পুরোনো মডেলের আইফোন কেন স্লো করে দিচ্ছে অ্যাপল?

আইফোন কেন ইচ্ছে করে স্লো করে দিচ্ছে অ্যাপল কোম্পানি?

অ্যাপল কোম্পানি ইচ্ছে করে পুরোনো মডেলের আইফোন স্নো করে দিচ্ছে যাতে লোকে নতুন মডেল কিনতে বাধ্য হয় - এমন অভিযোগ ওঠার পর আইফোন দু:খ প্রকাশ করেছে।

আইফোন ব্যবহারকারীরা হঠাৎ করেই তাদের ফোন হঠাৎ করে স্লো হয়ে যাচ্ছে বা ধীরগতিতে কাজ করছে - এমন অভিযোগ ওঠার পর আইফোন নির্মাতা অ্যাপল কোম্পানি কয়েকদিন আগে স্বীকার করেছে যে হ্যাঁ, তারা ইচ্ছে করেই পুরোনো মডেলের আইফোন স্নো করে দিচ্ছে।

কারণ তারা বলছে এর ব্যাটারি বেশি পুরোনো হয়ে গেলে ফোনটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তার পক্ষে আর আগের মতো দ্রুতগতিতে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সান ফ্রান্সিসকোর একজন আইফোন ব্যবহার কারী বলছিলেন - "এতে কি অবাক হবার কিছু আছে? বোঝাই যায়, নতুন মডেলের পণ্য কেনানোর জন্য এটা একটা কৌশল।"

ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলছেন, এ কথা আপল কোম্পানি আগে থেকে জানালো না কেন? অনেকে সন্দেহ করছেন তারা পুরোনো ফোন স্লো করে দিচ্ছে এই জন্য যাতে লোকে নতুন মডেলের ফোন কিনতে বাধ্য হয়।

এ অভিযোগ ওঠার পর হৈচৈ শুরু হলে শেষ পর্যন্ত আইফোন নির্মাতা এ্যাপল কোম্পানি দু:খ প্রকাশ করেছে।

প্রযুক্তি সংক্রান্ত সাংবাদিক রুপার্ট গুডউইন বলছেন, "এ্যাপল এখন পরিষ্কার করেছে যে তারা এটা করছে যাতে আপনার ফোন দীর্ঘ সময় চালু থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য। প্রকৌশলগত দিক থেকে এ কথা ঠিক আছে। কিন্তু কথাটা হলো ব্যাটারি কমে গেলে আমরা কি ফোনের কাজ সীমিত করে দেবো নাকি একটা নতুন ব্যাটারি নেবো?"

"এ্যাপল যে ভুলটা করেছে হলো তারা ব্যাপারটা আগে বলে নি, লোকে জিনিসটা ধরে ফেলার পরই তারা স্বীকার করেছে। তারা যদি কোনভাবে জানিয়ে দিতো যে আপনার ফোনের ব্যাটারির ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, তাই আপনি সিদ্ধান্ত নিন যে আপনি নতুন ব্যাটারি কিনবেন, নাকি আপনার ফোনকে সচল রাখতে এটাকে স্লো করে দেয়াটা মেনে নেবেন। এটা স্পষ্টভাবে আগে থেকে না বলাটা তাদের ভুল হয়েছে।"

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জন পুল বলছেন, পুরোনো আইফোন যদি স্লো হয়ে যায় তাহলে তাতে নতুন ব্যাটারি লাগালেই তা আবার আগের মতই কাজ করবে।

ব্যাটারি পুরোনো হয়ে গেলে তার ফোনটিতে শক্তি যোগানোর ক্ষমতা কমে যায়। এই ক্ষমতা একটা সীমার নিচে নেমে গেলে এ্যাপল প্রসেসরের কর্মক্ষমতা সীমিত করে দেয় - যাতে ফোনটা দীর্ঘসময় চালু থাকতে পারে। কারো ফোন এরকম স্লো হয়ে গেলে তার নতুন ফোন না কিনে বরং একটা নতুন ব্যাটারি কিনলেই অর্থের সাশ্রয় হবে।

এ্যাপল নতুন ব্যাটারির দামও প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে এই কেলেংকারির পর।

সুতরাং যদি আপনি দেখতে পার যে আপনার আই ফোনের গতি ধীর হয়ে গেছে - তার সমাধান হলো এতে একটা নতুন লিখিয়াম ব্যাটারি লাগানো।

টি-সেলকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সারের চিকিৎসার নতুন পদ্ধতি

ক্যান্সারের চিকিৎসার এক সম্পূর্ণ নতুন ধরণের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা - যার মূল কথা হলো: মানুষের দেহের নিজস্ব যে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে তাকেই ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংসের কাজে লাগানো।

এ পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা এর মধ্যেই শুরু হয়েছে।

ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে নামের ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক চার্লস সোয়ানটন বলছিলেন, কেন তারা এই নতুন পদ্ধতি বের করার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, মানুষের দেহের যে নিজস্ব রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা - তা প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একেবারেই নিজস্ব। লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে আমাদের এই ইম্মিউন সিস্টেম এমন ক্ষমতা অর্জন করেছে - যাতে তারা স্বাভাবিক দেহকোষকে বাদ দিয়ে শুধু ব্যকটেরিয়া এবং ভাইরাসকে চিনতে পারে এবং তাকে আক্রমণ করতে পারে।

ইংল্যান্ডের এ্যাবিংডনে ইমিউনোকোর হচ্ছে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান - যারা ইমিউনো থেরাপি ব্যবহার করে কিভাবে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায় তার গবেষণা করছে।

এজন্য তারা ব্যবহার করছে টি-সেল রিসেপটর বা টিসিআর প্রযুক্তি। ইমিউনোকোরের ইভা-লোট্টা এ্যালেন বলছেন, কি ভাবে তাদের পদ্ধতিটা কাজ করবে।

তিনি বলছেন, আমাদের সবার দেহেই টি সেল বলে একটা জিনিস আছে। একে বলে রক্তের শ্বেত কণিকা। এই সেলগুলোর একটা ক্ষমতা আছে দেহের ভেতরে বাইরের বা অচেনা কোন কিছু ঢুকলেই তাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করার। ক্যান্সার সেলও দেহের স্বাভাবিক কোষ নয়, তাই তাকেও আক্রমণ করে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে টি-সেল সাহায্য করতে পারে।"

"আমরা এমন একটা ওষুধ তৈরি করেছি যার প্রতিটি অণুর দুটো অংশ আছে। এর একটা অংশ ক্যান্সার সেলের সাথে আটকে যায় আর অন্য প্রান্তটা একটা সংকেতের মাধ্যমে টি-সেলকে তার দিকে আকর্ষণ করতে থাকে। তখন টি সেলগুলো এসে ওই ওষুধের অণুর সাথে যুক্ত হয় এবং ক্যান্সার সেল-শুদ্ধ তাকে ধ্বংস করে দেয়।

ইভা-লোট্টা এ্যালেন বলছেন, আমরা এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের একটা পর্যায়ের কাজ করছি। কাজটা হচ্ছে মানুষের চোখে খুবই বিরল একধরণের ক্যান্সার হয় - তার ওপর। এটা খুবই আক্রমণাত্মক এক ধরণের ক্যান্সার, এবং খুব দ্রুত লিভারে বা যকৃতে ছড়িয়ে পড়ে। এখন ক্যান্সারের যেসব ওষুধ আছে তার কোনটাই এ ক্ষেত্রে কাজ করে না।

কে ব্লেক হচ্ছেন ক্যান্সার রোগিদের মধ্যে কাজ করে এমন একটি গ্রুপের সদস্য। তিনি বলছেন, এই নতুন পদ্ধতি ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে নতুন আশার জন্ম দেবে।

তিনি বলছেন, এখানে যদি আমরা একটা নিরাময়ের উপায় বের করতে পারি তা হবে বৈপ্লবিক। কারণ যদি আপনার এরকম বিরল এবং বিপজ্জনক ধরণের ক্যান্সার হয় - তার পরও আপনার মনে হবে যে না, আমার একটা আশা আছে।

ইমিউনোকোর এ পর্যন্ত ১৩০ জন রোগীর চিকিৎসা করেছে। এর প্রাথমিক ফল ইতিবাচক।

তবে বাজারে ছাড়ার মতো একটি ওষূধ তৈরি করতে এখনো কয়েক বছর লাগবে।

কারণ ল্যাবরেটরিতে একটি ওষুধ তৈরি করা থেকে তা বাজারে নিয়ে আসা একটি সময়সাপেক্ষ এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। যেমনটা বলছিলেন অধ্যাপক সোয়ানটন।

"এই চিকিৎসাপদ্ধতি বের করার যে খরচ - তা কোটি কোটি ডলারের ব্যাপার। এখানে এমন কি এটা একশ ডলার বা পাউন্ড পর্যন্তও উঠতে পারে। বিনিয়োগকারীদের সমর্থন ও সহযোগিতা খুবই দরকার। যার ফলে ল্যাবরেটরির আবিষ্কারটিকে বাস্তব দুনিয়ায় সাধারণ মানুষের হাতে নাগালে নিয়ে আসা যায়।"

একটি কোম্পানি ইতিমধ্যেই একই ধরণের প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের ওষুধের অনুমোদন পেয়েছে - যেটা হলো নোভার্টিস।

তারা এআরটি নামে একটি ইমিউনোথেরাপি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে যা বিশেষত শিশুদের লিম্পোব্লাটিস্টক লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় কাজে লাগবে। এই চিকিৎসা এখন খরচ হয় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলার, এবং আমেরিকার কিছু ক্লিনিকে এটা করা হচ্ছে।

ড. সোয়ানটন বলছেন, তারা নিশ্চিত যে আগামী দু দশকে আমার এমন সব ক্যান্সারের চিকিৎসায় অগ্রগতি দেখতে পাবো - যার চিকিৎসা সম্ভব এমনটা কেউ কল্পনাও করতেন না।

ক্যান্সার আছে প্রায় ২০০ রকমের এ কারণে এর চিকিৎসা খুবই কঠিন।

ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসা এখনো প্রাথমিক স্তরে কিন্তু বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এ পদ্ধতি ক্যান্সার রোগীদের সত্যি সত্যি নতুন আশার বাণী শোনাতে পারে।