।

১৯৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে ২৮১টি পদের জন্য বিজ্ঞাপন দিলে লাখ লাখ মানুষের আবেদন জমা পড়তে থাকে।

আরও পড়ুন: