জলবায়ু পরিবর্তনে পুরুষদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারীরা

পাকিস্তানের একটি বন্যার ছবি, যেখানে বন্যায় বাস্তুচ্যুত মানুষজনের বেশিরভাগই নারী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পাকিস্তানের একটি বন্যার ছবি, যেখানে বন্যায় বাস্তুচ্যুত মানুষজনের বেশিরভাগই নারী

জলবায়ু পরিবর্তনে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে সম্প্রতি একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে।

জাতিসংঘের গবেষণা বলছে, জলবায়ুর পরিবর্তনে যে মানুষজন বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তাদের আশি শতাংশই নারী।

পরিবারের সদস্যদের যত্ন আর খাবারের মতো দায়িত্ব তারা নেয়ায় বন্যা এবং খরায় তারা আরো বেশি সংকটে পড়েন।

আরো পড়ুন:

এ কারণে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে এই নারীদের ক্ষমতায়নের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

উদাহরণ হিসাবে বলা হয়েছে, মধ্য আফ্রিকায় লেক চাদের ৯০ শতাংশ শুকিয়ে যাওয়ায় সেখানকার নারীরা ভয়ানক বিপদে পড়েছে। নারীদের এখন অনেক বেশি কষ্ট করে পানি সংগ্রহ করতে যেতে হয়।

লেক চাদ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, লেক চাদ শুকিয়ে যাওয়ায় পানির জন্য সেখানকার নারীদের এখন অনেক বেশি কষ্ট করতে হয়

গবেষণায় জানা যাচ্ছে, এটা শুধুমাত্র প্রান্তিক এলাকার লোকজনের সমস্যাই নয়। সারা বিশ্বেই নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম ক্ষমতা ভোগ করছেন এবং বেশি দারিদ্রের মুখোমুখি হচ্ছেন। চাকরি, আশ্রয় বা অবকাঠামোর অভাব দুর্যোগ এই নারীদের আরো বিপদে ঠেলে দেয়।

অক্সফামের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৪ সালের সুনামির পর যেখানে তিনজন পুরুষের বিপরীতে একজন নারী রক্ষা পেয়েছেন। কারণ জানা না গেলেও, সারা বিশ্বেই একই ধরণের উদাহরণ দেখা গেছে।

ফলে সারা বিশ্বেই জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষেত্রে সরকারি বেসরকারিভাবে নারীদের আরো অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

পরিবেশ বিজ্ঞানী ডায়ানা লিভারম্যান বলছেন, ''বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাই এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যাতে সব বড় সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণ থাকে।''

''কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ক্ষমতার কোন লড়াই নয়, এটা টিকে থাকার লড়াই।''

আরো পড়ুন: