শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন: কী ভাবছে বিএনপির তৃণমূল?

বিএনপি

ছবির উৎস, BBC

ছবির ক্যাপশান, বিগত নির্বাচনগুলোতে বিএনপির অবস্থান
    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ সরকারের যে দাবী বিএনপি তুলেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে সেটি নাকচ করে দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারই যে নির্বাচনের সময় ক্ষমতায় থাকবে সে কথা পরিষ্কার করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এমন প্রেক্ষাপটে আসছে সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান কী হবে সেটি নিয়ে দলটির নেতাদের মাঝে আলোচনা বেশ জোরালো চলছে।

মাঠ পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের মাঝে নির্বাচন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা কী? বিষয়টি দেখতে প্রথমে গিয়েছিলাম মুন্সিগঞ্জ।

১৯৯১ সাল থেকে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মুন্সিগঞ্জ জেলায় বিএনপির শক্ত অবস্থান আছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনের অংশগ্রহণ না করার সঠিক ছিল কিনা সেটির নিয়ে দলটির অনেক নেতা-কর্মীর মাঝেই ভিন্নমত আছে।

কিন্তু অতীত নিয়ে তারা এখন আর খুব বেশি চিন্তা করছেন না। তাদের লক্ষ্য ২০১৮ সালের নির্বাচন।

মুন্সিগঞ্জ জেলার বিএনপি নেতারা মনে করেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা তাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে সে সম্ভাবনা একেবারেই নেই বলে তাদের ধারণা।

মুন্সিগঞ্জ জেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে যদি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সে নির্বাচনে বিএনপি'র অংশ নেয়া ঠিক হবে না।

মি: কামাল বলেন, "আওয়ামী লীগের অধিনে নির্বাচনে গেলে বিএনপি সে নির্বাচনে কোনভাবেই ভালো করতে পারবে না।"

মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক, বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন, মুন্সিগঞ্জ
ছবির ক্যাপশান, মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক, বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন, মুন্সিগঞ্জ

আরো দেখুন:

তবে নিরপেক্ষ সরকারের দাবীতে এখনই আন্দোলনে নামতে চায় না মুন্সিগঞ্জ জেলার বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

সরকারের মনোভাবে কোন পরিবর্তন হয় কিনা সেদিকে তারা দৃষ্টি রাখছেন।

মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপি'র একজন সদস্য আব্দুল আজিজ মনে করেন, নির্বাচন নিয়ে শেষ পর্যন্ত সরকার ও বিএনপির মধ্যে হয়তো কোন সমঝোতা হতে পারে।

নির্বাচনে অংশ নেবার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে বিএনপি'র নেতা-কর্মীরা বেশ উদগ্রীব।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের মনোভাব যাচাই করতে মুন্সিগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইল গিয়েছিলাম। বাংলাদেশের যেসব জেলায় সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন আছে টাঙ্গাইল তার মধ্যে অন্যতম।

এ জেলায় আটটি সংসদীয় আসন আছে।

আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে এখানকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফরহাদ

ছবির উৎস, BBC

ছবির ক্যাপশান, ফরহাদ ইকবাল, সাধারন সম্পাদক, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি

কিন্তু তারা মনে করেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় নির্বাচন করলে বিএনপি সে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে না।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, "শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করা হাত-পা বেঁধে নদীতে ঝাঁপ দেবার শামিল।"

একই কথা বলছেন টাঙ্গাইল জেলার অন্য বিএনপি নেতারা। সে জেলায় বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহর ধারণা শেখ হাসিনার অধীনে যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে সেটি হবে 'আত্মহত্যার সমান'।

নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভাবনা যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কী ভাবছেন সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, তাদের দাবী না মানলে আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে হবে না।

মোশারফ হোসেন

ছবির উৎস, BBC

ছবির ক্যাপশান, খন্দকার মোশারফ হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

বিএনপি'র সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থানীয় কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতেই হবে। এর বাইরে বিকল্প কিছু ভাবছে না দলটি।

"আমরা দেড় বছর আগে আমাদের প্রস্তাব পরিষ্কার করেছি। যাতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বলতে না পারেন যে এটা আরেকটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। এখানে আমাদের নতুন চিন্তা-ভাবনার কোন সুযোগ নেই," জানিয়েছেন খন্দকার মোশারফ হোসেন।

বাংলাদেশের রাজনীতির একজন পর্যবেক্ষক দিলারা চৌধুরী মনে করেন, আসছে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ বেশ জটিল হয়ে উঠছে।

নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলে বিএনপি যে দাবী তুলেছে এর বাইরে দলটির সামনে কি আর ভিন্ন কোন পথ খোলা আছে?

তিনি বলেন, "নির্বাচনে না গেলেও তাদের ক্ষতি হবে আবার শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে বিএনপি সুবিধা করতে পারবে না।"

বিএনপি মনে করছে এখনো নির্বাচনের সে পথ বাকি আছে তাতে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি।

যত দিন ঘনিয়ে আসবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে এবং সেটি তাদের পক্ষে আসবে বলে দলটির ধারণা।