আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
'যেভাবে আমার সন্তানের বাবাকে খুঁজে পেয়েছিলাম ইন্টারনেটে'
দশ মাস আগে একটি সন্তানের মা হওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিলেন লন্ডনের বাসিন্দা ৩০ বছরের জেসিকা। তার এর আগে বেশ কয়েকটি সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে। আর তাই এবার তিনি সন্তানের বাবা খোঁজার জন্য নতুন একটি পন্থা বের করলেন।
তিনি ইন্টারনেটে পুরনো জিনিসপত্র কেনাবেচার একটি ওয়েবসাইটে সন্তানের সন্তানের পিতা খুঁজতে বিজ্ঞাপন দিলেন।
বিজ্ঞাপনটি এমন, 'নিরাপদ, অরক্ষিত সন্তান জন্মদান। আমার বয়স ৩০ এবং ভালোমন্দ নিয়ে ভাবছি না। আমি একটি সন্তান চাই।'
সম্ভাব্য পিতার উচ্চতা হওয়া উচিত ৫ ফিট ৯ ইঞ্চি। বয়স হবে চল্লিশের নীচে আর যৌন বাহিত রোগ আছে কিনা, তার পরীক্ষা দিতে হবে এবং তাকে নিয়মিত যৌনমিলন করতে হবে।
জেসিকা বলছেন, ''আমাদের দাদা-দাদীরা তাদের জীবনসঙ্গী বাছাই করার জন্য এত সময় লাগাতেন না। বরং একটি পরিবার তৈরি করাই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।''
জেসিকা দেখতে পেয়েছেন, তার অনেক বন্ধু গভীর ভালোবাসা নিয়ে তাদের জীবন শুরু করেছিল, কিন্তু পরে ঝগড়াঝাঁটির মধ্য দিয়ে তারা আলাদা হয়ে গেছে।
''তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি আমার ভালোবাসার চাহিদাকে ততদিন পর্যন্ত বাদ দেবো, যতদিন না একজন তারা একজন যত্নবান বাবা-মা খুঁজে পান।''
আরো পড়তে পারেন:
মধ্য লন্ডন থেকে বাসে ওঠার সময় তিনি ক্রেগসলিস্ট নামের ওই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনটি পোস্ট করেন। যখন তিনি অক্সফোর্ড স্ট্রিটে এসে তার কাজের জায়গায় নামেন, ততক্ষণে তিনি বেশ কয়েকটি সাড়াও পেয়েছেন।
এর আগে ডেভিড নামের একজনের সঙ্গে একটা দীর্ঘ সম্পর্ক হয়েছিল জেসিকার। ডেভিডও সন্তান নিতে চাইলেও, তার সন্তান জন্ম দেয়ার পুরোপুরি ক্ষমতা ছিল না। চিকিৎসকরা দাতাদের শুক্রাণু নিয়ে গর্ভধারণের জন্য জেসিকাকে পরামর্শ দেন।
কিন্তু সেটা তার কাছে খুব ভালো পরামর্শ মনে হয়নি। ''যেখানে নীচের পাবে নেমেই আমি বিনা পয়সায় শুক্রাণু পেতে পারি, সেখানে কেন আমি ৭০০ পাউন্ড খরচ করতে যাবো।'' এমনটাই ভেবেছিলেন জেসিকা।
যারা জেসিকার এই বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন সমকামী দম্পতিও রয়েছে। কেউ কেউ আবার তার যৌনাঙ্গের ছবি তুলে পাঠিয়েছিল, কেউ কেউ দাবি করেছিল যে, তারা এরকম আরো কয়েকজন নারীকে মা হতে সাহায্য করেছে।
একদিন জেসিকা রসের একটি ইমেইল পান। তার বয়স ৩৩, লন্ডনে থাকেন। তিনি লিখেছেন, তার কয়েকটি বিপর্যয়কর সম্পর্ক হয়েছিল। কিন্তু তিনি চাচা হতে যেমন ভালোবাসেন, তার একটি সন্তানের আকাঙ্ক্ষাও রয়েছে।
একদিন বিকালে তার সঙ্গে পানাহার করতে যান জেসিকা।
প্রথম দেখায় মনে হয়, তার চেহারা তার ছবির চেয়েও সুন্দর। তারা বুঝতে পারেন, তাদের ধর্মবিশ্বাসে ভেদ রয়েছে, কিন্তু অন্য আরো অনেক লন্ডনের বাসিন্দার মতো এটি তারা বাদ দেন।
প্রথম দেখার শেষে বিদায় নেয়ার সময় পরস্পরকে চুম্বন করেন জেসিকা এবং রস।
কয়েকদিন পর তারা একসঙ্গে রাতের খাবার খান এবং যৌন বাহিত রোগের বিষয়টি পরীক্ষা করান।
চারবারের দেখা হওয়ার সময় তারা যৌন মিলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
''এটা ছিল চমৎকার''। জেসিকা বলছেন। ''আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আমরা একটি সন্তানের জন্য চেষ্টা করবো। হয়তো তাতে কিছুটা সময়ও লাগবে।''
কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গর্ভধারণের বিষয়ে পজিটিভ ফলাফল পান জেসিকা। ''আমার বিজ্ঞাপন দেয়ার ছয় সপ্তাহের মধ্যেই আমি গর্ভধারণ করেছি। এতটা আমি আশা করিনি।''
তাদের মধ্যে কোন লিখিত চুক্তি ছিল না, কিন্তু তারা দুজনেই সিদ্ধান্ত নিলেন যে, তারা আর অন্য কারো সঙ্গে মিলিত হবেন না।
যদিও এটাকে পুরোপুরি ভালোবাসা বলে বর্ণনা করতে চান না জেসিকা।
গর্ভধারণের পুরো সময়টা জেসিকাকে নানাভাবে সঙ্গ দিয়েছেন রস। হাসপাতালে নিয়ে গেছেন, আলট্রাসাউন্ড ছবি হাতে নেয়া নিয়ে ঝগড়া করেছেন। একসময় জেসিকা বুঝতে শুরু করেন যে, তিনি রসকে ভালবাসতে শুরু করেছেন। কিন্তু তার আশংকা ছিল, হয়তো রসের সব যত্ন তার সন্তানের জন্যই, হয়তো জেসিকা আসল লক্ষ্য নয়।
শিশুটির জন্মের দুই মাস আগে জেসিকার অ্যাপার্টমেন্টে উঠে আসেন রস। তখন দুজন আরো ভালোভাবে দুজনকে বুঝতে শুরু করলেন। দুজন দুজনের নতুন নতুন দিক আবিষ্কার করতে শুরু করলেন।
একসময় জেসিকা অনুভব করতে শুরু করেন, রস বাড়িতে ফিরলে তার ভালো লাগে, একত্রে রাতের খাবার খেতেও তাদের ভালো লাগে।
এখন এই যুগল একবছরের বেশি সময় ধরে একত্রে থাকছেন। আরো একটি সন্তান নেয়ার পরিকল্পনাও শুরু করেছেন তারা।
শুধুমাত্র সন্তানের পিতা খোঁজার জন্য ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন জেসিকা। কিন্তু তিনি একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন।
অন্য রকম একটি পদ্ধতিতে নিজের পরিবার শুরু করেছিলেন জেসিকা। আর সেজন্য তার এখন ভালোই লাগে।
(সংবাদটিতে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে)
বিবিসি বাংলার আরো খবর: