প্রসঙ্গ পেয়াজ: 'বাংলাদেশে ব্যবসায়ীরা সকল অজুহাতেই দাম বাড়ায়'

ছবির উৎস, BBC Bangla
- Author, শাহনাজ পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে গত বছর এই সময়ে পেয়াজের যে দাম ছিলো এখন তা তিনগুণ বেড়েছে। দেশি পেয়াজ আর ভারতীয় পেয়াজ দুটোরই দামেরই মোটামুটি একই অবস্থা।
বাজারে গিয়ে দেখা গেলো দেশি পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায় আর ভারতীয় পেয়াজের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।
শুধু আগস্ট থেকেই এ পর্যন্ত বেশ বড় ধরনের দাম বৃদ্ধি হয়েছে।
দেশের সবচাইতে বড় পাইকারি বাজারের একটি ঢাকার কাওরান বাজারে অলিগলি ভর্তি হরেক রকম সামগ্রী।
একেক রকম পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা। স্কুল শিক্ষক ড্যানিয়েল সিকদার সেখানে এসেছেন মাসের বাজার করতে। তিনি বলছেন, "পিয়াজ ছাড়া তরকারি সম্ভবই না। পেয়াজ ছাড়া বাঙালির চলেই না। আমরা পান্তাভাতেও পেয়াজ খাই।"
বাংলাদেশে যে জিনিসগুলোর দাম বাড়লে ভোক্তারা বিশেষভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান তার মধ্যে পেয়াজ একটি।
পেয়াজ না থাকলে সেটি যেমন রান্নায় প্রভাব ফেলে তেমনি মানুষজনের পকেটেও তার প্রভাব পড়ে। আসমা মাহফুজ নামের এক গৃহিনী বলছেন, "দাম তো অবশ্যই আমাদের ক্রয় ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে। যেমন ধরুন আগে আমি ২০ কেজি কিনতাম কিন্তু এখন ৫ কেজি কিনলাম। কারণ সীমিত আয় আমাদের।"

ছবির উৎস, BBC Bangla
বাংলাদেশে পেয়াজ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত পাবনা জেলা। কাওরান বাজার ঘুরে দেখা গেলো দেশি পেয়াজের বেশিরভাগই ঐ এলাকা থেকে এসেছে।
পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার নলডাঙা গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলছেন, এ বছর দেশি পেয়াজের ফলন কম আর আবহাওয়ার কারণে পেয়াজ উঠতেও সময় নিচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
তিনি বলছেন, "একে তো এবার বেশ বন্যা ছিলো। তারপর ২০ থেকে ২৫ দিন আগে যে বৃষ্টিটা হলো তাতে পেয়াজের ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন অন্য বছরের চেয়ে বেশী খারাপ। যে পেয়াজ প্রতি বিঘায় ৪০ মন হবে তা এবছর আমার ধারনা ২০ থেকে ১৫ মন কমে যাবে।"
বাজারে নতুন দেশি পেয়াজ যেমন এখনো ওঠেনি তেমনি পুরনো পেয়াজের ঘাটতিও রয়েছে। আড়তদাররা বলছেন, পেয়াজ ফুরিয়ে গেছে।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টনের মতো পেয়াজ লাগে। পেয়াজের এই চাহিদার একটি বড় অংশ মেটায় ভারত থেকে আমদানি করা পিয়াজ।
কাওরান বাজারের আড়তদার জুয়েল রানা বলছেন, ভারতের নির্ধারিত রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।

ছবির উৎস, BBC Bangla
তিনি বলছেন, "ভারতে দাম বাড়ার সাথে সাথে সেখান থেকে পেয়াজ আসছেও কম। সেখানেও ফসল কম হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা বলছিলেন।
কিন্তু বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সকল অজুহাতেই দাম বাড়ায়- বলছিলেন ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন ক্যাব এর সভাপতি গোলাম রহমান।
তার কাছে জিজ্ঞেস করেছিলাম সেটা মোকাবেলায় ঠিক কি করতে হবে? তিনি বলছেন, "আমাদের ব্যবসায়ীরা অনেকটা লাগামছাড়া। আমরা মুক্তবাজার অর্থনীতির প্র্যাকটিস করছি তো, আমাদের ব্যবসায়ীরা পরিপূর্ণ মুক্ত। লাভের জন্য তারা সকল অজুহাত কাজে লাগায়।"
তিনি বলছেন, "যেহেতু পেয়াজের জন্য আমরা ভারতের উপরে নির্ভরশীল সেটি ঠেকাতে আমোদের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে। পেয়াজের মৌসুমে আমাদের চাষিরা দাম পায় না। ভারত থেকে পেয়াজ আমদানির উপর যদি ট্যাক্স বসানো হয় তাহলে ভোক্তারা সহনীয় পর্যায়ে যেমন পেয়াজ পাবে তেমনি কৃষকও পেয়াজ উৎপাদনে আগ্রহী হবে কারণ সে দাম পাবে।"
সেই সাথে পচনশীল পেয়াজ সংরক্ষণে স্টোরেজ ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা বলছেন তিনি।
তবে আজ শনিবার বাজার ঘুরে আশার কথা যা ছিলো সেটি হলো আগামী দু সপ্তাহ পর দেশী পেয়াজ বাজারে আসা শুরু হলে দাম হয়তো কিছুটা কমতে শুরু করবে- কৃষক ও বিক্রেতারা তেমন ধারণাই দিচ্ছেন।








