খিচুড়ির বিশ্বরেকর্ডকে চ্যালেঞ্জ আজমের শরিফ দরগার

মিষ্টি পোলাও রান্না চলছে

ছবির উৎস, Syed Salman Chishty

ছবির ক্যাপশান, মিষ্টি পোলাও রান্না চলছে
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি

ভারতের সেলেব্রিটি শেফ সঞ্জীব কাপুরের নেতৃত্বে গত শনিবার ৫০ জনের একটি দল একবারে ৯১৮ কেজির খিচুড়ি রেঁধে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলার যে দাবি পেশ করেছে - তার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে আজমের শরিফ দরগা।

আজমের শরিফের বর্তমান প্রধান সৈয়দ সালমান চিশতী জানাচ্ছেন, তাদের দরগাতে গত সাড়ে চারশো বছর ধরে রোজ দুটো ডেকচিতে মোট ২৪০০ কেজি 'নিরামিষ মিষ্টি পোলাও' রান্না হয়ে থাকে - যেটা খিচুড়িরই সমতুল্য।

চিশতী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনে করছেন, রোজ ২৪০০ কেজি খিচুড়ি রান্নার সঙ্গে একদিন ন'শো কেজি খিচুড়ি রান্নার কোনও তুলনাই হতে পারে না, কাজেই বিশ্বরেকর্ডের দাবিদার কেউ হলে সেটা আজমের শরিফই!

আরো পড়ুন:

তবে সেই সঙ্গেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে এখনই রেকর্ডের জন্য আবেদন করার কোনও পরিকল্পনা আজমের শরিফের নেই।

"আমরা হলাম সুফি মতাবলম্বী - প্রচারের আলোয় আমরা থাকতে চাই না কখনোই। তবে এটাও ঠিক, শত শত বছর ধরে এই দরগায় যে রোজ বিপুল পরিমাণ রান্নাবান্না হচ্ছে তারও একটা স্বীকৃতি দরকার," ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন সৈয়দ সালমান চিশতী।

আজমের শরিফের বর্তমান প্রধান সৈয়দ সালমান চিশতীর টুইট

ছবির উৎস, Twitter

ছবির ক্যাপশান, আজমের শরিফের বর্তমান প্রধান সৈয়দ সালমান চিশতীর টুইট

এর আগে গত সপ্তাহান্তে দিল্লিতে ভারত সরকারের উদ্যোগে যে 'ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়া ২০১৭' আয়োজিত হয়েছিল, সেখানেই ন'শো কেজিরও বেশি খিচুড়ি রেঁধে বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রয়াস নেওয়া হয়েছিল।

তারকা শেফ সঞ্জীব কাপুর ছাড়াও সেই খিচুড়ি রাঁধায় হাত লাগিয়েছিলেন ভারতের অন্তত দু'জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

ভারতের সুপরিচিত 'যোগ-গুরু' বাবা রামদেব নিজে সেই খিচুড়িতে 'তড়কা' যোগ করেন। পরে সেই বিপুল পরিমাণ খিচুড়ি বিলি করা হয় দিল্লির বিভিন্ন অনাথাশ্রম বা এতিমখানায়।

এই রন্ধন-যজ্ঞের মাধ্যমে খিচুড়িকে 'ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া সুপারফুড' হিসেবে প্রোমোট করার সিদ্ধান্তও ঘোষিত হয়।

ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী হরসিমরত কাউর বাদল থেকে শুরু করে বাবা রামদেব - সকলেই বলেন খিচুড়ির মতো পুষ্টিকর ও খাদ্যগুণে ভরপুর পদ আর নেই বললেই চলে।

আজমের শরিফের বর্তমান প্রধান সৈয়দ সালমান চিশতী জানাচ্ছেন, তাদের দরগাতে গত সাড়ে চারশো বছর ধরে রোজ দুটো ডেকচিতে মোট ২৪০০ কেজি 'নিরামিষ মিষ্টি পোলাও' রান্না হয়ে থাকে

ছবির উৎস, Syed Salman Chishty

ছবির ক্যাপশান, আজমের শরিফের বর্তমান প্রধান সৈয়দ সালমান চিশতী জানাচ্ছেন, তাদের দরগাতে গত সাড়ে চারশো বছর ধরে রোজ দুটো ডেকচিতে মোট ২৪০০ কেজি 'নিরামিষ মিষ্টি পোলাও' রান্না হয়ে থাকে

তবে একসঙ্গে এত পরিমাণ খিচুড়ি রান্নার এটাই বিশ্বরেকর্ড কি না, গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনও স্বীকৃতি এখনও দেয়নি।

কিন্তু এরই মধ্যে আজমের শরিফ দরগার প্রধান রবিবার টুইট করে জানান, "আমাদের দরগায় রোজ ছোট ডেকচিতে ৮০০ কেজি আর বড় ডেকচিতে ১৬০০ কেজি ভেজ সুইট রাইস (খিচুড়ি) রান্না করা হয়ে আসছে গত সাড়ে চারশো বছর ধরে।"

সেই সঙ্গেই সৈয়দ সালমান চিশতী দরগার ছোট ও বড় ডেকচিতে সেই পোলাও বা খিচুড়ি রান্নার বেশ কিছু ছবিও পোস্ট করেন।

আজমের শরিফ দরগা যদিও এর পরও বিশ্বরেকর্ডের জন্য গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের কাছে সরকারিভাবে কোনও দাবি পেশ করছে না, তাদের সেই টুইটের পর বাবা রামদেব-সঞ্জীব কাপুরের রান্না করা খিচুড়ির দাবি নিয়ে কিন্তু এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠে গেছে।